মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ কাঁচামালের সন্ধান সৌদির
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে দেশটির মদিনা অঞ্চলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ প্রায় ১১ কোটি টন কাঁচামালের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।
গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, সৌদি আরবের জাতীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে পারমাণবিক শক্তিসহ একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর
সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানান দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে না সৌদি আরব। বরং পারমাণবিক জ্বালানি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ খাতে অংশীদারদের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে কাজ করা হচ্ছে।
গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব। ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় রয়েছে।
সৌদি মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কিছু গোপন করা হচ্ছে না। এটি পাহাড়ের গভীরে বা বাঙ্কারে লুকানো কোনো কর্মসূচি নয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও মানদণ্ড মেনেই পারমাণবিক শক্তিকে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।
খনিজ সম্পদেও নজর
পারমাণবিক জ্বালানির পাশাপাশি নিজেদের খনিজ সম্পদও আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইছে সৌদি আরব। এ জন্য খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিরল খনিজের মজুত খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
সৌদি সরকারের লক্ষ্য, এসব প্রাকৃতিক সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা। ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য বড় মজুতের সন্ধান দেশটির পারমাণবিক জ্বালানি পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array