খুঁজুন
                               
, ,
           

আগুনের সময় চার সিঁড়ি তালাবদ্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
আগুনের সময় চার সিঁড়ি তালাবদ্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের সময় নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই তালাবদ্ধ ছিল। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে গিয়ে এসব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। পরে অনেকে তালা ও গেট ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

চার সিঁড়িতে তালা

হাসপাতালের নতুন ভবনে সাতটি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিঁড়ি নিয়মিত ব্যবহার করা হতো। বাকি চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশপথে গ্রিল লাগিয়ে তালাবদ্ধ রাখা ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা বিকল্প সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়েন। কয়েকটি গেটের তালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টার চিহ্নও দেখা যায়।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সব সিঁড়ি খোলা থাকলে কাছাকাছি সিঁড়ি দিয়ে মানুষ বের হতে পারতেন। এতে একটি সিঁড়িতে অতিরিক্ত চাপ ও হুড়োহুড়ি কমানো সম্ভব হতো।

এক রোগীর স্বজন বলেন, আগুন দেখে সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কিন্তু কয়েকটি সিঁড়ির গেটে তালা থাকায় অনেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তালা ভেঙে বের হতে হয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডেও আতঙ্ক

নতুন ভবনের অষ্টম তলায় থাকা শিশু রোগী ও তাদের স্বজনেরাও আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন বলে স্বজনেরা জানান।

এক রোগীর স্বজনের ভাষ্য, আতঙ্কিত মানুষ বিভিন্ন দিক দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। সিঁড়িতে বেড, বেডশিটসহ বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকায় নামার সময় অনেকে সমস্যায় পড়েন। শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে ছয়জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলামও ছয়জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫) নামের পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও জানানো হয়।

তবে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিহতের তথ্য নাকচ করে দুজনের মৃত্যুর কথা জানায়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এবং অন্যজন আগে থেকেই অসুস্থ থাকায় মারা যান বলে জানানো হয়। পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যও কর্তৃপক্ষ নাকচ করেছে।

এ কারণে অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য তৈরি হয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল লিফট

অগ্নিকাণ্ডের সময় যে ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে, সেটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস জানান, লিফটটি সচল না থাকলেও এর বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু ছিল। কন্ট্রোল রুমের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকায় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লিফটের কেব্‌লের মাধ্যমে আগুন ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

অগ্নিকাণ্ডের কারণ, সম্ভাব্য গাফিলতি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। লিফটে আগুন লাগার কারণ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিঁড়িগুলো তালাবদ্ধ রাখার কারণও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে একাধিক সিঁড়ি তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টি রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত পুলিশ পরিদর্শককে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত পুলিশ পরিদর্শককে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত খুলনায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ শাহ আলমকে দেখতে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি তার শয্যা পাশে অবস্থান করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে  শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তারা আহত পুলিশ কর্মকর্তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরে আইজিপি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, বর্তমানে বিশেষ অভিযান চলছে। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য খুলনায় দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার উভয় হাতের রগ কেটে যায়। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি