খুঁজুন
                               
, ,
           

তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, ততদূর যাওয়ার প্রত্যয়: প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, ততদূর যাওয়ার প্রত্যয়: প্রধানমন্ত্রীর

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে উত্তরাঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর রংপুর ও রাজশাহী সফরের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, কৃষকের অর্থনৈতিক সুরক্ষা, আঞ্চলিক উন্নয়ন, পানির ন্যায্য হিস্যা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরে পৌঁছে সড়কপথে রংপুরে যান তিনি। সেখানে ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মন্দিরের উন্নয়নে অনুদান দেওয়ার পর রাজশাহীতে গিয়ে কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণ ও জনসভায় বক্তব্য দেন সরকারপ্রধান।

দিনব্যাপী এই সফরে একদিকে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, অন্যদিকে কৃষি, সেচ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ঐক্য এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, নির্ধারিত সময়সীমা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানোর বিষয়গুলোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • রংপুরে মন্দির পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি ও ১০ লাখ টাকা অনুদান
  • রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রণোদনা ঘোষণা কার্যকর
  • তিস্তা-পদ্মায় ব্যারাজ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি

সৈয়দপুর থেকে রংপুর: সড়কের দুই পাশে মানুষের ভিড়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি
এদিন সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানবাহিনীর একটি সামরিক বিমানে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাসে করে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন সরকারপ্রধান।

পথে সৈয়দপুর, তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাস থামান প্রধানমন্ত্রী। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী উপহার দেন।

এতে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের দেখে বাস থামান। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং খেলার সামগ্রী উপহার দেন। অধ্যক্ষ আরও জানান, এ সময় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি ছাত্রাবাস ও একটি হলরুম নির্মাণের অনুরোধ জানানো হয়। দাবিগুলো লিখিতভাবেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে।

পাগলাপীরে সম্প্রীতির বার্তা: ‘এই দেশটা আমাদের’
রংপুরের পথে পাগলাপীর এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার সময় সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন। একইভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেদিন বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, সেদিন থেকে খেটে খাওয়া মানুষের থাকার চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করে তাদের কৃষি কার্ড, ফ্যামেলি কার্ড চালু করেছি। মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি।’

দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চলছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব। দেশ স্বাধীনের সময় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যেভাবে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে, তেমন করেই সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে গড়তে চাই। তাই প্রতিজ্ঞা হোক, আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা বাংলাদেশে আছি, এ দেশটা আমাদের। তাই সবাই মিলে পরিশ্রম করে এই দেশকে গড়ে তুলব প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে। এই হোক আমাদের আজকের প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব উঠে আসে। বিশেষ করে দুর্গোৎসবের মতো একটি ধর্মীয় উৎসবে রাজধানীর বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এই সফর রংপুর নগরীকে আলোকিত করবে এবং সম্প্রীতির বার্তা আরও বিস্তৃত করবে।

রাধা গোবিন্দ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, ১০ লাখ টাকা অনুদান
ঢাকার বাইরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্দির কমিটির সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের অনুরোধে সেলফি তোলেন। পরে মন্দির কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করতে চায়। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবার জন্য। তাই রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে তা বিবেচনা করে সমবণ্টনের ভিত্তিতে দেশের সব এলাকার উন্নয়ন সমানভাবে কাজ করতে চাই। এ কারণে সম্প্রতি রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য একনেকের সভায় ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট, ব্রিজ ও সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোর গ্রামগুলোতে স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট, ব্রিজ ও সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেগুলো দরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে গড়ে তোলা হবে। যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করতে পারে। এই কাজগুলো করতে হলে ভেদাভেদ ভুলে আমাদের একসঙ্গে চলতে হবে। আমরা সবাই সবার হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
মন্দিরে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের সময় আমরা কিন্তু কোনো ধর্ম দেখিনি। বিভিন্ন ধর্ম ও মতের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিল, মানুষ রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। যেসব মানুষ নেমে এসেছিল তাতে সব ধর্মের মানুষই ছিল। সকল মতপথ ও পেশার মানুষ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে দেশ থেকে বিদায় করতে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ প্রতিটি পেশার মানুষ রাজপথে সেদিন নেমেছিল তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এই দেশটি সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে শান্তিতে। আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’ রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ঐক্যের ডাক দিয়েছি, তখন একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আজকে পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলতে চাই, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই ফলাফলটা খুব শুভ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই ফলাফল ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, কোন কোন মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। আপনাদের কিছু বলার থাকলে, কিছু তুলে ধরার থাকলে সংসদে তুলে ধরুন। সেখানে ভালোটা গ্রহণ করা হবে। তারপরও বাইরে স্কুল, কলেজ, চাকরি ও জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাঘাত ঘটাবেন না।’ এ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিতর্ক সংসদে উপস্থাপন, জনজীবনে বিঘ্ন না ঘটানো এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনার ওপর জোর দেন।

