খুঁজুন
                               
, ,
           

একুশ শতকের সেরা ১০০ সিরিজে ‘ব্রেকিং ব্যাড’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
একুশ শতকের সেরা ১০০ সিরিজে ‘ব্রেকিং ব্যাড’

একদল ‘ব্রেকিং ব্যাড’ দেখেছেন, আরেক দল দেখেননি—প্রিয় সিনেমা বা সিরিজের প্রসঙ্গে এমন বিভাজন হরহামেশাই শোনা যায়। তবে ভিন্স গিলিগানের তৈরি এই সিরিজের ক্ষেত্রে কথাটি যেন সত্যিই দুই মেরুর বিভাজন। প্রচারের পর পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। তবু সিরিজটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর প্রভাব ততই দৃশ্যমান হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস একুশ শতকের সেরা ১০০ টেলিভিশন সিরিজের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে শীর্ষস্থান পেয়েছে ২০০৮ সালে শুরু হওয়া এবং ২০১৩ সালে শেষ হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’। তালিকায় শুধু ইংরেজি ভাষার সিরিজ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ভাষার প্রযোজনাও জায়গা পেয়েছে।

গত ২৫ বছরে টেলিভিশন দেখার অভিজ্ঞতায় যে বড় পরিবর্তন এসেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের এই তালিকা যেন তারই একটি প্রতিচ্ছবি।

বদলে গেছে টেলিভিশন দেখার অভ্যাস

একসময় নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশনের সামনে বসে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখাই ছিল দর্শকদের নিয়মিত অভ্যাস। এরপর কেবল টেলিভিশনের বিস্তার, পরে অনলাইন স্ট্রিমিং—প্রতিটি ধাপ দর্শকের অভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে।

এখন একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটারেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য সিরিজ দেখা যায়। দর্শকের সামনে একই সঙ্গে রয়েছে নানা ভাষা, নানা ঘরানা ও নানা ধরনের গল্প।

এই দীর্ঘ পরিবর্তনের সময়টিকে ফিরে দেখতেই নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে একুশ শতকের সেরা ১০০ টেলিভিশন সিরিজের তালিকা। আর সেই তালিকার এক নম্বরে রয়েছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’।

শুধু ইংরেজি ভাষায় সীমাবদ্ধ নয়

নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় ভাষার কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিরিজও জায়গা পেয়েছে।

কোরিয়ান সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ রয়েছে ৭২ নম্বরে। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই সিরিজ স্ট্রিমিংয়ের আন্তর্জাতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। ফরাসি সিরিজ ‘দ্য ব্যুরো’ রয়েছে ৫৪ নম্বরে। জাপানি ঐতিহাসিক সিরিজ ‘শোগান’ জায়গা পেয়েছে ৮৬ নম্বরে।

এ ছাড়া ‘নরমাল পিপল’-এর মতো আইরিশ-ব্রিটিশ প্রযোজনাও তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ তালিকাটি মূলত একুশ শতকের টেলিভিশন ও স্ট্রিমিংয়ের বৈশ্বিক বৈচিত্র্যকেই সামনে এনেছে।

৫১৬ ভোটারের পছন্দে তৈরি তালিকা

নিউইয়র্ক টাইমসের এবারের আয়োজন ছিল বড় পরিসরের। পত্রিকাটির তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভাগ ‘দ্য আপশট’-এর সঙ্গে সমন্বয়ে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

টেলিভিশন অঙ্গনের পাঁচ শতাধিক পেশাজীবীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। প্রত্যেককে একুশ শতকের সেরা সর্বোচ্চ ১০টি সিরিজ বেছে নিতে বলা হয়েছিল।

সিরিজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ছিল নির্দিষ্ট যোগ্যতা। কোনো সিরিজের প্রথম পর্ব ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে প্রচারিত হতে হয়েছে। সিরিজটি কোন দেশের বা কোন ভাষার—এতে কোনো বাধা ছিল না।

ড্রামা, কমেডি, তথ্যচিত্র, রিয়েলিটি শো, টক শো, গেম শো—এমনকি ইউটিউব সিরিজও বিবেচনায় ছিল। তবে একটি সিরিজে একাধিক পর্ব থাকা ছিল অন্যতম শর্ত।

শুধু ভোটের সংখ্যা গুনে তালিকা তৈরি করা হয়নি। ভোট দেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের দুটি করে এলোমেলোভাবে নির্বাচিত সিরিজের মধ্যে কোনটিকে তাঁরা বেশি পছন্দ করেন, সেটিও বেছে নিতে বলা হয়। ভোট ও এসব মুখোমুখি তুলনার তথ্য একত্র করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫১৬ জন ভোটারের পছন্দ এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

কেন শীর্ষে ‘ব্রেকিং ব্যাড’

