খুঁজুন
                               
, ,
           

আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ছাদ-পিলার থেকে খসে পড়ছে ইট, আতঙ্কে বিদ্যালয়ের শিশুরা

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ছাদ-পিলার থেকে খসে পড়ছে ইট, আতঙ্কে বিদ্যালয়ের শিশুরা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৮২ নম্বর আদমপুর বেগম আম্বর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। দীর্ঘ ৩৭ বছরেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-অভিভাবকরা। এর সঙ্গে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা এবং পাশের খালের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ও পিলারের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইটের আস্তরণ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও ভবনের অংশবিশেষ খসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানি টিনের চাল ও জানালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। এতে মেঝে ভিজে যায় এবং ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান। বৃষ্টির সময় শিশুদের নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয় শিক্ষকদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদ ও পিলার থেকে ইটের আস্তরণ খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকার সমস্যাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠেও রয়েছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবক শামীম মিয়া বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুরোনো ভবনের পাশাপাশি বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকে এবং মাঠেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। খালের পাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় ছুটির সময় অসাবধানতাবশত কোনো শিক্ষার্থী খালের দিকে চলে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ভূঞা সবুজ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশেই খাল থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বেগ থাকে। খালের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিশুদের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনের অবস্থা, মাঠের জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জরাজীর্ণ অংশ সংস্কার, মাঠের পানি নিষ্কাশন এবং খালের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আমির খানকে নিয়ে সুপারহিরো সিনেমা বানাচ্ছেন আর. বালকি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
আমির খানকে নিয়ে সুপারহিরো সিনেমা বানাচ্ছেন আর. বালকি

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে নিয়ে বড় বাজেটের একটি সুপারহিরো সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন পরিচালক আর. বালকি। এ নিয়ে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গেও আমিরের প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বলিউড হাঙ্গামা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমির খানের কাছে ছবিটির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এবং অভিনেতা এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পটি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চিত্রনাট্য, চরিত্রের কাঠামো এবং সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনসহ বেশ কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

আমির খান সাধারণত চিত্রনাট্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পরই কোনো সিনেমায় চূড়ান্তভাবে যুক্ত হন। তাই তাকে সঙ্গে রেখেই গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি বাস্তবে রূপ নিলে আমির খান, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা ও আর. বালকির এটি হবে প্রথম যৌথ কাজ। আমির ও সাজিদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমায় তারা একসঙ্গে কাজ করেননি।

আর. বালকি ‘চিনি কম’, ‘পা’, ‘কি অ্যান্ড কা’ ও ‘প্যাড ম্যান’-এর মতো ভিন্নধর্মী সিনেমা নির্মাণ করে বলিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। প্রচলিত গল্পের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের বিষয় উপস্থাপনের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার সুপারহিরো সিনেমাটিও ঘরানাটিতে ভিন্ন স্বাদের কিছু নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালে তামিল নির্মাতা লোকেশ কানাগরাজের সঙ্গে একটি প্যান-ইন্ডিয়া সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন আমির। কয়েক দফা বৈঠক ও গল্প নিয়ে আলোচনার পর চিত্রনাট্যসংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

এদিকে আর. বালকির সঙ্গে আমিরের সম্ভাব্য নতুন সিনেমার খবরের পাশাপাশি ‘রেস ৪’ নিয়েও অভিনেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে বলিউডে গুঞ্জন রয়েছে। তবে দুটি প্রকল্পই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনোটিই সিনেমা হিসেবে বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে আমির খানের হাতে রয়েছে আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘লালকারা’। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই স্পোর্টস ড্রামার শুটিং চলতি বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়ার কথা।

এরপর রাজকুমার হিরানির ‘থ্রি ইডিয়টস’–এর সম্ভাব্য সিক্যুয়েলেও দেখা যেতে পারে আমির খানকে।

কালের আলো/এসএ

৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘শুকরিয়া আদায়’ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আহত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ রায়ে তারা শুকরিয়া আদায় করছেন।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডের কারণে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে মামলার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

কয়েক বছর আগেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় দেশটি।

সেই সংকট কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বামপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে।

দেউলিয়াত্বের পথে যেভাবে গিয়েছিল দেশটি

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ, ২০১৯ সালের বড় ধরনের করছাড় এবং করোনা মহামারির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে মহামারির ধাক্কায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এর মধ্যে কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গেলে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানিতে দেখা দেয় তীব্র সংকট।

মূল্যস্ফীতি একপর্যায়ে ৭০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মানুষের দুর্ভোগ দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

গণআন্দোলনে বদলে যায় রাজনীতি

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক গণআন্দোলন, যা ‘আরাগলায়া’ নামে পরিচিত। বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। তবে কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)।

ক্ষমতায় এসে বাস্তববাদী অর্থনীতি

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান এনপিপির নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। পরে তার জোট পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করে।

বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শুরুতে তার সরকার নিয়ে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দিশানায়েকে আইএমএফের কর্মসূচি বাতিল না করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। পাশাপাশি নিজের সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন শুরু করেন।

কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে কিছু করছাড়ও দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে এখন বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

রাজস্ব আদায়েও রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি

অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হলেও শ্রীলঙ্কার সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের সমস্যাও পুরোপুরি দূর হয়নি।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব দেশটির অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

তবু কয়েক বছর আগের দেউলিয়া অবস্থা থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড এবং ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতি দেখাচ্ছে—শ্রীলঙ্কা ধীরে ধীরে সংকটের গভীর খাদ থেকে বেরিয়ে আসছে।

বামপন্থি রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও দিশানায়েকে যে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছেন, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহের বিষয়। শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সংস্কারও একটি সংকটাপন্ন দেশকে পুনরুদ্ধারের পথে নিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