খুঁজুন
                               
, ,
           

এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে প্রচলিত মার্কেটিংয়ের ধরন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো এআই গ্রহণ করতে পারলে পরিবর্তিত বাজারে নিজেদের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে বলে মনে করেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ফিলিপ কটলার।

১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে এআইনির্ভর মার্কেটিং নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। ‘এআই ফর মার্কেটার্স সামিট’ নামের এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আইডিয়ান কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক।

৪ পি-এর সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন উপাদান

দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ছিল ৪ পি—প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেস ও প্রমোশন। তবে কটলারের মতে, বর্তমান সময়ে এই চারটি উপাদান যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সেবা, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং কার্যকর ইনসেনটিভ যুক্ত করে বিপণনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করতে হবে।

বদলে যাচ্ছে ভোক্তার মানসিকতা

ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআইয়ের প্রভাবে ভোক্তাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কটলারের আলোচনায় ভোক্তার মনোযোগ, সামাজিক সংযোগ ও পুরস্কারপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর মতে, আধুনিক মার্কেটারদের শুধু প্রচলিত বিপণন কৌশল জানলেই হবে না; ভোক্তার মনস্তত্ত্ব এবং নিউরোসায়েন্স সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

শুধু তাৎক্ষণিক বিক্রি নয়, ব্র্যান্ডও জরুরি

স্বল্পমেয়াদি বিক্রি বাড়ানোর জন্য পারফরম্যান্স মার্কেটিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়েও সতর্ক করেছেন কটলার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিক্রির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ শুধু গ্রাহকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কেনাকাটা করানোই শেষ কথা নয়। একটি ব্র্যান্ডের মূল্য ও পরিচয় ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

ক্রয়ের পর গ্রাহকের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ

কটলারের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘ইউসেজ এক্সপেরিয়েন্স’ বা পণ্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। সাধারণত একটি পণ্য কেনার আগ থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়।

এআই ব্যবহার করে এর পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। গ্রাহক পণ্যটি কেনার পর কীভাবে ব্যবহার করছেন, কোথায় সমস্যায় পড়ছেন এবং পরবর্তী সময়ে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন থাকছে—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

সবার জন্য একই মার্কেটিং নয়

প্রচলিত মার্কেটিংয়ে গ্রাহকদের বয়স, পেশা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয়। কিন্তু এআইয়ের মাধ্যমে একই সেগমেন্টের ভেতরেও ব্যক্তিভেদে পছন্দ ও আচরণের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ফলে ভবিষ্যতের মার্কেটিং আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ‘ওয়ান-অন-ওয়ান মার্কেটিং’-এর দিকে যেতে পারে। এতে প্রত্যেক গ্রাহকের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বিপণন বার্তা ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চ্যাটবট থেকে এজেন্টিক এআই

চ্যাটবট, অ্যালগরিদম ও এজেন্টিক এআই এখন ব্যবসার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। পাশাপাশি ChatGPT, Gemini ও Claude-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বার্ষিক পরিকল্পনার বদলে রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত

প্রথাগত মার্কেটিং পরিকল্পনা সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু এআইয়ের যুগে বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনাও নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে।

রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের আচরণ ও বাজারের পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারবে। ফলে মার্কেটিং পরিকল্পনা একটি স্থির বার্ষিক দলিলের পরিবর্তে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া একটি ‘জীবন্ত’ পরিকল্পনায় পরিণত হতে পারে।

এআইয়ের সঙ্গে ব্র্যান্ড ও উদ্ভাবন

কটলারের আলোচনার অন্যতম মূল বার্তা হলো—শুধু এআই ব্যবহার করলেই ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনকে যুক্ত করতে হবে।

বাজার ও ভোক্তার চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির পাশাপাশি পণ্য ও সেবাতেও নতুনত্ব আনতে হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের মার্কেটিংয়ে এআই, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং উদ্ভাবন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএ

এআইয়ের নতুন সক্ষমতায় চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
এআইয়ের নতুন সক্ষমতায় চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে চীন। বিশেষ করে মানুষের সরাসরি নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থা এবং সাইবার হামলায় এর সম্ভাব্য ব্যবহারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

এত দিন চীনের এআই নীতিতে ভুয়া ছবি ও ভিডিও, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার মতো তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে সাইবার হামলা পরিচালনার সম্ভাবনা সামনে আসায় দেশটির উদ্বেগ এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরির কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের নজরদারি ছাড়াই সাইবার হামলা চালাতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরি হলে তা চীনা সরকারের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুন চেংহাও মনে করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। ফলে ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

