খুঁজুন
                               
, ,
           

মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ কাঁচামালের সন্ধান সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ কাঁচামালের সন্ধান সৌদির

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে দেশটির মদিনা অঞ্চলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ প্রায় ১১ কোটি টন কাঁচামালের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।

গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, সৌদি আরবের জাতীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে পারমাণবিক শক্তিসহ একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর

সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানান দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে না সৌদি আরব। বরং পারমাণবিক জ্বালানি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ খাতে অংশীদারদের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে কাজ করা হচ্ছে।

গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব। ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় রয়েছে।

সৌদি মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কিছু গোপন করা হচ্ছে না। এটি পাহাড়ের গভীরে বা বাঙ্কারে লুকানো কোনো কর্মসূচি নয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও মানদণ্ড মেনেই পারমাণবিক শক্তিকে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।

খনিজ সম্পদেও নজর

পারমাণবিক জ্বালানির পাশাপাশি নিজেদের খনিজ সম্পদও আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইছে সৌদি আরব। এ জন্য খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিরল খনিজের মজুত খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।

সৌদি সরকারের লক্ষ্য, এসব প্রাকৃতিক সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা। ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য বড় মজুতের সন্ধান দেশটির পারমাণবিক জ্বালানি পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পিআইবির ডিজি পদে আরও এক বছর থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
পিআইবির ডিজি পদে আরও এক বছর থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফকে আরও এক বছরের জন্য পুনরায় নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ফারুক ওয়াসিফকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের মেয়াদে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হলো।

তবে এ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

এর আগে ফারুক ওয়াসিফ পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন নিয়োগের ফলে তিনি আরও এক বছর প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গৃহযুদ্ধের সুযোগে মিয়ানমারে ফিরছে ‘কালো সোনা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
গৃহযুদ্ধের সুযোগে মিয়ানমারে ফিরছে ‘কালো সোনা’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় আফিম উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অবৈধ আফিম উৎপাদন হতো এই অঞ্চলে। তবে সরকারি দমন অভিযানসহ নানা কারণে পরবর্তী সময়ে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আবারও বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মিয়ানমারে নতুন করে বাড়ছে পপি চাষ ও আফিম উৎপাদন। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) বলছে, বর্তমানে মিয়ানমার বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচিত অবৈধ আফিমের উৎস।

দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি পপি চাষ হচ্ছে। ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিয়ানমারে পপি চাষের জমির পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আফগানিস্তানে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

মিয়ানমারে আফিমের উৎপাদন বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের আরেক বড় আফিম উৎপাদক আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর পপি চাষ নিষিদ্ধ করে।

এর ফলে বৈশ্বিক আফিম সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের কৃষকেরা এখন পপি চাষ করে আগের তুলনায় বেশি দাম পাচ্ছেন। ইউএনওডিসির কর্মকর্তাদের মতে, এর সঙ্গে দেশটির ব্যাপক দারিদ্র্যের সম্পর্কও রয়েছে।

গৃহযুদ্ধে আরও জটিল মিয়ানমার

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে শুরু হওয়া সংঘাত আফিম চাষের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকের কাছে পপি চাষ তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। অন্য ফসলের তুলনায় আফিম থেকে বেশি আয় হওয়ায় দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের একটি অংশ আবারও এই চাষে ফিরছেন।

ভারতের সীমান্তেও বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের চিন রাজ্যেও পপি চাষ বাড়ছে। এই রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে ভারতের মণিপুর ও মিজোরামের সঙ্গে। ফলে মিয়ানমারে আফিম উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাব প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের সাবেক মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং একসময় পরিস্থিতিকে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের ভারতের দিকে সরে আসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

থাইল্যান্ডেও বাড়ছে মাদক পাচার

মিয়ানমারে আফিম উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন থাইল্যান্ডও। মাদক পাচারকারীরা দেশটির তুলনামূলক উন্নত সড়কব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছে বলে জানা গেছে।

সীমান্তবর্তী কয়েকটি থাই শহরে গত পাঁচ বছরে মাদক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আফিমের সরবরাহ বাড়াও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত আগস্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংককে বৈঠক করেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মাদক সমস্যা মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিকল্প ফসলের দিকে কৃষকদের ফেরানোর চেষ্টা

মিয়ানমারে পপি চাষ কমাতে বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাই বিশেষজ্ঞরা ইউএনওডিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছেন।

শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগির আশপাশের এলাকায় কৃষকদের কফিসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল চাষে সহায়তা করছে ইউএনওডিসি। তবে বড় পরিসরে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জান্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

মিয়ানমারের জান্তা সরকার আফিম ব্যবসা দমনে কতটা আন্তরিক, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আফিম ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ জান্তা সরকার ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভক্ত। কোনো কোনো গোষ্ঠী জান্তার মিত্র, আবার অনেকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ফলে পপি চাষ বন্ধে কার্যকর অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দারিদ্র্যই বড় চ্যালেঞ্জ

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা বা অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে আফিম চাষ বন্ধ করা কঠিন। কারণ দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের কাছে এটি তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

থাইল্যান্ডে পপি চাষ বন্ধ করতে কয়েক দশক সময় লেগেছিল। তবে সে সময় দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ছিল। মিয়ানমারের বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন—একদিকে গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে ব্যাপক দারিদ্র্য ও দুর্বল অর্থনীতি।

ফলে একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’-এর আফিম অর্থনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু মিয়ানমারেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক মাদকবাজারেও পড়তে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

কালের আলো/এসএ