রংপুর সফর শেষে রাজশাহীর পথে
রংপুর ধর্মসভায় বক্তব্য ও মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহী যাওয়ার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পরে মঙ্গলবার বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সফর আয়োজন করা হয়।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজশাহীতে আখচাষিদের জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রণোদনা
রাজশাহীতে পৌঁছে কৃষকদের সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিন বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে কম্পিউটারের বোতাম চেপে অর্থ সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেব। চাপটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষি ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাআল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষিদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’

এরপর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষদের উপস্থিতিও ছিল।

কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এ উদ্যোগকে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই অর্থ কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, আখের ন্যায্যমূল্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সহায়তার কার্যকর ব্যবহার ও কৃষি খাতের অন্যান্য সমস্যার সমাধানের ওপর।

তিস্তা-পদ্মায় ব্যারাজ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করে পানির সমস্যা দূর করা হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, ততদূর যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে ১৪ জেলার মানুষ উপকৃত হবেন। তবে এ জন্য বিএনপির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশ আমাদের, এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দেবে না। কুচক্রী মহল সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। উন্নয়নের গতিকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের স্লোগান, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বিএনপি কৃষিকে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আট মাস আগে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক ও বড় কৃষকদের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বিষ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করা হবে, যাতে কৃষকদের কষ্ট লাঘব হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিমা করতে পারবেন, ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন এবং আবহাওয়া সম্পর্কেও তথ্য জানতে পারবেন। এ কার্ডে ১০টি সুবিধা থাকবে বলে জানান তিনি। কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভান্ডার হলেও এ অঞ্চলের কৃষকেরা পানির সংকটে ভোগেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ে বরেন্দ্র প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে খাল ও নদী খনন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তিনি জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর মধ্যে ৮ হাজার কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ উদ্যোগের ফলে মানুষ পানি ও সেচের সুবিধা পাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে। তিস্তা ও পদ্মায় ব্যারাজ নির্মাণ, খাল খনন এবং কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থায়ন, কারিগরি সম্ভাব্যতা, আন্তসীমান্ত পানিবণ্টন, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং কৃষকদের কাছে সুবিধা পৌঁছানোর স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে শয্যা ২ হাজার ৫০০ করার প্রস্তাব
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও জনসভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০। সেটি ২ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছে। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া আরও ২০ শয্যা বাড়িয়ে সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এবার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না। বিএনপি স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। কিডনি রোগীসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের এ পরিকল্পনায় হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ালেই মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয় না।

ডায়ালাইসিসের ওষুধের দাম কমানো, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুন মাসে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। ডায়ালাইসিসের ওষুধের দাম কমানো হয়েছে এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর কর কমানো হয়েছে। জনগণের জন্য বিএনপি কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা প্রায় ৪৬টি কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ বেকার না থাকে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের নিরাপত্তা বাড়ানো, বন্ধ কারখানা চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বেকারত্বের অভিশাপ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায়, তারা কি জনগণের বন্ধু? তারা জনগণের বন্ধু নয়। এ বক্তব্যে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কারখানাগুলোর আর্থিক অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার চাহিদা, বিনিয়োগ এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের ওপর।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা
পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, খাল খননের পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত না হলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিক্ষার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া মা-বোনদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করেছিলেন। বিএনপি মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভালো ফল করলে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না, মেয়েদের স্বাবলম্বী হতে হবে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হিসেবে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাস্তবায়নে অর্থায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ফ্যামিলি কার্ডে আর্থিক সহায়তা, আত্মনির্ভরশীল পরিবার গড়ার প্রত্যয়
নির্বাচনের আগে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির কথাও জনসভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সংসারের কাজে লাগবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সহায়তা ব্যবহার করে পরিবারগুলো পুঁজি গড়ে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবে। এর ফলে পুরো বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের কর্মসূচির কার্যকারিতা নির্ভর করবে উপকারভোগী নির্বাচন, সহায়তার পরিমাণ, নিয়মিত অর্থপ্রদান এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের প্রকৃত চাহিদা পূরণের ওপর।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা, একাত্তর ও চব্বিশের চেতনার কথা
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দল এসব উদ্যোগ চায় না এবং জনগণ আর তাদের কথায় বিশ্বাস করে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে। এ কারণেই দলটি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি দল মুখে চব্বিশের চেতনার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। তাঁর অভিযোগ, তারা চব্বিশের আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মুখে এক কথা বলছে, কাজে করছে আরেকটি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান চায়। বিএনপির স্লোগান, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, তারা মিথ্যা কথা বলে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। এখন সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। আজ থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

