খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বপ্ন দেখুন, লক্ষ্য ঠিক করুন-আজ বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
স্বপ্ন দেখুন, লক্ষ্য ঠিক করুন-আজ বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস

স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং বাস্তবতার পথেও হাঁটতে শেখায়। প্রত্যেক মানুষই কমবেশি স্বপ্ন দেখেন। কখনো সেই স্বপ্ন ব্যক্তিগত জীবনের, কখনো পরিবারের, আবার কখনো সমাজ ও পৃথিবীর কল্যাণের। স্বপ্ন দেখার মধ্য দিয়েই মানুষ ভবিষ্যৎকে নতুন করে কল্পনা করেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় সামনে এগিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস’। স্বপ্নের প্রতি মানুষের মনোযোগ বাড়ানো এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবসের সূচনা হয় ২০১২ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওজিওমা এগুয়াওয়ানওয়ের উদ্যোগে দিবসটি চালু করা হয়। মূলত মানুষকে নিজের স্বপ্নের কথা ভাবতে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ দিবসের আয়োজন।

মানুষের জীবনে স্বপ্নের গুরুত্ব অনেক গভীর। কেউ ভালো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কেউ নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার, কেউ ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুন্দর জীবন গড়ার। আবার কেউ সমাজের পরিবর্তন কিংবা মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নের ধরন আলাদা হলেও এগুলোই অনেক সময় মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।

পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও পরিবর্তনের পেছনেও ছিল মানুষের স্বপ্ন। বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিক—অনেকেই তাদের কল্পনা ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে মানুষের চিন্তা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে অসম্ভব বলে মনে হওয়া অনেক বিষয়ই বাস্তব হয়েছে।

স্বপ্নের শক্তির অন্যতম আলোচিত উদাহরণ মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তার বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ বক্তৃতায় তিনি বর্ণবৈষম্যহীন একটি সমাজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন এবং নিজের জীবনও উৎসর্গ করেছেন।

স্বপ্ন নিয়ে ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালামের একটি বহুল উদ্ধৃত উক্তি রয়েছে—‘স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’

তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই তা বাস্তবে পরিণত হয় না। স্বপ্নকে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে তার জন্য পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রয়োজন। পথে বাধা আসবে, ব্যর্থতাও আসতে পারে। কিন্তু ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা করাই স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

অনেক সময় চারপাশের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য বা ব্যর্থতার ভয় মানুষকে নিজের স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ বড় কোনো অর্জনের শুরু হয় ছোট একটি স্বপ্ন থেকে। নিজের সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সেই স্বপ্নকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা করাই হতে পারে সফলতার পথ।

বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবসে তাই নিজের স্বপ্নগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ এসেছে। কয়েক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান, কী অর্জন করতে চান এবং সেখানে পৌঁছাতে এখন কী করা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যেতে পারে আজই।

স্বপ্ন যত বড়ই হোক, তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। তাই শুধু স্বপ্ন দেখাই নয়, সেই স্বপ্ন পূরণের পথটিও খুঁজে বের করার দিন আজ।

আজ স্বপ্ন দেখার দিন—নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার, লক্ষ্য ঠিক করার এবং তা পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার দিন।

কালের আলো/এসএ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিসিইউ চালুর আশ্বাস যশোরে

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিসিইউ চালুর আশ্বাস যশোরে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যশোরবাসীর জন্য পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি মূলত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিংহভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাসপাতালের সেবা আরও উন্নত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিসিইউ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দেশের সামগ্রিক গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে এলএনজি খালাসে বৃহস্পতিবার কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিকেলের মধ্যেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসার কথা।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল ও কমলে দেশে দ্রুত সময়ে জ্বালানির দাম সমন্বয় করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে ধাপে ধাপে একটি সমঝোতার পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সুযোগ দেবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের আলোচকেরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানি, আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাব্য পথ হতে পারে ধাপে ধাপে একটি ব্যবস্থা নেওয়া। এর প্রথম ধাপে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। এর পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

তবে আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হলো—দুই পক্ষই আগে নিজেদের হাতে থাকা চাপ প্রয়োগের উপায় ছেড়ে দিতে চাইছে না। ওয়াশিংটনের হাতে রয়েছে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ, আর তেহরানের হাতে রয়েছে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রভাব। ফলে দৃশ্যমান বিনিময় ছাড়া কোনো পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দুর্বল করতে আগ্রহী নয়।

এর আগে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে যায়। ফলে এবার শুধু একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি করাই নয়, দুই পক্ষের দেওয়া ছাড়গুলো দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন আলোচক ডেনিস রস নির্বাচনের আগে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত বলে মনে করছেন। তার মতে, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।

হরমুজ ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের ট্রানজিট ফি আদায়ের দাবি মূল চুক্তির বাইরে আলাদা সংযুক্তিতে রাখার বিষয়ে তেহরান নমনীয় হতে পারে। কারণ এই মুহূর্তে অবরোধ প্রত্যাহার করানোই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রানজিট ফি দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর অর্থ অবশ্য হরমুজের ওপর নিজেদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে ইরান সরে যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তেহরান প্রণালিটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। ফলে অর্থ বা ট্রানজিট ফি নিয়ে আপসের সুযোগ থাকলেও হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

এদিকে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরান আলোচনার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতিও রাখছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক শক্তির হুমকি ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করছে। তার মতে, কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা কম হলেও তেহরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না।

হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপসাগরীয় নেতারা হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষেও জোর দিচ্ছেন।

আবুধাবিভিত্তিক এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ইবতেসাম আল-কেতবি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার মতে, ইরান হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনো পরিষ্কার নয়।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান মার্কিন সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলকে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এদিকে হরমুজ নিয়ে আলোচনার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। প্রণালিটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশের পর তেলের বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল, যদিও ওই দিনের বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতও প্রভাব ফেলেছে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের আলোচনায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—হরমুজ দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারকে কীভাবে একই সমঝোতার কাঠামোয় আনা যায়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়ে গেছে এবং আলোচনার ফলাফল নির্ভর করছে উভয় পক্ষ কতটা বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী ছাড় দিতে প্রস্তুত তার ওপর।

কালের আলো/এসএ

গোল বেগুনের চেয়ে কেজিতে ৬০ টাকা কম লম্বা বেগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
গোল বেগুনের চেয়ে কেজিতে ৬০ টাকা কম লম্বা বেগুন

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। একই ধরনের সবজির মধ্যেও সরবরাহ ও বিক্রয়স্থলভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে গোল বেগুনের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে লম্বা বেগুন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। অন্যদিকে লম্বা বেগুনের দাম ১০০ টাকা কেজি।

বাজারে প্রতি কেজি পটল ৭০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, কচুর লতি ও ঝিঙা ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ফুলকপি প্রতিটি ৭০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা দরে মিলছে।

এ ছাড়া করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, জালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশি দামের চাপে ক্রেতারা

ক্রেতারা বলছেন, কয়েকটি সবজির দাম বেশি থাকায় বাজারের মোট খরচ কমছে না। বিশেষ করে শিম, গোল বেগুন ও গাজরের মতো সবজির দাম বেশি হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। তাই অনেকেই তুলনামূলক কম দামের সবজি কিনে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

মিরপুর কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা সাজেদুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম একেকটির একেক রকম। লম্বা বেগুনের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সেটিই কিনছেন। তবে শিম, গোল বেগুন ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির দাম বেশি হওয়ায় সব মিলিয়ে বাজার খরচ কমছে না।

সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে দাম

বিক্রেতারা জানান, সবজির দাম মূলত সরবরাহ ও আড়তদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছুটা ওঠানামা করে। কোনো সবজির সরবরাহ কম থাকলে তার দাম বেড়ে যায়। আবার সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমে আসে।

একই বাজারে একই সবজির ক্ষেত্রেও বিক্রয়স্থলভেদে দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বাজারের ভেতরের দোকানের তুলনায় রাস্তার পাশের ভ্যানের বিক্রেতাদের কাছে কিছু সবজি বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি