খুঁজুন
                               
, ,
           

এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে প্রচলিত মার্কেটিংয়ের ধরন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো এআই গ্রহণ করতে পারলে পরিবর্তিত বাজারে নিজেদের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে বলে মনে করেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ফিলিপ কটলার।

১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে এআইনির্ভর মার্কেটিং নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। ‘এআই ফর মার্কেটার্স সামিট’ নামের এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আইডিয়ান কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক।

৪ পি-এর সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন উপাদান

দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ছিল ৪ পি—প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেস ও প্রমোশন। তবে কটলারের মতে, বর্তমান সময়ে এই চারটি উপাদান যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সেবা, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং কার্যকর ইনসেনটিভ যুক্ত করে বিপণনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করতে হবে।

বদলে যাচ্ছে ভোক্তার মানসিকতা

ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআইয়ের প্রভাবে ভোক্তাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কটলারের আলোচনায় ভোক্তার মনোযোগ, সামাজিক সংযোগ ও পুরস্কারপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর মতে, আধুনিক মার্কেটারদের শুধু প্রচলিত বিপণন কৌশল জানলেই হবে না; ভোক্তার মনস্তত্ত্ব এবং নিউরোসায়েন্স সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

শুধু তাৎক্ষণিক বিক্রি নয়, ব্র্যান্ডও জরুরি

স্বল্পমেয়াদি বিক্রি বাড়ানোর জন্য পারফরম্যান্স মার্কেটিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়েও সতর্ক করেছেন কটলার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিক্রির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ শুধু গ্রাহকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কেনাকাটা করানোই শেষ কথা নয়। একটি ব্র্যান্ডের মূল্য ও পরিচয় ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

ক্রয়ের পর গ্রাহকের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ

কটলারের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘ইউসেজ এক্সপেরিয়েন্স’ বা পণ্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। সাধারণত একটি পণ্য কেনার আগ থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়।

এআই ব্যবহার করে এর পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। গ্রাহক পণ্যটি কেনার পর কীভাবে ব্যবহার করছেন, কোথায় সমস্যায় পড়ছেন এবং পরবর্তী সময়ে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন থাকছে—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

সবার জন্য একই মার্কেটিং নয়

প্রচলিত মার্কেটিংয়ে গ্রাহকদের বয়স, পেশা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয়। কিন্তু এআইয়ের মাধ্যমে একই সেগমেন্টের ভেতরেও ব্যক্তিভেদে পছন্দ ও আচরণের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ফলে ভবিষ্যতের মার্কেটিং আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ‘ওয়ান-অন-ওয়ান মার্কেটিং’-এর দিকে যেতে পারে। এতে প্রত্যেক গ্রাহকের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বিপণন বার্তা ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চ্যাটবট থেকে এজেন্টিক এআই

চ্যাটবট, অ্যালগরিদম ও এজেন্টিক এআই এখন ব্যবসার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। পাশাপাশি ChatGPT, Gemini ও Claude-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বার্ষিক পরিকল্পনার বদলে রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত

প্রথাগত মার্কেটিং পরিকল্পনা সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু এআইয়ের যুগে বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনাও নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে।

রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের আচরণ ও বাজারের পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারবে। ফলে মার্কেটিং পরিকল্পনা একটি স্থির বার্ষিক দলিলের পরিবর্তে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া একটি ‘জীবন্ত’ পরিকল্পনায় পরিণত হতে পারে।

এআইয়ের সঙ্গে ব্র্যান্ড ও উদ্ভাবন

কটলারের আলোচনার অন্যতম মূল বার্তা হলো—শুধু এআই ব্যবহার করলেই ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনকে যুক্ত করতে হবে।

বাজার ও ভোক্তার চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির পাশাপাশি পণ্য ও সেবাতেও নতুনত্ব আনতে হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের মার্কেটিংয়ে এআই, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং উদ্ভাবন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএ

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে