খুঁজুন
                               
, ,
           

আমির খানকে নিয়ে সুপারহিরো সিনেমা বানাচ্ছেন আর. বালকি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
আমির খানকে নিয়ে সুপারহিরো সিনেমা বানাচ্ছেন আর. বালকি

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে নিয়ে বড় বাজেটের একটি সুপারহিরো সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন পরিচালক আর. বালকি। এ নিয়ে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গেও আমিরের প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বলিউড হাঙ্গামা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমির খানের কাছে ছবিটির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এবং অভিনেতা এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পটি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চিত্রনাট্য, চরিত্রের কাঠামো এবং সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনসহ বেশ কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

আমির খান সাধারণত চিত্রনাট্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পরই কোনো সিনেমায় চূড়ান্তভাবে যুক্ত হন। তাই তাকে সঙ্গে রেখেই গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি বাস্তবে রূপ নিলে আমির খান, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা ও আর. বালকির এটি হবে প্রথম যৌথ কাজ। আমির ও সাজিদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমায় তারা একসঙ্গে কাজ করেননি।

আর. বালকি ‘চিনি কম’, ‘পা’, ‘কি অ্যান্ড কা’ ও ‘প্যাড ম্যান’-এর মতো ভিন্নধর্মী সিনেমা নির্মাণ করে বলিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। প্রচলিত গল্পের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের বিষয় উপস্থাপনের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার সুপারহিরো সিনেমাটিও ঘরানাটিতে ভিন্ন স্বাদের কিছু নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালে তামিল নির্মাতা লোকেশ কানাগরাজের সঙ্গে একটি প্যান-ইন্ডিয়া সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন আমির। কয়েক দফা বৈঠক ও গল্প নিয়ে আলোচনার পর চিত্রনাট্যসংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

এদিকে আর. বালকির সঙ্গে আমিরের সম্ভাব্য নতুন সিনেমার খবরের পাশাপাশি ‘রেস ৪’ নিয়েও অভিনেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে বলিউডে গুঞ্জন রয়েছে। তবে দুটি প্রকল্পই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনোটিই সিনেমা হিসেবে বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে আমির খানের হাতে রয়েছে আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘লালকারা’। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই স্পোর্টস ড্রামার শুটিং চলতি বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়ার কথা।

এরপর রাজকুমার হিরানির ‘থ্রি ইডিয়টস’–এর সম্ভাব্য সিক্যুয়েলেও দেখা যেতে পারে আমির খানকে।

কালের আলো/এসএ

মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, অন্যদিকে তেমনি বাড়ছে মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমনকি চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির জন্য বড় ধরনের অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন কয়েকজন গবেষক।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের এআই নিরাপত্তা গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চাকরি ছাড়ার পর তিনি সতর্ক করে বলেন, অতি বুদ্ধিসম্পন্ন এআই মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তার অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

কীভাবে বিপদ তৈরি হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি শুধু মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা, আর্থিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অপব্যবহার—সবই বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে কোনো শক্তিশালী এআই সিস্টেম যদি পারমাণবিক, জৈবিক বা অন্যান্য ভয়ংকর অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এ ছাড়া ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা অন্যান্য অবকাঠামোয় এআই-নির্ভর হামলা চালানো হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বড় চ্যালেঞ্জ ‘অ্যালাইনমেন্ট’

গবেষকেরা এ সমস্যাকে ‘অ্যালাইনমেন্ট প্রবলেম’ বা সামঞ্জস্যের সমস্যা হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ মানুষের তৈরি এআইয়ের লক্ষ্য ও আচরণ যেন মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

এআই যত বেশি সক্ষম হয়ে উঠবে, তার সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তত জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কোনো সিস্টেম নিজের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

জৈবিক অস্ত্র নিয়েও উদ্বেগ

এআইয়ের অপব্যবহারের আরেকটি বড় আশঙ্কা জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক জীবাণু বা জৈবিক হামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা চাওয়া পাঁচটি ক্ষতিকর প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও সামনে এনেছে।

নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে অনিশ্চয়তা

কন্ট্রোলএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আন্দ্রে মিওত্তির মতে, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে কীভাবে নির্ভরযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সমাধান নেই।

তার আশঙ্কা, বিপুলসংখ্যক নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারে মানুষ। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর সামরিক ব্যবস্থায় এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের এসব আশঙ্কা এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এআই মানুষের মতো সব কাজ করতে সক্ষম নয় এবং সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইয়ের ভবিষ্যৎ আচরণ নিয়েও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। তারপরও প্রযুক্তির সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও মানবস্বার্থের সঙ্গে এআইয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি তাই এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।

সূত্র: ডেইলি মেইল

কালের আলো/এসএ

৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘শুকরিয়া আদায়’ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আহত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ রায়ে তারা শুকরিয়া আদায় করছেন।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডের কারণে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে মামলার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

কয়েক বছর আগেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় দেশটি।

সেই সংকট কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বামপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে।

দেউলিয়াত্বের পথে যেভাবে গিয়েছিল দেশটি

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ, ২০১৯ সালের বড় ধরনের করছাড় এবং করোনা মহামারির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে মহামারির ধাক্কায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এর মধ্যে কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গেলে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানিতে দেখা দেয় তীব্র সংকট।

মূল্যস্ফীতি একপর্যায়ে ৭০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মানুষের দুর্ভোগ দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

গণআন্দোলনে বদলে যায় রাজনীতি

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক গণআন্দোলন, যা ‘আরাগলায়া’ নামে পরিচিত। বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। তবে কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)।

ক্ষমতায় এসে বাস্তববাদী অর্থনীতি

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান এনপিপির নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। পরে তার জোট পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করে।

বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শুরুতে তার সরকার নিয়ে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দিশানায়েকে আইএমএফের কর্মসূচি বাতিল না করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। পাশাপাশি নিজের সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন শুরু করেন।

কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে কিছু করছাড়ও দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে এখন বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

রাজস্ব আদায়েও রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি

অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হলেও শ্রীলঙ্কার সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের সমস্যাও পুরোপুরি দূর হয়নি।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব দেশটির অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

তবু কয়েক বছর আগের দেউলিয়া অবস্থা থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড এবং ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতি দেখাচ্ছে—শ্রীলঙ্কা ধীরে ধীরে সংকটের গভীর খাদ থেকে বেরিয়ে আসছে।

বামপন্থি রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও দিশানায়েকে যে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছেন, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহের বিষয়। শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সংস্কারও একটি সংকটাপন্ন দেশকে পুনরুদ্ধারের পথে নিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