সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম ইসলাম সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ—সার্নের Summer Student Programme-এ। ৯০টির বেশি দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩২২ শিক্ষার্থীর একজন ছিলেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাহিমই ছিলেন একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থী।
মাহিমের জন্য এই অর্জনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তাঁর নিজের ভাষায়, তাঁর সিজিপিএ খুব ভালো ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সুপারিশপত্রও তিনি জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের সুপারিশপত্র নিয়ে আবেদন করেন। তবে আবেদনে তিনি গুরুত্ব দেন নিজের আগ্রহ থেকে করা কয়েকটি প্রজেক্টকে।
মাহিমের সার্নযাত্রার পেছনে ছিল ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে ‘বোসন’ সম্পর্কে জানার পর হিগস বোসন ও সার্নের প্রতি তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়। পরে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার ও কণাপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সার্নে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়ে।
সার্নে মাহিম কাজ করেন ALICE experiment-এর computing grid নিয়ে। তাঁর কাজ ছিল ALICE-এর সফটওয়্যারকে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নতুন ধরনের প্রসেসরে চালানোর উপযোগী করে তোলা। সার্নের গবেষণায় বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। সেই বড় অবকাঠামোর একটি অংশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।
তবে সার্নে মাহিমের অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সরাসরি ALICE detector দেখেছেন, সার্নের লাইব্রেরিতে রাখা নোবেল পদক দেখেছেন এবং C++ ভাষার নির্মাতা Bjarne Stroustrup-এর বক্তৃতাও শুনেছেন।
সার্নে গিয়ে মাহিমের অন্যতম বড় শিক্ষা ছিল প্রশ্ন করতে ভয় না পাওয়া। তাঁর মতে, কোনো বিষয় না বুঝলে গবেষকদের সামনে ‘আমি বুঝিনি’ বলতে পারাটাও একধরনের আত্মবিশ্বাস। সার্নের পরিবেশে সবাই সবকিছু জানে না; কেউ প্রশ্ন করলে অন্যরা উত্তর দেন এবং কাজ এগিয়ে যায়।
ফ্রান্সে অবস্থান করে সুইজারল্যান্ডের সার্ন ক্যাম্পাসে যাতায়াতের পাশাপাশি ছুটিতে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির বিভিন্ন জায়গাও ঘুরেছেন মাহিম। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।
দেশে ফিরে মাহিম জুনিয়রদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা শুধু ট্রান্সক্রিপ্ট বা সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করা, প্রজেক্ট তৈরি করা, নতুন কিছু শেখা এবং সুযোগ এলে আবেদন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মাহিমের গল্প তাই দেখায়, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নিজের তৈরি কাজ, কৌতূহল ও উদ্যোগও আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array