২৯ বছর ধরে অন্যের ভবনে মাধবপুর পৌরসভা
প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব স্থায়ী ভবন পায়নি হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত এই পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম বর্তমানে উপজেলা পরিষদ ভবন ও পুরোনো উপজেলা আদালত ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে কোনো রকমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য জমি কেনা, নকশা অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর সম্প্রতি সেই বাধা কেটেছে।
বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। তিনি জানান, ভবন নির্মাণ নিয়ে রিট-সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন ভবন নির্মাণে কোনো আইনি বাধা নেই। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পৌরসভা। বরাদ্দ পেলেই ভবন নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৯৯৭ সালের ২ আগস্ট প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার উদ্যোগে মাধবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালে এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। এরপর জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব সেবা নিতে পৌরসভায় আসেন।
কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার স্থান, ফাইলপত্র সংরক্ষণ এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে গত দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর কবীর ও সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘ক’ শ্রেণির একটি পৌরসভার নিজস্ব ভবন না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত পৌরসভার উপযুক্ত ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সংকট দূর করে নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array