খুঁজুন
                               
, ,
           

ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

ম্যাকলমোরকে নিজের চলমান ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তুমুল বিতর্কের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় শনিবারের কনসার্টে মঞ্চে উঠে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শিরান জানান, কখনোই নিজেকে ‘অ্যাকটিভিস্ট মিউজিশিয়ান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। তবে বর্তমান মানবিক সংকট তাঁকে নীরব থাকার সুযোগ দিচ্ছে না।

ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে দর্শকদের উদ্দেশে শিরান বলেন, তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে রাজনৈতিক ভাষ্যকারের ভূমিকা নিতে চাননি। তাঁর কাছে গান ও কনসার্ট হওয়া উচিত ঐক্যের জায়গা। কিন্তু গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে তিনি মানবিক সংকট হিসেবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন রাখতে পারছেন না।

বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শুরুতে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে একটি মঞ্চ পরিবেশনায় ম্যাকলমোর সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানান। এর পরই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে শিরান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নয়। সফরের আয়োজক মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ভেন্যু ম্যাকলমোরকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামও ছিল।

গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের কর্ণধার রবার্ট ক্র্যাফটও ম্যাকলমোরের পারফরম্যান্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ম্যাকলমোরের বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যে হামাসের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।

ম্যাকলমোরের পক্ষে শিল্পীদের সরে দাঁড়ানো

ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েকজন শিল্পীও ‘লুপ ট্যুর’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইরিশ গায়ক-গীতিকার অ্যারন রো এবং ড্যানিশ সংগীতশিল্পী লুকাস গ্রাহাম ও তাঁর ব্যান্ডের সদস্যরা।

তাঁদের বক্তব্য, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা শিল্পীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে শনিবারের কনসার্টে শিরান স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ নিয়ে ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে শিরানের বক্তব্য

ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শিরান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর, অযৌক্তিক ও অসমানুপাতিক’ বলে মন্তব্য করেন।

শিরানের ভাষায়, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলা ভয়াবহ ছিল এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাকে আরও গভীর করেছে।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান সীমিত বলেও স্বীকার করেছেন শিরান। তিনি জানান, কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপকারে আসা যায়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি শুনছেন ও শিখছেন।

‘আমি জানতাম না সফর চলবে কি না’

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব যে তাঁর ওপরও পড়েছে, সেটি কনসার্টে স্বীকার করেন শিরান।

দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না ‘লুপ ট্যুর’ আদৌ চলবে কি না। এমনকি শিল্পী হিসেবে আবার মঞ্চে ফিরতে চান কি না, তা নিয়েও সংশয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি মঞ্চে ফিরেছেন।

শিরান আরও বলেন, তাঁর কনসার্ট এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে সবাই স্বাগত এবং ভিন্নমতের মানুষও পাশাপাশি দাঁড়াতে পারেন।

কনসার্টের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ

শিরানের বক্তব্যের মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে বিক্ষোভও হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। তাঁদের একজন বিবিসিকে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাঁরা সেখানে এসেছেন।

তাঁদের মতে, ম্যাকলমোরের মতো শিল্পীদের নিজস্ব মঞ্চ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত।

অন্যদিকে কনসার্টে আসা কয়েকজন দর্শক জানান, তাঁরা সংগীত উপভোগের পাশাপাশি শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দেন।

বিতর্কের মধ্যেই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি আয়োজন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় চলবে। তবে বিতর্কের প্রভাব টিকিট বিক্রিতেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের কিছু টিকিটের দাম ৩২ ডলার পর্যন্ত নেমে আসে। কিছু দর্শক টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। যদিও টিকিটমাস্টার ও মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

জাপানের পক্ষে নৈশভোজে অংশ নেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া ও সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

আধুনিক বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের কার্যকারিতা বজায় রাখা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সফরে তিনি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিমান শক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

  • জার্মানিতে উড়োজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিদর্শন
  • চেক প্রজাতন্ত্রে ভবিষ্যৎ বিমানশক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ
  • বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর জার্মানি সফরকালে বিমান বাহিনী প্রধান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির টুসেনহাউজেন-ম্যাটসিসে অবস্থিত উড়োজাহাজ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে গ্রোবের তৈরি প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব বিমানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সফর বিদ্যমান উড়োজাহাজের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেও সহায়ক হতে পারে।

জার্মানি সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে। বিশেষ করে তাদের IRIS-T SLM ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের উপযোগী। একটি দেশের সমন্বিত ও স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান বাহিনী প্রধান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ স্থাপনের দিক থেকে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

জার্মানি সফর শেষে গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেন। চেক বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে তিনি প্রাগে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আধুনিক আকাশযুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মাল্টিরোল লাইট এয়ারক্রাফট, আধুনিক প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি), কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ বিমান শক্তি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রশিক্ষণ, আধুনিক রণকৌশল এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য। প্রাগের সম্মেলন এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিমান বাহিনী প্রধানের এই সফরের দুটি অংশ পরস্পরের পরিপূরক। জার্মানিতে তিনি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিমান বাহিনী প্রধানের জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর কেবল আনুষ্ঠানিক সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এটি আধুনিক বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে