খুঁজুন
                               
, ,
           

ইজারায় লাখ টাকা, তবু স্থায়ী ঘাট নেই কাঠপট্টিতে

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
ইজারায় লাখ টাকা, তবু স্থায়ী ঘাট নেই কাঠপট্টিতে

ঝালকাঠি পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাট। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ঘাট না থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা। নদীর পাড়ে কাদামাটি ও পিচ্ছিল ঢাল বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঠপট্টি আবাসন এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন এই খেয়াঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে ঝালকাঠি শহরে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে শহরে আসা মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভরসা এই ঘাট।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে নেই কোনো পাকা বা স্থায়ী অবকাঠামো। যাত্রীদের নদীর পাড়ে সরাসরি নেমে নৌকায় উঠতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে পাড় কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করেছেন। সেটি ব্যবহার করেই ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ওঠানামা করছেন মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটার কারণে নদীর পাড়ের মাটি সরে গিয়ে অনেক জায়গা আরও খাড়া ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অস্থায়ী কাঠের সিঁড়িটিও টেকসই নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাট থেকে ঝালকাঠি পৌরসভা প্রতিবছর ইজারা বাবদ এক লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায় করছে। চলতি বছরও বাহাদুর হাওলাদার এক লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন বলে জানান তারা। তবে ইজারার অর্থ আদায় হলেও যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য স্থায়ী ঘাট নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঝালকাঠি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিক হাওলাদার বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু স্থায়ী ঘাট না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। পৌরসভা ইজারা থেকে অর্থ নিচ্ছে, অথচ যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম সুবিধাটুকুও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।’

৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসরাফিল শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা এখানে স্থায়ী ঘাট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। দ্রুত নিরাপদ ও টেকসই ঘাট নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাটে দ্রুত পাকা সিঁড়ি, যাত্রী ওঠানামার প্ল্যাটফর্ম এবং নিরাপদ নৌযান সংযোগ ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খেয়াঘাট থেকে আদায় করা ইজারার অর্থের একটি অংশ যাত্রীসেবার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়নার বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেবে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

‘ভেতরের ঝড়কে আলোর চেয়ে উজ্জ্বল হতে দিও না’: পূর্ণিমা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
‘ভেতরের ঝড়কে আলোর চেয়ে উজ্জ্বল হতে দিও না’: পূর্ণিমা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। প্রায় ২৮ বছরের অভিনয়জীবনে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। সমসাময়িক সময়ের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতে অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন পূর্ণিমা।

বর্তমানে অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি প্রকাশ করে জীবন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন পূর্ণিমা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলো কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর থেকে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথায় জীবনের প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বার্তা উঠে এসেছে। তার পোস্টে ভক্ত-অনুরাগীরাও নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই অভিনেত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালের ১৫ মে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

এরপর ‘যোদ্ধা’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সুলতান’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘বাঁধা’ ও ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেন পূর্ণিমা।

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।

অভিনয়ে এখন অনিয়মিত হলেও বিনোদন অঙ্গন থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি পূর্ণিমা। তার অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ সিনেমায়।

কালের আলো/এসএ

একনেকে অনুমোদন পেল মেট্রোরেল-ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
একনেকে অনুমোদন পেল মেট্রোরেল-ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প

তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত ১২ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন সাতটি এবং সংশোধিত পাঁচটি।

মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় বরাদ্দ

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) প্রথম সংশোধনে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ ছাড়া হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের প্রথম সংশোধনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট নির্মাণেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ পাতালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রকল্পটিতে ঋণ সহায়তা দেবে।

রেলপথ বিদ্যুতায়নে উদ্যোগ

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৯৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো রেলপথ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ব্যয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির ব্যয় ৪ হাজার ৯৯০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।

সড়ক, প্রতিরক্ষা ও পানি-বিদ্যুৎ খাতেও প্রকল্প

রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়ক উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। দুটি প্রকল্পেই সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে।

খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ব্যয় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের অনুমোদিত আরও ১৫টি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

৫ হাজার টাকা হারানো শাহরুখকে ৫০০ কোটির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ফকির

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
৫ হাজার টাকা হারানো শাহরুখকে ৫০০ কোটির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ফকির

বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খান। আজ কোটি কোটি টাকার পারিশ্রমিক, বিলাসবহুল জীবন ও বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী হলেও ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো ছিল বেশ অনিশ্চয়তায় ভরা। সেই সময়ের একটি পুরোনো ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে।

ঘটনাটি শাহরুখের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের। অসুস্থ মা লতিফ ফাতিমা খানকে নিয়ে আজমির শরীফে গিয়েছিলেন তিনি। সেসময় শাহরুখের হাতে ছিল না আজকের মতো অর্থ-খ্যাতি। সেখানে একপর্যায়ে ৫ হাজার টাকা হারিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন তরুণ এই অভিনেতা।

এরপরই এক ফকিরের সঙ্গে তার দেখা হয়। কথিত আছে, ওই ফকির শাহরুখকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করবেন। এমনকি একদিন তার আয় ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি।

তখন অবশ্য সেই কথা খুব একটা বিশ্বাস করেননি শাহরুখ। কারণ অভিনয়জীবনের শুরুতে তার ভবিষ্যৎই ছিল অনিশ্চিত। তবে বহু বছর পর ওই ঘটনার কথা স্মরণ করে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী বা অলৌকিক ঘটনায় বিশ্বাস করেন না। কিন্তু সেই ফকিরের কথাটি শেষ পর্যন্ত মিলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছিলেন।

শাহরুখের জীবনযাত্রার দিকে তাকালে তার সেই দীর্ঘ পথচলার ছবিটিও স্পষ্ট হয়। দিল্লি থেকে মুম্বাই এসে টেলিভিশনের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন তিনি। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী তারকায় পরিণত হন।

আজকের শাহরুখ খান আর সেই সময়ের সংগ্রামী তরুণের মধ্যে পার্থক্য তাই বিশাল। আজমির শরীফে হারানো ৫ হাজার টাকা এবং সেই ফকিরের ৫০০ কোটি আয়ের ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প তার জীবনের ঘুরে দাঁড়ানোর এক আলোচিত স্মৃতি হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