তবে এআই প্রযুক্তিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিযোগিতা নিরাপত্তা সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকটের সময় দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে অনুমতি ছাড়া কারও চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই-নির্মিত ছবি তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। দেশটির এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে জটিল পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা কোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেষ্টা হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই এআই নিরাপত্তাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভিনিসিয়ুসের রেকর্ড ভেঙে লা লিগায় ইয়ামালের নতুন ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ভিনিসিয়ুসের রেকর্ড ভেঙে লা লিগায় ইয়ামালের নতুন ইতিহাস

নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাতাতেও নাম লিখিয়েছেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।

শনিবার সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার ৩-১ গোলের জয়ে দুটি অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। এর মধ্য দিয়ে লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি—অন্তত ২০১৩-১৪ মৌসুমের পরের পরিসংখ্যানে।

ইয়ামাল এই কীর্তি গড়েছেন মাত্র ১৯ বছর ৬৮ দিন বয়সে। বার্সেলোনার হয়ে ১৫৯ ম্যাচে তাঁর অ্যাসিস্ট এখন ৫১টি।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দখলে। ২০২৩ সালের মে মাসে ২২ বছর ২৯৮ দিন বয়সে লা লিগায় ৫০ অ্যাসিস্ট পূর্ণ করেছিলেন ভিনিসিয়ুস।

অর্থাৎ ভিনিসিয়ুসের চেয়ে প্রায় তিন বছর ২৩০ দিন কম বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ইয়ামাল।

শুধু ইয়ামালই নন, সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রাফিনহাও। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর আগে রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষেও তিন গোল করেছিলেন তিনি।

ইয়ামাল-রাফিনহাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মৌসুমের শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।

কালের আলো/এসএ

সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম ইসলাম সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ—সার্নের Summer Student Programme-এ। ৯০টির বেশি দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩২২ শিক্ষার্থীর একজন ছিলেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাহিমই ছিলেন একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থী।

মাহিমের জন্য এই অর্জনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তাঁর নিজের ভাষায়, তাঁর সিজিপিএ খুব ভালো ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সুপারিশপত্রও তিনি জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের সুপারিশপত্র নিয়ে আবেদন করেন। তবে আবেদনে তিনি গুরুত্ব দেন নিজের আগ্রহ থেকে করা কয়েকটি প্রজেক্টকে।

মাহিমের সার্নযাত্রার পেছনে ছিল ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে ‘বোসন’ সম্পর্কে জানার পর হিগস বোসন ও সার্নের প্রতি তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়। পরে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার ও কণাপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সার্নে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়ে।

সার্নে মাহিম কাজ করেন ALICE experiment-এর computing grid নিয়ে। তাঁর কাজ ছিল ALICE-এর সফটওয়্যারকে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নতুন ধরনের প্রসেসরে চালানোর উপযোগী করে তোলা। সার্নের গবেষণায় বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। সেই বড় অবকাঠামোর একটি অংশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

তবে সার্নে মাহিমের অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সরাসরি ALICE detector দেখেছেন, সার্নের লাইব্রেরিতে রাখা নোবেল পদক দেখেছেন এবং C++ ভাষার নির্মাতা Bjarne Stroustrup-এর বক্তৃতাও শুনেছেন।

সার্নে গিয়ে মাহিমের অন্যতম বড় শিক্ষা ছিল প্রশ্ন করতে ভয় না পাওয়া। তাঁর মতে, কোনো বিষয় না বুঝলে গবেষকদের সামনে ‘আমি বুঝিনি’ বলতে পারাটাও একধরনের আত্মবিশ্বাস। সার্নের পরিবেশে সবাই সবকিছু জানে না; কেউ প্রশ্ন করলে অন্যরা উত্তর দেন এবং কাজ এগিয়ে যায়।

ফ্রান্সে অবস্থান করে সুইজারল্যান্ডের সার্ন ক্যাম্পাসে যাতায়াতের পাশাপাশি ছুটিতে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির বিভিন্ন জায়গাও ঘুরেছেন মাহিম। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।

দেশে ফিরে মাহিম জুনিয়রদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা শুধু ট্রান্সক্রিপ্ট বা সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করা, প্রজেক্ট তৈরি করা, নতুন কিছু শেখা এবং সুযোগ এলে আবেদন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাহিমের গল্প তাই দেখায়, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নিজের তৈরি কাজ, কৌতূহল ও উদ্যোগও আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।

কালের আলো/এসএ