খুঁজুন
                               
, ,
           

জন্মদিনে কেন্টের শুভেচ্ছা, বল হাতে খালেদের ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
জন্মদিনে কেন্টের শুভেচ্ছা, বল হাতে খালেদের ঝড়

জন্মদিনটা এর চেয়ে সুন্দর আর কীভাবেই বা কাটতে পারে! মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০ সেপ্টেম্বর জন্মদিনে বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদের ছবি পোস্ট করে কেন্ট লিখেছে, ‘শুভ জন্মদিন খালেদ আহমেদ।’

কেন্টে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বল হাতে দারুণ ছন্দে আছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র ৯৪ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন খালেদ। বোলিংয়ে করেন ৯টি মেডেনও।

কেন্টের হয়ে এটিই ছিল খালেদের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর আগে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।

ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে অলআউট হওয়ার পেছনে বড় অবদান ছিল খালেদের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে চারটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের জন্য খালেদকে দলে নেয় কেন্ট। ৭০ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর উইকেট ছিল ১৯০টি। কাউন্টিতে দুই ম্যাচেই ১১ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের মোট প্রথম শ্রেণির উইকেট এখন ২০১

জাতীয় দলের ব্যস্ততায় হাসান মাহমুদ দেশে ফেরার পর কেন্টে তাঁর জায়গায় সুযোগ পান খালেদ। সেই সুযোগ দারুণভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

জন্মদিনে ক্লাবের শুভেচ্ছা আর মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—খালেদের জন্য দিনটি হয়ে উঠল সত্যিই বিশেষ।

কালের আলো/এসএ

এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
এআই বদলে দিচ্ছে মার্কেটিং, গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি ও ব্র্যান্ড: ফিলিপ কটলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে প্রচলিত মার্কেটিংয়ের ধরন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো এআই গ্রহণ করতে পারলে পরিবর্তিত বাজারে নিজেদের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে বলে মনে করেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ফিলিপ কটলার।

১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে এআইনির্ভর মার্কেটিং নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। ‘এআই ফর মার্কেটার্স সামিট’ নামের এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আইডিয়ান কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক।

৪ পি-এর সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন উপাদান

দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ছিল ৪ পি—প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেস ও প্রমোশন। তবে কটলারের মতে, বর্তমান সময়ে এই চারটি উপাদান যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সেবা, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং কার্যকর ইনসেনটিভ যুক্ত করে বিপণনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করতে হবে।

বদলে যাচ্ছে ভোক্তার মানসিকতা

ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআইয়ের প্রভাবে ভোক্তাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কটলারের আলোচনায় ভোক্তার মনোযোগ, সামাজিক সংযোগ ও পুরস্কারপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর মতে, আধুনিক মার্কেটারদের শুধু প্রচলিত বিপণন কৌশল জানলেই হবে না; ভোক্তার মনস্তত্ত্ব এবং নিউরোসায়েন্স সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

শুধু তাৎক্ষণিক বিক্রি নয়, ব্র্যান্ডও জরুরি

স্বল্পমেয়াদি বিক্রি বাড়ানোর জন্য পারফরম্যান্স মার্কেটিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়েও সতর্ক করেছেন কটলার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিক্রির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ শুধু গ্রাহকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কেনাকাটা করানোই শেষ কথা নয়। একটি ব্র্যান্ডের মূল্য ও পরিচয় ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

ক্রয়ের পর গ্রাহকের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ

কটলারের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘ইউসেজ এক্সপেরিয়েন্স’ বা পণ্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। সাধারণত একটি পণ্য কেনার আগ থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়।

এআই ব্যবহার করে এর পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। গ্রাহক পণ্যটি কেনার পর কীভাবে ব্যবহার করছেন, কোথায় সমস্যায় পড়ছেন এবং পরবর্তী সময়ে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন থাকছে—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

সবার জন্য একই মার্কেটিং নয়

প্রচলিত মার্কেটিংয়ে গ্রাহকদের বয়স, পেশা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয়। কিন্তু এআইয়ের মাধ্যমে একই সেগমেন্টের ভেতরেও ব্যক্তিভেদে পছন্দ ও আচরণের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ফলে ভবিষ্যতের মার্কেটিং আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ‘ওয়ান-অন-ওয়ান মার্কেটিং’-এর দিকে যেতে পারে। এতে প্রত্যেক গ্রাহকের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বিপণন বার্তা ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চ্যাটবট থেকে এজেন্টিক এআই