কালের আলো/আরআই/এমকে 

লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

ঢাকের বোল, শঙ্খের ধ্বনি আর উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখর। কারও মুখ সিঁদুরে রাঙা, কারও চোখে বিদায়ের অশ্রু। আনন্দ আর বিষাদের এমন মায়াবী মেলবন্ধনের মধ্য দিয়েই বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, উৎসব আর মিলনমেলার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

দেবীকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভিড় করেন ভক্তরা। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা, দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলা ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসতেই আনন্দের আড়ালে অনুভূত হয় বিচ্ছেদের বেদনা।

  • ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বুড়িগঙ্গার ঘাট—দেবীবরণ
  • সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
  • দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষায় ভক্তরা

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা ধূপ, দীপ, বেলপাতা ও নানা পূজাসামগ্রী দিয়ে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রত্যাশা।

সিঁদুরে রাঙা উৎসব, চোখে বিদায়ের জল
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন। এরপর শুরু হয় দেবীবরণ ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনের মধ্য দিয়ে জানান বিদায়ী শ্রদ্ধা।

পরে একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল—লাল সিঁদুরে রাঙা মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগের এক অনন্য দৃশ্যপট। উৎসবের শেষ দিনের এই আচার ঘিরে নারীদের মধ্যে দেখা যায় আন্তরিকতা, শুভকামনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রকাশ। ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তাপস কুমার পাল জানান, দশমীর পূজা ও অঞ্জলি শেষে নিয়ম অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় পূজার সমাপ্তি হয়। এরপর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয় এবং সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তমীতে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি আহ্বান করা হয়। আর দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। সিঁদুর খেলা বিজয়া দশমীর একটি ঐতিহ্যবাহী আচার, যার সঙ্গে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের কল্যাণ কামনার বিশ্বাস জড়িয়ে আছে।

ঢাকের তালে শোভাযাত্রা, গন্তব্য ওয়াইজঘাট
মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শুরু হয় বিজয়া শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর শোভাযাত্রা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের দিকে এগিয়ে যায়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। নদীঘাটে পৌঁছে ধর্মীয় আচার মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। জলে প্রতিমা বিলীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বিসর্জনের সময় অনেক ভক্তকে দেবীর উদ্দেশে প্রণাম জানাতে এবং আগামী বছর আবার ফিরে আসার প্রার্থনা করতে দেখা যায়। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে গেলেও তাঁর আশীর্বাদ ও কল্যাণের প্রত্যাশা থেকে যায় মানুষের মনে।

রাজধানীতে ২৫৮ মণ্ডপে দুর্গোৎসব
সনাতন পঞ্জিকা ও উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীতে ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢাকার নির্ধারিত ১১টি ঘাটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাঁচ দিনের এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সেই ব্যস্ততা ও আনন্দের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

বিদায়ের সুরে আগামী বছরের প্রতীক্ষা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে, দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গার আগমন মানুষের মনে জাগায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রত্যাশা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপের আলো নিভলেও ভক্তদের মনে রয়ে যায় উৎসবের স্মৃতি। সিঁদুরের রং মুছে যাবে, ঢাকের আওয়াজ থেমে যাবে, কিন্তু দেবীকে ঘিরে প্রার্থনা ও বিশ্বাস থেকে যাবে অটুট। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি আবার ফিরে পাওয়ার আশারও দিন। বিষাদমাখা কণ্ঠে ভক্তদের প্রার্থনা—আগামী বছর আবার এসো মা, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

শৈশবের চেনা স্বাদ, গ্রামবাংলার স্মৃতি আর টক-মিষ্টি ফলের আকর্ষণ—সব মিলিয়ে হেমন্তের শুরুতেই জমে উঠেছে রাজধানীর দেশি ফলের বাজার। জলপাই, আমলকী, আমড়া, কদবেল, চালতা, পানিফল, জাম্বুরা ও কামরাঙাসহ নানা মৌসুমি ফলে রঙিন হয়ে উঠেছে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারের ফলের দোকান। পছন্দের ফল কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে ফলের সমারোহে খুশি হলেও দামের ক্ষেত্রে হিসাব কষতে হচ্ছে অনেককে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর এই দুই বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানে দোকানে সাজানো দেশি ফলের পসরা। কেউ পরিবারের জন্য কিনছেন কয়েক ধরনের ফল, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর পরিচিত ফলের দেখা পেয়ে কিনছেন নিজের পছন্দে। সারা বছর সহজে না পাওয়া এসব ফলের প্রতি বাড়তি টান তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

  • রাজধানীর বাজারে ফিরেছে গ্রামবাংলার চেনা ফল
  • হেমন্তের শুরুতে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে দেশি ফলের বাহার
  • শৈশবের স্মৃতি আর স্বাদের টানে ক্রেতা, দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৬০ টাকার জলপাই, ১০০ টাকার আমলকী
বাজারে প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আমলকীর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা আমড়া ৮০ টাকা এবং কাঁচা আমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। পানিফল মিলছে ৪০ টাকায়, জাম্বুরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া কদবেল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেয়ারা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চালতার দাম ৫ টাকা। আনারস কিনতে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ফলের দামে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক রকম নয়। কারও কাছে দাম মোটামুটি সহনীয়, আবার কারও মতে, কিছু ফলের দাম বেশি। তাই পছন্দ থাকলেও অনেকে কিনছেন পরিমাণ বুঝে, কেউবা একাধিক দোকানে দাম যাচাই করে নিচ্ছেন সিদ্ধান্ত।

ফলের টানে ফিরছে গ্রামের স্মৃতি
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে গ্রামের পরিচিত অনেক ফলই সারা বছর সহজে মেলে না। মৌসুমে বাজারে এসব ফলের দেখা মিললে তাই স্বাদের পাশাপাশি ফিরে আসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা সাব্বির বলেন, জলপাই, আমলকী, আমড়া ও কদবেল সারা বছর পাওয়া যায় না। বাজারে এসব ফল উঠলে কিনতে ইচ্ছা করে। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের জন্য অল্প করে কেনেন তিনি। আরেক ক্রেতা জানান, গ্রামে থাকতে এসব ফল সহজেই পাওয়া যেত। এখন রাজধানীতে সব সময় পাওয়া যায় না বলে বাজারে এলে কিনতে মন চায়। তবে কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম যাচাই করেন তিনি।

সরবরাহ কমলেই বাড়ে দামের চাপ
বিক্রেতাদের মতে, ফলের দাম নির্ভর করে সরবরাহ, আকার, মান ও সংগ্রহস্থলের ওপর। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আর সরবরাহ কমলে বাড়তে পারে। মৌসুমি অনেক ফল অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় বলে এ সময় চাহিদাও থাকে। শ্যামবাজারের বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, মৌসুমি ফলের চাহিদা থাকলেও বেশি দামে সবাই কিনতে চান না। কেউ অল্প করে কেনেন, কেউ পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের ফল নেন। ফলের মান ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়।

আরেক বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, মৌসুমি ফলের স্থায়িত্ব কম। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সময়মতো বিক্রি করতে হয়। এ কারণে ফলের বেচাকেনায় সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি পচনশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলের সমারোহে স্বাদ, পুষ্টি ও ঐতিহ্য
মৌসুমি দেশি ফলের আবেদন শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিতেও। ফলভেদে এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ। সুষম খাদ্যাভ্যাসে নানা ধরনের ফল রাখার গুরুত্বও রয়েছে।

তবে রাজধানীর বাজারে এই ফলের সমারোহ স্রেফ কেনাবেচার চিত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতি ও স্মৃতির সম্পর্কও। টক জলপাই, কষযুক্ত আমলকী কিংবা স্বতন্ত্র স্বাদের কদবেল—পরিচিত এসব ফল অনেকের কাছেই ফিরিয়ে আনে ফেলে আসা দিনের কথা। হেমন্তের শুরুতে তাই দেশি ফলের পসরা ঘিরে রাজধানীর বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। পছন্দের ফল কেনার আগ্রহ আছে, তবে সেই আগ্রহের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দামের হিসাব। সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটার মধ্য দিয়েই মৌসুমি ফলের স্বাদ নিচ্ছেন নগরবাসী।

কালের আলো/এএএন/এমকে 

ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

আদালত প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন তানভীর। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি একটি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শনাক্ত করতে তৎপর হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভিডিওতে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি