খুঁজুন
                               
, ,
           

১১ প্রকল্পে একসঙ্গে পিডি বদল, নেপথ্যে কারা?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
১১ প্রকল্পে একসঙ্গে  পিডি বদল, নেপথ্যে কারা?

একসঙ্গে ১১ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) বদলের উদ্যোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (ডিএই)। নতুন পিডি নিয়োগের জন্য পাঠানো তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একই সময়ে কেন নেতৃত্ব বদলের প্রয়োজন হলো, আর সুপারিশের ভিত্তিই বা কী? পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত পুরো প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তালিকাটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এর মধ্যেই সামনে এসেছে পিডি পদকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার, বদলিবাণিজ্য এবং পছন্দের কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বসানোর নানা অভিযোগ।

  • ডিএইর তালিকা ঘিরে অসন্তোষ
  • বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম নিয়ে প্রশ্ন
  • আপাতত সবুজ সংকেত নেই মন্ত্রণালয়ের

এক ঝটকায় ১১ প্রকল্পে রদবদল
ডিএইর পাঠানো তালিকায় পার্টনার, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ, কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস, রংপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন এবং ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্টসহ ১১টি প্রকল্প রয়েছে।

একসঙ্গে এতগুলো প্রকল্পের নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এসব প্রকল্পের আর্থিক পরিসর যেমন বড়, তেমনি মাঠপর্যায়ে কৃষি উন্নয়নেও রয়েছে প্রত্যক্ষ প্রভাব।

তালিকায় বিতর্কিত নাম
ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান পিডি আব্দুল কায়ূম মজুমদারকে সরিয়ে বান্দরবনে কর্মরত অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আব্দুল গফফারকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে আর্থিক অনিয়মের কারণে তিনি শাস্তি পেয়েছিলেন।

সম্প্রতি একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আবেদনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেওয়া এবং বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের ডিএই উইংয়ের পিডি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবুল বাসার মিয়াকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, একই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করা মনিটরিং অফিসার ও উপপ্রকল্প পরিচালকের চেয়েও তিনি জুনিয়র। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ।

পিডি পদ ঘিরে চাপের অভিযোগ
কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা প্রকল্পের পিডি হিসেবে সুপারিশের শীর্ষে রয়েছেন মাশরুম প্রকল্পের দীর্ঘদিনের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান। সম্প্রতি রংপুরে বদলি হওয়া মো. আকলিমুজ্জামানকে আবার রংপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার প্রকল্পে আনা হয়েছে দীর্ঘদিন অন্য প্রকল্পে কর্মরত ডিপিডি এমএম আব্দুর রাজ্জাকের নাম। এসব সুপারিশ ঘিরে কর্মকর্তাদের প্রশ্ন—পিডি বাছাইয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতার পাশাপাশি আর কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না।

‘অ্যাবের চাপ’, উত্তপ্ত বৈঠক
কৃষি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কিছু নেতা পিডি পদায়নকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অ্যাবের নাম ব্যবহার করে আগেও মন্ত্রণালয়ে একাধিক তালিকা দেওয়া হয়েছিল। এবার ডিএইর দাপ্তরিক তালিকা পাঠানোর পরও ক্ষোভ থামেনি।

নেতাদের সুপারিশের বড় অংশ তালিকায় না থাকায় ডিএই মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে অ্যাবের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবসহ পিডি পদপ্রত্যাশী কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে মহাপরিচালকের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয় বলে বৈঠকে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহাপরিচালক আব্দুর রহিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সামনে যোগ্যতার পরীক্ষা
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা সব কর্মকর্তাকে একইভাবে দেখছে না মন্ত্রণালয়। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অতীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—প্রকল্প পরিচালনার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতেই এবার সিদ্ধান্ত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ৯ পদে নিয়োগ, আবেদন ২২ অক্টোবর পর্যন্ত

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ৯ পদে নিয়োগ, আবেদন ২২ অক্টোবর পর্যন্ত

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৯ থেকে ১৫ গ্রেডের পাঁচটি পদে মোট ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

কোন পদে কত নিয়োগ

১. অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল)
পদসংখ্যা: ৩টি
গ্রেড: ৯
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা।

২. স্টোর অফিসার
পদসংখ্যা: ১টি
গ্রেড: ১০
বেতন স্কেল: ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা।

৩. এস্টিমেটর/সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার
পদসংখ্যা: ৩টি
গ্রেড: ১০
বেতন স্কেল: ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা।

৪. অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ১টি
গ্রেড: ১৪
বেতন স্কেল: ১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা।

৫. ড্রাফটসম্যান
পদসংখ্যা: ১টি
গ্রেড: ১৫
বেতন স্কেল: ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা।

সব মিলিয়ে পাঁচটি পদে মোট ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বয়সসীমা

প্রার্থীর বয়স ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অন্যান্য যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

পদভেদে আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ থেকে ৩ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ২২৩ টাকা। ৪ ও ৫ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১১২ টাকা।

অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদনের সময়সূচি

অনলাইনে আবেদন ও আবেদন ফি জমাদান শুরু হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদন শুরু: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯টা
আবেদনের শেষ সময়: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা
মোট পদ: ৫টি
মোট নিয়োগ: ৯ জন
গ্রেড: ৯ থেকে ১৫

কালের আলো/এসএ

সময় মাপার নতুন ইতিহাস, লুটেসিয়ামের ঘড়ির নির্ভুলতা ১৯ ঘর পর্যন্ত

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
সময় মাপার নতুন ইতিহাস, লুটেসিয়ামের ঘড়ির নির্ভুলতা ১৯ ঘর পর্যন্ত

সময়কে আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন সিঙ্গাপুরের গবেষকেরা। দেশটির ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (NUS) ও Centre for Quantum Technologies (CQT)-এর গবেষকেরা লুটেসিয়াম আয়ন ব্যবহার করে এমন একটি অপটিক্যাল পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন, যেটিকে তাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভুল ঘড়ি হিসেবে দাবি করছেন। গবেষণার ফলাফল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ Nature সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ঘড়িটির নির্ভুলতা দশমিকের পর ১৯তম ঘর পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। এতটাই স্থিতিশীল এই ঘড়ি যে এক সেকেন্ড পিছিয়ে যেতে এর ২৬০ বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় লাগবে। গবেষকেরা দুটি লুটেসিয়াম ঘড়ির সময়ের সংকেত পরস্পরের সঙ্গে তুলনা করে এই নির্ভুলতা যাচাই করেছেন।

গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন NUS-এর পদার্থবিদ ও CQT-এর প্রধান গবেষক মারে ব্যারেট। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে তাঁদের তৈরি ঘড়িই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভুল ঘড়ি। এই সাফল্যের পেছনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুটেসিয়াম নিয়ে গবেষণা ও সূক্ষ্ম প্রকৌশলগত কাজ করেছে দলটি।

কীভাবে কাজ করে এই ঘড়ি?

পারমাণবিক ঘড়িতে পরমাণুর শক্তিস্তরের পরিবর্তনকে সময়ের অত্যন্ত নির্ভুল মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নতুন এই ঘড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি একক চার্জযুক্ত লুটেসিয়াম-১৭৬ আয়ন। নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লেজার দিয়ে আয়নটির ইলেকট্রনের শক্তিস্তর পরিবর্তনের সঙ্গে লেজারের কম্পাঙ্ককে মিলিয়ে নেওয়া হয়। সেই লেজারের অত্যন্ত স্থির দোলনই ঘড়ির ‘টিক’ হিসেবে কাজ করে।

লুটেসিয়ামকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ এর বিশেষ পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য। তাপমাত্রা ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত প্রভাবের প্রতি এটি অন্যান্য অনেক ব্যবহৃত পরমাণুর তুলনায় কম সংবেদনশীল। ফলে বিভিন্ন পরিবেশেও এর ঘড়ির কম্পাঙ্ককে অত্যন্ত স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

গবেষকদের দাবি, এই বৈশিষ্ট্যের কারণে লুটেসিয়ামভিত্তিক ঘড়ি ভবিষ্যতে গবেষণাগারের বাইরেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। মারে ব্যারেটের দল জানিয়েছে, পৃথিবীর অত্যন্ত উষ্ণ পরিবেশ থেকে অ্যান্টার্কটিকার অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশ—বিস্তৃত তাপমাত্রার পরিসরেও ঘড়িটি নির্ভুলতা ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু সময় মাপাই নয়

অতি-নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ির ব্যবহার শুধু সময় গণনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা এগুলো ব্যবহার করে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারেন। কারণ উচ্চতার সামান্য পার্থক্যও অত্যন্ত নির্ভুল ঘড়ির চলার গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পৃথিবীর ভূত্বকের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, উন্নত নেভিগেশন এবং মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অজানা কণা, ডার্ক ম্যাটার কিংবা বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বের বাইরে থাকা নতুন কোনো প্রভাব খুঁজে দেখার ক্ষেত্রেও অতি-নির্ভুল ঘড়ি কাজে লাগতে পারে।

গবেষকদের সামনে এখন আরেকটি লক্ষ্য—ল্যাবরেটরিতে থাকা বড় আকারের এই ঘড়িকে আরও ছোট করে বহনযোগ্য করা। গবেষক মাইকেল লি জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে তাঁরা ঘড়িটিকে এমনভাবে ক্ষুদ্র করতে চান, যাতে এর নির্ভুলতা বজায় রেখেই এটিকে গবেষণাগারের বাইরে নেওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, লুটেসিয়ামভিত্তিক এই প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন হলে ভবিষ্যতে ‘এক সেকেন্ড’ কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে, সেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে।

সূত্র: Centre for Quantum Technologies, Nature

 

নির্যাতনের কথা বললে পরিবারকে গুমের হুমকি দেওয়া হয়: গাজী সালাউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
নির্যাতনের কথা বললে পরিবারকে গুমের হুমকি দেওয়া হয়: গাজী সালাউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় মামলার পর কারাগারে পাঠানো হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। কারাগারে তাকে অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে আমাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে- নির্যাতনের কথা বাইরে বললে আমার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। এরপরও আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরতে এসেছি, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না, সত্য সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে ও সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই হুবহু রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও আমি এসব জাতির সামনে তুলে ধরতে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

এরপর অসুস্থতার কারণে কথা বলতে না পারায় তানভীরের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।

লিখিত বক্তব্যে তানভীর বলেন, ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অথচ ৫ আগস্ট বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিনে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচএস মাফুতুন আহমেদ খান এই মামলার বাদী। ৫ আগস্ট আমাকে বগুড়ায় কারাগারের এমন একটি সেলে নেওয়া হয়, যেটি চরম অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসহীন। বিদ্যুৎও নেই, একটা ফ্যানও নেই। কারাগারে পচা-বাসি খাবারদাবার দেওয়া হতো, খাওয়ার অযোগ্য। একপর্যায়ে আমার ডায়রিয়া হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় আমাকে। সেখানে যে ওষুধ লিখেছেন ডাক্তার- সেটা আমাকে দেওয়া হয়নি, অজানা ওষুধ আমাকে খেতে হয়েছে।

শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, এসব কীসের ইনজেকশন তা আমি জানি না। অন্তত ৭০/৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত। একদিন হাত-পা কাঁপছিল, ডাক্তার এসে ইনজেকশন দিলেন এবং আমার ডান হাত আর ডান পা অবশ হয়ে গেল, বাধ্য হয়ে শহীদ জিয়া মেডিকেলে নিয়ে গেল। ডাক্তার সেখানে বলেছেন, আমার স্ট্রোক হয়েছে কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বললো না স্ট্রোক করেনি, কিছুই হয়নি।

‘পরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় আনা হলো। কেরানীগঞ্জে যেখানে রাখা হলো ওটাও খুবই খারাপ সেল। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলো, এদিক সেদিক ঘুরায় শুধু। এখানে ডাক্তার দেখিয়ে জেলে নেওয়ার সময় গাড়িতে হঠাৎ সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক উঠে আসে, তারা আমাকে টর্চার করে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমার ওপর এতটাই নির্যাতন করা হয়েছে যে, বর্তমানে আমার প্রস্রাব-পায়খানা ব্যাগে ও প্যাডে করতে হচ্ছে। একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি আছি, আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে, জানি না চিকিৎসার কী হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি। আপনাদের কাছে দোয়া চাই এবং দোয়া করি, আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে আর কারও সঙ্গে যেন করা না হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