চ্যাটবট, অ্যালগরিদম ও এজেন্টিক এআই এখন ব্যবসার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। পাশাপাশি ChatGPT, Gemini ও Claude-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বার্ষিক পরিকল্পনার বদলে রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত

প্রথাগত মার্কেটিং পরিকল্পনা সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু এআইয়ের যুগে বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনাও নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে।

রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের আচরণ ও বাজারের পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারবে। ফলে মার্কেটিং পরিকল্পনা একটি স্থির বার্ষিক দলিলের পরিবর্তে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া একটি ‘জীবন্ত’ পরিকল্পনায় পরিণত হতে পারে।

এআইয়ের সঙ্গে ব্র্যান্ড ও উদ্ভাবন

কটলারের আলোচনার অন্যতম মূল বার্তা হলো—শুধু এআই ব্যবহার করলেই ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনকে যুক্ত করতে হবে।

বাজার ও ভোক্তার চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির পাশাপাশি পণ্য ও সেবাতেও নতুনত্ব আনতে হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের মার্কেটিংয়ে এআই, শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং উদ্ভাবন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএ

সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম ইসলাম সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ—সার্নের Summer Student Programme-এ। ৯০টির বেশি দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩২২ শিক্ষার্থীর একজন ছিলেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাহিমই ছিলেন একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থী।

মাহিমের জন্য এই অর্জনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তাঁর নিজের ভাষায়, তাঁর সিজিপিএ খুব ভালো ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সুপারিশপত্রও তিনি জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের সুপারিশপত্র নিয়ে আবেদন করেন। তবে আবেদনে তিনি গুরুত্ব দেন নিজের আগ্রহ থেকে করা কয়েকটি প্রজেক্টকে।

মাহিমের সার্নযাত্রার পেছনে ছিল ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে ‘বোসন’ সম্পর্কে জানার পর হিগস বোসন ও সার্নের প্রতি তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়। পরে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার ও কণাপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সার্নে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়ে।

সার্নে মাহিম কাজ করেন ALICE experiment-এর computing grid নিয়ে। তাঁর কাজ ছিল ALICE-এর সফটওয়্যারকে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নতুন ধরনের প্রসেসরে চালানোর উপযোগী করে তোলা। সার্নের গবেষণায় বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। সেই বড় অবকাঠামোর একটি অংশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

তবে সার্নে মাহিমের অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সরাসরি ALICE detector দেখেছেন, সার্নের লাইব্রেরিতে রাখা নোবেল পদক দেখেছেন এবং C++ ভাষার নির্মাতা Bjarne Stroustrup-এর বক্তৃতাও শুনেছেন।

সার্নে গিয়ে মাহিমের অন্যতম বড় শিক্ষা ছিল প্রশ্ন করতে ভয় না পাওয়া। তাঁর মতে, কোনো বিষয় না বুঝলে গবেষকদের সামনে ‘আমি বুঝিনি’ বলতে পারাটাও একধরনের আত্মবিশ্বাস। সার্নের পরিবেশে সবাই সবকিছু জানে না; কেউ প্রশ্ন করলে অন্যরা উত্তর দেন এবং কাজ এগিয়ে যায়।

ফ্রান্সে অবস্থান করে সুইজারল্যান্ডের সার্ন ক্যাম্পাসে যাতায়াতের পাশাপাশি ছুটিতে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির বিভিন্ন জায়গাও ঘুরেছেন মাহিম। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।

দেশে ফিরে মাহিম জুনিয়রদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা শুধু ট্রান্সক্রিপ্ট বা সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করা, প্রজেক্ট তৈরি করা, নতুন কিছু শেখা এবং সুযোগ এলে আবেদন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাহিমের গল্প তাই দেখায়, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নিজের তৈরি কাজ, কৌতূহল ও উদ্যোগও আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।

কালের আলো/এসএ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

শীতলপাটি মানেই যেন গ্রামবাংলার চেনা ঐতিহ্য। একসময় গরমের দিনে ঘরে ঘরে ছিল এর ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে আধুনিক পণ্যের ভিড়ে শীতলপাটির কদর কমেছে, কমেছে এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের আয়ও। তবে পুরোনো এই ঐতিহ্যকেই নতুন রূপ দিয়ে কাজে লাগানোর ভাবনা থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী।

তাঁদের উদ্যোগের নাম ‘বুনন বাজার’। শীতলপাটিকে শুধু মাদুর হিসেবে না দেখে তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নিত্যব্যবহার্য পণ্য। এরই অংশ হিসেবে এবার শীতলপাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্যান্ডেল।

দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম।

ছোটবেলার পরিচয় থেকেই নতুন ভাবনা

টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতিগাছের সঙ্গে পরিচিত অপূর্ব কৃষ্ণ দের। এই গাছের কাঁচামাল দিয়ে শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কাজও তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।

সময়ের সঙ্গে শীতলপাটির ব্যবহার কমে যাওয়ায় কারিগরদের আয়েও প্রভাব পড়েছে। তখনই অপূর্বের মনে প্রশ্ন জাগে—শীতলপাটিকে যদি শুধু মাদুর হিসেবে ব্যবহার না করে আধুনিক ও নিত্যব্যবহার্য কোনো পণ্য তৈরিতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে কেমন হয়?

সেই ভাবনা থেকেই শুরু ‘বুনন বাজার’-এর যাত্রা।

ক্লাসের আইডিয়া থেকে বাস্তব উদ্যোগ

শুরুতে এটি ছিল নিছক একটি ব্যবসায়িক ধারণা। পরে বিভিন্ন পিচিং ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে ধারণাটিকে ধীরে ধীরে বাস্তব ব্যবসার রূপ দিতে থাকেন চার শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সও তাঁদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। কোর্সের ব্যবহারিক অংশে তাঁরা ‘বুনন বাজার’ নিয়ে কাজ করেন। সেখানে ক্রেতার চাহিদা, বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক মডেল, বিপণন, পরিচালনা, আর্থিক সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন।

চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, তাঁদের একাডেমিক যাত্রা শুধু একটি ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেনি; বরং সেই ধারণাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে একটি ব্যবসায় রূপ দেওয়া যায়, সেই পথও তৈরি করেছে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া পরামর্শ ও মতামত কাজে লাগিয়ে উদ্যোগটিকে আরও পরিণত করেন তাঁরা। দ্য আর্থ সোসাইটি ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পাওয়ার পর শুরু হয় পণ্য তৈরির কাজ।

শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল, সহজ ছিল না পথ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরি করার কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে বুনন, আকার, কাটিং, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং সোলের সঙ্গে পাটি যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক পরীক্ষা চালাতে হয়েছে।

শুধু সাধারণ শীতলপাটি কেটে স্যান্ডেল তৈরি করেননি তাঁরা। বরং স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী বিশেষ ধরনের পাটি তৈরি করে সেটি ব্যবহার করেছেন।

খুবাইব বিন করিম জানান, শীতলপাটির সঠিক পরিমাপ, শেপ, ডিজাইন ও সাইজিং ঠিক করতেই সবচেয়ে বেশি সময় ও দক্ষতা প্রয়োজন হয়েছে। পাটির নিজস্ব বুনন ও টেক্সচার অক্ষুণ্ন রেখে সেটিকে পায়ের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথম তৈরি স্যান্ডেলটিই চূড়ান্ত হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ক্রেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েক ধাপে পরিবর্তন এনে বর্তমান নকশায় পৌঁছেছেন তাঁরা।

বর্তমানে ৬৫০ টাকা দামে শীতলপাটির স্যান্ডেল বিক্রি করছে ‘বুনন বাজার’।

প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য

পণ্য তৈরির পাশাপাশি বাজার যাচাইয়ের কাজও করছেন উদ্যোক্তারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় ‘বুনন বাজার’ প্রথম রানারআপ হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার উদ্যোক্তাই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাঁদের উদ্যোগ, যেখানে প্রশংসা পেয়েছে ‘বুনন বাজার’।

এই যাত্রায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

স্যান্ডেলের পর আরও পণ্য

এখন তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পণ্যের মান বজায় রেখে উৎপাদন খরচ কমানো এবং আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো।

তবে পরিকল্পনা শুধু স্যান্ডেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তাঁরা। শীতলপাটি দিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাগ, ঘর সাজানোর উপকরণসহ আরও নানা ধরনের পণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও মানুষকে যুক্ত করে প্রশিক্ষিত কারিগরদের একটি দল এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান চার তরুণ উদ্যোক্তা।

খুবাইব বিন করিমের কথায়, তাঁদের স্বপ্ন শুধু ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা নয়; বরং নতুনভাবে সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা।

শীতলপাটির মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন নতুন পণ্যের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি জ্ঞানকেও নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

কালের আলো/এসএ