খুঁজুন
                               
, ,
           

আগুনের সময় চার সিঁড়ি তালাবদ্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
আগুনের সময় চার সিঁড়ি তালাবদ্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের সময় নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই তালাবদ্ধ ছিল। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে গিয়ে এসব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। পরে অনেকে তালা ও গেট ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

চার সিঁড়িতে তালা

হাসপাতালের নতুন ভবনে সাতটি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিঁড়ি নিয়মিত ব্যবহার করা হতো। বাকি চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশপথে গ্রিল লাগিয়ে তালাবদ্ধ রাখা ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা বিকল্প সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়েন। কয়েকটি গেটের তালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টার চিহ্নও দেখা যায়।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সব সিঁড়ি খোলা থাকলে কাছাকাছি সিঁড়ি দিয়ে মানুষ বের হতে পারতেন। এতে একটি সিঁড়িতে অতিরিক্ত চাপ ও হুড়োহুড়ি কমানো সম্ভব হতো।

এক রোগীর স্বজন বলেন, আগুন দেখে সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কিন্তু কয়েকটি সিঁড়ির গেটে তালা থাকায় অনেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তালা ভেঙে বের হতে হয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডেও আতঙ্ক

নতুন ভবনের অষ্টম তলায় থাকা শিশু রোগী ও তাদের স্বজনেরাও আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন বলে স্বজনেরা জানান।

এক রোগীর স্বজনের ভাষ্য, আতঙ্কিত মানুষ বিভিন্ন দিক দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। সিঁড়িতে বেড, বেডশিটসহ বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকায় নামার সময় অনেকে সমস্যায় পড়েন। শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে ছয়জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলামও ছয়জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫) নামের পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও জানানো হয়।

তবে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিহতের তথ্য নাকচ করে দুজনের মৃত্যুর কথা জানায়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এবং অন্যজন আগে থেকেই অসুস্থ থাকায় মারা যান বলে জানানো হয়। পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যও কর্তৃপক্ষ নাকচ করেছে।

এ কারণে অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য তৈরি হয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল লিফট

অগ্নিকাণ্ডের সময় যে ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে, সেটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস জানান, লিফটটি সচল না থাকলেও এর বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু ছিল। কন্ট্রোল রুমের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকায় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লিফটের কেব্‌লের মাধ্যমে আগুন ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

অগ্নিকাণ্ডের কারণ, সম্ভাব্য গাফিলতি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। লিফটে আগুন লাগার কারণ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিঁড়িগুলো তালাবদ্ধ রাখার কারণও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে একাধিক সিঁড়ি তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টি রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফরে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার বার্তা মিলেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে পশ্চিম সীমান্তের লাদাখের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ।

অমীমাংসিত পূর্ব সীমান্ত
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের প্রধান সংকট হিসেবে পূর্ব লাদাখই আলোচনায় ছিল। কিন্তু সীমান্তের পূর্ব প্রান্তে বিরোধের চরিত্র আরও জটিল। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে আসছে। বিভিন্ন সময় অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের জন্য চীনা নামও ঘোষণা করেছে বেইজিং।

নয়াদিল্লি এসব দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান, অরুণাচল প্রদেশ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ যতই এগোক, অরুণাচল প্রশ্নটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে থাকছে।

উত্তর-পূর্বে একসঙ্গে বহু স্বার্থ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বত, আন্তঃসীমান্ত নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ-সবগুলো বিষয় এ অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে তিব্বত মালভূমিতে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অরুণাচল সীমান্তে সড়ক, সেতু ও সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত
শি-মোদি বৈঠকের আগে অবশ্য সম্পর্কের বরফ গলার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। অরুণাচল প্রদেশের তাকসিংকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ-দুই পথেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

দিল্লির সামনে কঠিন ভারসাম্য
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখা। মোদির বক্তব্যে সেই দ্বৈত নীতিই স্পষ্ট হয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা খোলা, কিন্তু তার চাবি সীমান্তে শান্তি। এই অবস্থায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সীমান্ত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অরুণাচলেই আসল পরীক্ষা
শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে সীমান্তে। আর সেই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অরুণাচল প্রদেশ। কারণ লাদাখে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তের ভূখণ্ডগত দাবি, আন্তঃসীমান্ত নদী, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রশ্নও সমাধানের পথে এগোতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নেতার পেছনে থেকে কেউ মাদক ব্যবসা করলে তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং জামিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মব জাস্টিসের বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে মব জাস্টিস করে জামিন ঠেকানো বা আদালতের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ যথেষ্ট নয়-প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা, উপযুক্ত থেরাপি, দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ। ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শনে এসে সেই সমন্বিত ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান। পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় অতিথিকে। পুরো পরিদর্শনজুড়ে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহায়ক থেরাপি এবং দক্ষতা তৈরির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

শিশুকে সীমাবদ্ধতায় নয়, সম্ভাবনায় দেখার উদ্যোগ
বাফওয়ার উদ্যোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ব্লু স্কাই’ এখন শুধু একটি বিশেষায়িত স্কুল নয়, এটি শিক্ষা ও থেরাপিকে একসঙ্গে নিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপির কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন এক নয়। কারও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, কারও প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, আবার কারও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কিংবা মানসিক বিকাশে বিশেষ সহায়তা দরকার। ‘ব্লু স্কাই’-এর ছয় ধরনের থেরাপি সেই ভিন্ন প্রয়োজনগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শ্রেণিকক্ষ পেরিয়ে মূলধারায় ফেরার প্রস্তুতি
স্কুলটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা। সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি শিক্ষাও। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা ও থেরাপির শেষ লক্ষ্য কেবল শিশুকে সক্ষম করে তোলা নয়। একই সঙ্গে সেই সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।

জুবাইদা রহমানের প্রশংসায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরিদর্শন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’-এর সুযোগ-সুবিধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। পরে তিনি বাফওয়া কর্নার পরিদর্শন করে বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও ঘুরে দেখেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বাফওয়ার উদ্যোগগুলোও তাঁর পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই দুটি উদ্যোগকে পাশাপাশি দেখলে একটি অভিন্ন সামাজিক দর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে-সহায়তার ওপর নির্ভরতা নয়, বরং সক্ষমতা তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। ‘ব্লু স্কাই’ যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাফওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের দক্ষতাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব

পরিদর্শনের শেষপর্বে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এই আয়োজন যেন ‘ব্লু স্কাই’-এর মূল দর্শনকেই সামনে আনে-বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সমাজের আনন্দ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সমান অংশীদার।

ডা. জুবাইদা রহমানের এই পরিদর্শন শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর প্রশংসার মধ্য দিয়ে বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব যেমন সামনে এসেছে, তেমনি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতার উদ্যোগও পেয়েছে দৃশ্যমান স্বীকৃতি। আর ‘ব্লু স্কাই’ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে-বিশেষ চাহিদা কোনো শিশুর সম্ভাবনার সীমা নয়; প্রয়োজন শুধু তাকে নিজের সক্ষমতা মেলে ধরার উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে