খুঁজুন
                               
, ,
           

সত্যের পক্ষে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার আহ্বান জুবায়েরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৪ অপরাহ্ণ
সত্যের পক্ষে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার আহ্বান জুবায়েরের

গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে যখন কোনো অন্যায়, অবিচার, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো আইন বা বিধান দেখা যাবে, তখন সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে। সাহসের সঙ্গে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। সরকার যাতে সঠিক পথে থাকে, সে জন্য সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা এই দেশ পেয়েছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় একটি সুন্দর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধান তৈরি ও সংস্কার করতে হবে। আমরা আইনের শাসনের পক্ষে, মানবিক শাসনের পক্ষে। আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দুঃসাহসিক ভূমিকা প্রয়োজন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারকে সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরও রয়েছে। সরকারের হাতে যে ক্ষমতা থাকে, তা যেন যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ না হয়, সে জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রয়োজন। সাংবাদিক সমাজ, বিচার বিভাগ এবং রাজনৈতিক সমাজ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকার ও বিরোধী দল একটি রাষ্ট্রের দুটি চোখ, দুটি হাতের মতো। পরস্পরের সহযোগিতা, সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ না থাকলে একটি জাতি আবারও সংকট ও সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় পারস্পরিক দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা জরুরি।

রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সাম্প্রতিক ইতিহাসে রুহুল আমিন গাজী নিঃসন্দেহে একজন কৃতিত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্ব পালন করার সময় রুহুল আমিন গাজীর প্রধান অগ্রাধিকার ছিল সাংবাদিক ও সহকর্মীদের কষ্ট-বেদনা লাঘব করা এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করা। অনেকেই যখন কথা বলতে পারেননি, তখন তিনি দৃঢ় ও বলিষ্ঠভাবে কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার ও সত্যের পক্ষে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, সত্য কথা বলা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে হাতে গোনা যে কয়েকজন সাংবাদিক দুঃসাহসিক ভূমিকা রেখেছেন, রুহুল আমিন গাজী তাদের অন্যতম। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, দৈনিক সংগ্রামের আবুল আসাদসহ অনেক সাংবাদিক বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার ক্ষেত্রে তারা আপস করেননি।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের এ ধরনের ভূমিকা জাতিকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রুহুল আমিন গাজীও কারাবরণ করেছেন, গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একই সময়ে রুহুল আমিন গাজীর কিছু সহকর্মী সাংবাদিক ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। একটি অংশের সাংবাদিক ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থাকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি সঠিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতেন, তাহলে বাংলাদেশ এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতো না। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে। এর পেছনে ফ্যাসিবাদকে সহযোগিতা করা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা ছিল, যার মধ্যে সাংবাদিকদের একটি অংশও রয়েছে।

রুহুল আমিন গাজীর অসুস্থতা ও কারাবরণের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও রুহুল আমিন গাজী দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। এরপরও তিনি সংগ্রামের পথ থেকে সরে যাননি। রুহুল আমিন গাজীকে একজন অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তার জীবন থেকে সাংবাদিকদের শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সত্যের পক্ষে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই সিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছির প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি গ্রিয়েবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, সার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ খাতের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জ্ঞান বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য আলজেরীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং সেগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি গ্রিয়েব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাকে তার সরকার যথাযথ গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাঁদের খোঁজখবর নেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদ্‌যাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মাধুর্য।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের কাছে বিগত সরকারের সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা জানতে চান। এ বছর তাঁরা আগের তুলনায় বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ইতিবাচক সাড়া দেন।

পরিদর্শনকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নগরকান্দা উপজেলা ও রামনগর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

ভোলা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

সংসারে ছিল অভাব-অনটন, স্বামীর আয়ও ছিল সীমিত। দুই সন্তান নিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সালমা বেগম। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে সঞ্চয়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের খামার। পাশাপাশি করছেন কৃষিকাজও। একসময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা সালমা এখন স্বাবলম্বী। তাঁর সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে আশপাশের নারীদের।

৩৩ বছর বয়সী সালমা বেগমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। এসএসসি পাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের টানাপোড়েনের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একসময় চাকরি শুরু করেন সালমা।

মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে পুষ্টি মাঠকর্মী হিসেবে কাজ নেন তিনি। পাশাপাশি বাড়িতে ছোট শিশুদের পড়াতেন। সংসারের খরচ মেটানোর পর নিজের উপার্জনের সামান্য অংশ সঞ্চয় করতেন। সেই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই পরবর্তী সময়ে তাঁর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি করে।

সালমার জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০১২ সালে। জমানো টাকা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে ১০টি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন তিনি। এ উদ্যোগ থেকে আয় হতে শুরু করলে লাভের টাকা আবার খামারে বিনিয়োগ করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খামারের পরিসর। হাঁস-মুরগির পাশাপাশি শুরু করেন গরু ও ছাগল পালন। একই সঙ্গে শাকসবজি চাষ ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনেও যুক্ত হন।

বর্তমানে সালমার খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি হাঁস, ২৫টি মুরগি, সাতটি গরু ও ১১টি ছাগল। হাঁস-মুরগি পালন থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বিক্রি করেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার ছাগল ও সাত লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছেন। গত বছর প্রায় ২৫০টি হাঁস বিক্রি করে আয় করেন ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

খামার পরিচালনার প্রায় সব কাজেই সরাসরি যুক্ত থাকেন সালমা। পশু-পাখির যত্ন নেওয়া, খাবারের ব্যবস্থা, খামার পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত ও বিক্রি—সবকিছু সামলান নিজেই। তাঁর কাছে খামার এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।

নিজের ও স্বামীর আয় থেকে নিয়মিত সঞ্চয় করে ইতোমধ্যে ১৬০ শতক জমি কিনেছেন সালমা, যা স্থানীয় হিসাবে প্রায় এক কানি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছেন নতুন বসতঘর। একসময় যে সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এখন এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্থিতিশীলতা।

নিজের সাফল্যে থেমে থাকতে চান না সালমা। আশপাশের নারীদেরও আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, নারীরা ঘরের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।

সালমা বেগম বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও কাজ শুরু করা যায়। শুরুটা ছোট হলেও পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে একদিন সেটাই বড় হয়ে ওঠে।’

ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা বাড়িয়ে উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি। তবে নিজের স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছে দুই সন্তান। তাদের লেখাপড়া করিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সালমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সালমা বেগমের এই পথচলা দেখিয়ে দেয়, স্বাবলম্বী হতে সব সময় বড় পুঁজির প্রয়োজন হয় না। সামান্য সঞ্চয়, ছোট উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগাতে পারলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে বদলে দেওয়া সম্ভব জীবনের গতিপথ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি