খুঁজুন
                               
, ,
           

সিলেটে জিয়ারত শেষে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
সিলেটে জিয়ারত শেষে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন

জিয়ারত শেষে মধ্যাহ্ন বিরতির পর সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে নগর ভবনের সামনে এ নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।

এর আগে সফরের অংশ হিসেবে তিনি জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মধ্যাহ্ন বিরতি নিয়ে বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

সংবর্ধনা শেষে সফরসূচি অনুযায়ী রাত ৮টায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’

বেশির ভাগ উদ্ভিদই বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করে তারা। তবে প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মের ব্যতিক্রমও রয়েছে। থাইল্যান্ডের একটি ছায়াঘেরা পাহাড়ি বনাঞ্চলে সন্ধান মিলেছে এমন এক অদ্ভুত উদ্ভিদের, যা সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম থিসমিয়া ডেমোনা (Thismia demona)। এর অদ্ভুত ও কিছুটা ভয়ংকর আকৃতির কারণে এটি ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’ বা ‘ডেভিলের ফুল’ নামে পরিচিত। গত বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে উদ্ভিদটির সন্ধান পান।

ডেভিল ফ্লাওয়ারের মাথায় রয়েছে তিনটি লম্বা শিংয়ের মতো অংশ। লালচে-কমলা রঙের ফুলের অংশগুলো দেখতে অনেকটা জ্বলন্ত চোখের মতো। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, উদ্ভিদটিতে কোনো ক্লোরোফিল নেই। ফলে সাধারণ উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

ছত্রাকের ওপরই নির্ভরশীল

সূর্যের আলো থেকে খাদ্য তৈরি করতে না পারলেও বেঁচে থাকার জন্য ডেভিল ফ্লাওয়ারের রয়েছে ভিন্ন কৌশল। উদ্ভিদটি মাটির নিচে থাকা ছত্রাকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাইকোহেটারোট্রফি নামের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদটি মাটির নিচের ছত্রাকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। সেই ছত্রাক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাটি থেকে কার্বন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে এটি বেঁচে থাকে।

এই কারণেই জীবনের বেশির ভাগ সময় উদ্ভিদটি পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকে। কেবল ফুল ও ফল উৎপাদনের সময় অল্প সময়ের জন্য মাটির ওপরে দেখা দেয়।

পাহাড়ি বনেই দেখা মিলেছে

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রথম ডেভিল ফ্লাওয়ারের সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৩০ থেকে ৯৭০ মিটার উচ্চতায় উদ্ভিদটি জন্মে।

সাধারণত আর্দ্র রেইনফরেস্টে এই গণের উদ্ভিদ দেখা গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে থিসমিয়া ডেমোনার উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিদ সাহুত চান্তানওররাপিন্টের মতে, উদ্ভিদটির আবিষ্কার ছিল বড় ধরনের বিস্ময়। ফুলসহ এর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর শিকড় লোমশ এবং অনেকটা প্রবালের মতো দেখতে।

ডেভিল ফ্লাওয়ারের ফুলের রং প্রায় কালো। এর ভেতরে রয়েছে আধা-স্বচ্ছ নীল পুংকেশর, যা উদ্ভিদটির অদ্ভুত সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রকৃতির আরেক বিস্ময়

থিসমিয়া গণের উদ্ভিদকে অনেক সময় ‘ফেইরি ল্যান্টার্ন’ বা ‘পরির লণ্ঠন’ নামেও ডাকা হয়। বিশ্বজুড়ে এই গণের প্রায় ১২০টি প্রজাতি রয়েছে।

সূর্যের আলো ছাড়াই ছত্রাকের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা এবং বছরের বেশির ভাগ সময় মাটির নিচে লুকিয়ে থাকার কারণে থিসমিয়া ডেমোনা উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে প্রকৃতির এক অসাধারণ বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

কালের আলো/এসএ

ঢাকার নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ঢাকার নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি

রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে। যে হারে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই তুলনায় বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভূগর্ভে পানির পুনর্ভরণ হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে কমছে পানির মজুদ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রবণতা এখন রাজধানীর ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য ও প্রতিবেদনে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৯ দশমিক ৬ মিটার নিচে। ২০০২ সালে তা হয় ৪৫ দশমিক ৬ মিটার। এরপর ২০০৭ সালে ৬০ মিটার এবং ২০২০ সালে প্রায় ৯৯ মিটারে পৌঁছে। ২০২১ সালে স্তর ছিল ১০২ দশমিক ৮০, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮০ এবং ২০২৩ সালে ১০৬ দশমিক ৮ মিটার নিচে। ২০২৪ সালেও তা ছিল প্রায় ১০৬ মিটার। চলতি বছরে কয়েকটি হিসাবে স্তর আরও নিচে নেমেছে।

বছরের পর বছর বাড়ছে গভীরতা
ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমার চিত্রটি দীর্ঘমেয়াদি। ২০০২ থেকে ২০০৭-মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে পানির স্তর প্রায় ১৫ মিটার নিচে নেমেছিল। পরবর্তী সময়ে নগরায়ণ ও পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের চাপও বেড়েছে।

ঢাকা ওয়াসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে প্রতিবছর দুই থেকে তিন মিটার করে পানির স্তর নিচে নামছে। ফলে আজকের সংকট শুধু শুষ্ক মৌসুমের সাময়িক পানি ঘাটতির বিষয় নয়; এটি নগরের পানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার প্রতিফলন।

অনেক এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
রাজধানীর সব এলাকায় পানির স্তর একই হারে কমছে না। ঢাকা ওয়াসার চলতি বছরের পরিসংখ্যানে মিরপুরের কিছু এলাকা, পূর্ব মনিপুর ও শাহজাদপুরের কয়েকটি অংশে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে এ প্রবণতা অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পানির স্তর যত নিচে নামবে, গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলনের ব্যয় ও কারিগরি জটিলতা তত বাড়বে। একই সঙ্গে কোনো কোনো এলাকায় নলকূপের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শুষ্ক মৌসুমে, যখন বৃষ্টির অনুপস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়।

চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে ভূগর্ভ
রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা এখনো অত্যন্ত বেশি। ঢাকা ওয়াসার মোট সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। সংস্থাটির আওতাধীন এলাকার আয়তন প্রায় ৪০১ বর্গকিলোমিটার এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক পানির সংযোগ রয়েছে প্রায় চার লাখ ছয় হাজার।

রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসা দৈনিক প্রায় ৩২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতার কথা জানায়। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতার এই হিসাবের পরও প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট দেখা দেয়।

বর্তমানে পাঁচটি পানি শোধনাগার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯০ কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়। অন্যদিকে ১ হাজার ৩২৮টি গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলন করা হয় প্রায় ২২০ কোটি লিটার। সরবরাহের ভারসাম্য এখনো মূলত গভীর নলকূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

রিচার্জের পথ সংকুচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির সংকটের পেছনে শুধু অতিরিক্ত উত্তোলন নয়, নগরায়ণের ধরনও বড় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা ক্রমেই কংক্রিটে ঢেকে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে প্রবেশের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। জলাভূমি, খাল, পুকুর ও উন্মুক্ত জমি কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফলে একদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ভূগর্ভ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেই ঘাটতি পূরণ করার মতো পানি নিচে পৌঁছাতে পারছে না। এই ভারসাম্যহীনতাই পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামার অন্যতম প্রধান কারণ।

বিকল্প উৎসে যাওয়ার পরিকল্পনা
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে পানি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট পানি উৎপাদনের ৮০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের তৃতীয় ধাপ, পদ্মা পানি শোধনাগারের দ্বিতীয় ধাপ এবং গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে ঢাকা ওয়াসা জানিয়েছে। এতে গভীর নলকূপের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সমস্যা হলো, ভূ-উপরিস্থ পানির বিকল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় জরুরি চাহিদা মেটাতে আবারও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ঢাকার পানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নতুন করে গভীর নলকূপভিত্তিক প্রকল্প নেওয়ার তথ্যও এসেছে।

একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে একই উৎসের ওপর নতুন চাপ-এই দ্বৈত বাস্তবতা সংকটকে আরও জটিল করছে।

ভূমির স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ার ফলে ভূমির স্থিতিশীলতায় কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে ঢাকার জন্য সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের সঙ্গে ভূমি অবনমনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ঢাকার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব তৈরি হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা জরুরি। ভূগর্ভস্থ পানি গবেষক ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ বলেন, রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। নির্ভরতা অব্যাহত থাকলে পানির স্তর আরও দ্রুত নিচে নেমে যাবে। শিল্প-কারখানায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সমাধান শুধু নতুন নলকূপে নয়
ঢাকার জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানির উৎসের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। শুধু আরও গভীর নলকূপ বসিয়ে চাহিদা মেটানো হলে তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু সংকটের মূল কারণ দূর হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-উপরিস্থ পানির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাধার ও জলাভূমি রক্ষা, উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণ এবং কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘ব্লু স্কাই’ স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কার্যক্রম দেখলেন জুবাইদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
‘ব্লু স্কাই’ স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কার্যক্রম দেখলেন জুবাইদা

বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিশেষায়িত স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুলটি পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে পৌঁছালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাকে বরণ করে নেয়।

পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপি কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

স্কুলটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তার জন্য ২৮ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও থেরাপিস্ট কাজ করছেন। পরিদর্শনের সময় স্কুলের অধ্যক্ষ জুবাইদা রহমানকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম, থেরাপি সুবিধা এবং মেডিকেল ইমার্জেন্সি ব্যবস্থাসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) উদ্যোগে ২০২১ সালে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এখান থেকে মূলধারার শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় অনেক শিশুকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

স্কুল পরিদর্শনের পর জুবাইদা রহমান বাফওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘বাফওয়া কর্নার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রীও ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুল ও বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন জুবাইদা রহমান।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বাফওয়ার দেওয়া সুযোগ-সুবিধা এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার-এর সভানেত্রী ও সহ-সভানেত্রীসহ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি