খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশের রেটিংয়ের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করল মুডিজ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের রেটিংয়ের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করল মুডিজ

বাংলাদেশ সরকারের ক্রেডিট রেটিংয়ের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিজ রেটিংস। তবে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুয়ার ও সিনিয়র আনসিকিউরড রেটিং ‘বি২’ এবং স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থাটি।

মুডিজ রেটিংস বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা। বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক ও কোম্পানির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, আর্থিক অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

মুডিজের পর্যবেক্ষণে, রাজনৈতিক ও বৈদেশিক চাপের কারণে বাংলাদেশের রেটিংয়ের পূর্বাভাস আগে ‘নেতিবাচক’ করা হলেও বর্তমানে সেই চাপ কিছুটা কমেছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, নমনীয় বিনিময় হার এবং রেকর্ড রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক অবস্থানকে আগের তুলনায় শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে দেশের চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও উন্নতির পূর্বাভাস দিয়েছে মুডিজ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছর থেকে তা প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় এবং তৈরি পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে মুডিজ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকা মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমতে পারে।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, বড় ও বহুমুখী অর্থনীতি, অনুকূল জনমিতিক কাঠামো এবং প্রতিযোগিতামূলক তৈরি পোশাক খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডিজ।

তবে সরকারের সংকীর্ণ রাজস্বভিত্তি, দুর্বল ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা এবং ব্যাংকিং খাতের বড় ধরনের দুর্বলতাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। মুডিজের হিসাবে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় মূলধন পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে পুনঃমূলধনীকরণে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এতে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।

মুডিজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ হলেও সরকারের রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। তবে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ ঋণের ব্যয় এবং পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত যোগাযোগকে বৈদেশিক অর্থায়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে মুডিজ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকার নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে।

তবে রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিময় হার নীতিতে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

মুডিজের মতে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রেটিং উন্নত হতে পারে। অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের বড় আর্থিক দায় সরকারের ওপর এসে পড়া, প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হওয়া, রাজস্ব ও বৈদেশিক খাতে অবনতি, আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার কর্মসূচি থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি অথবা নতুন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রেটিংয়ের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে।

মুডিজ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয় ও প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো বাংলাদেশের ‘বি২’ রেটিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এম/এএইচ

মাহদী আমিনের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
মাহদী আমিনের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চায় সরকার : পর্যটনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চায় সরকার : পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন, জঙ্গলসহ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যও বাংলাদেশের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

তিনি বলেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব গল্প ও পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এখন এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দেওয়াই লক্ষ্য। বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এটিকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাইরের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। আর সুন্দরবনকে নিয়ে পিপিপি মডেলে কিছু করা গেলে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

পর্যটন খাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বর্তমানে পর্যটন খাতের অবদান যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে তা আরও বাড়াতে কাজ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ট্যুরিজম ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এতে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি বুথে অংশ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী

যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার হলো সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কাজগুলোর একটি। এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ আদায় করে। তারা এ দেশের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানবপাচার রোধে বেশ কিছু আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বেশ কিছু আইন সংশোধন করেছি। আমরা মানব পাচারের সংজ্ঞাকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করেছি, যা মানব পাচারের বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের মানবপাচার আইনের অধীনে আমরা এই ধরণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করেছি এবং অনলাইন জুয়া, পাচার এবং এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকে আমাদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনেছি। এছাড়া আরও কিছু আইন প্রবর্তন করেছি যা মানব পাচারের দিকটিও কভার করতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানবপাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে। আর তখন থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সতর্ক। কিন্তু তাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয়াদি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

মানবপাচার আগের মতো ব্যাপক নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মানবপাচার এখন আর আগের মতো এতটা ব্যাপক নেই। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে বেকারত্বের সংকট রয়েছে। আমরা মানুষকে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকাতে পারি না।

ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে অনেকেই সেখানে অবৈধ অভিবাসী হয়ে যায় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের সহায়তাও চাইছি, কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া অভিবাসী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।

নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমরা আপনাদের যেকোনো ভালো সুপারিশকে স্বাগত জানাই।

আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।

কালের আলো/এম/এএইচ