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর গল্প শুরু একজন সাধারণ রসায়ন শিক্ষকের জীবন দিয়ে। ওয়াল্টার হোয়াইট—সংসারী, সাধারণ এবং কিছুটা হতাশ একজন মানুষ। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি মাদক তৈরির জগতে প্রবেশ করেন।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তাঁকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে, শুরুতে ওয়াল্টার নিজেও তা জানতেন না।

২০০৮ সালে শুরু হওয়া সিরিজটির পাঁচ মৌসুমজুড়ে দেখা যায় একজন সাধারণ মানুষের ধীরে ধীরে অপরাধজগতের ক্ষমতাবান চরিত্রে পরিণত হওয়ার গল্প। ওয়াল্টার হোয়াইটের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তাঁর প্রাক্তন ছাত্র জেসি পিংকম্যানের চরিত্রে ছিলেন অ্যারন পল।

শুরুতে দর্শক ওয়াল্টারকে দেখেন একজন অসুস্থ, আতঙ্কিত এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক হিসেবে। তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বোঝা যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সহানুভূতিও তৈরি হয়।

কিন্তু গল্প যত এগোয়, সেই সহানুভূতির জায়গা দখল করে অস্বস্তি। কারণ ওয়াল্টার শুধু পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকেন না; ধীরে ধীরে তিনিই পরিস্থিতি তৈরি করতে শুরু করেন।

‘হাইজেনবার্গ’ হয়ে ওঠার গল্প

ওয়াল্টার হোয়াইটের অন্ধকার রূপের নাম ‘হাইজেনবার্গ’। পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের অজুহাতে মাদক ব্যবসায় প্রবেশ করা মানুষটি ধীরে ধীরে অর্থ, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় এমন জায়গায় পৌঁছান, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ ক্রমেই সংকুচিত হতে থাকে।

এই পরিবর্তনই ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর গল্পের অন্যতম বড় শক্তি। একজন সাধারণ মানুষের নৈতিক অবক্ষয় কীভাবে ধাপে ধাপে ঘটে, সেটিই সিরিজটি দীর্ঘ সময় ধরে দেখিয়েছে।

ওয়াল্টারের সবচেয়ে বড় সংঘাত শেষ পর্যন্ত শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অপরাধজগতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নয়; নিজের সিদ্ধান্ত, নৈতিকতা ও পরিচয়ের সঙ্গেও।

গল্প বলার নির্মাণশৈলী

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর নির্মাণশৈলী। সিরিজটি শুধু বড় ঘটনা বা আকস্মিক চমকের ওপর নির্ভর করেনি। দর্শককে সবকিছু সরাসরি বলে দেওয়ার বদলে অনেক সময় অপেক্ষায় রেখেছে, সন্দেহ তৈরি করেছে এবং ধীরে ধীরে গল্পকে বিপদের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।

এই ধীর অথচ ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সিরিজটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। চরিত্রগুলোর পরিবর্তনও ঘটেছে ধাপে ধাপে। ফলে দর্শক শুধু ঘটনাগুলো দেখেননি; চরিত্রগুলোর সিদ্ধান্তের পরিণতিও অনুসরণ করেছেন।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর উত্তরাধিকার

সিরিজটি শেষ হওয়ার পরও এর প্রভাব থেমে যায়নি। বরং এর জনপ্রিয় চরিত্র ও গল্পের জগৎ থেকে তৈরি হয়েছে আরেকটি সফল সিরিজ—‘বেটার কল সল’।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র সল গুডম্যানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিরিজও নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। এর অবস্থান ২৭ নম্বরে।

অর্থাৎ ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শুধু নিজেই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করেনি; তার চরিত্র ও জগতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি আরেকটি সিরিজও একুশ শতকের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

দুই নম্বরে ‘দ্য ওয়্যার’

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেভিড সাইমনের ‘দ্য ওয়্যার’। ২০০২ সালে শুরু হয়ে ২০০৮ সালে শেষ হওয়া এই সিরিজের গল্প বাল্টিমোর শহরের অপরাধ ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি।

তবে ‘দ্য ওয়্যার’কে শুধু পুলিশ ও অপরাধীর গল্প হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি বোঝা যাবে না। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ, রাজনীতি, শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম এবং শহরের সাধারণ মানুষের জীবনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখানে খুব সহজে কাউকে নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। পুলিশ কেন ব্যর্থ হয়, অপরাধীরা কেন অপরাধের জগতে থেকে যায়, রাজনীতি কীভাবে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে কিংবা সংবাদমাধ্যমের সংকট কোথায়—এসব প্রশ্নের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে গল্প।

তিন নম্বরে ‘ম্যাড মেন’

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ম্যাথিউ ওয়াইনারের ‘ম্যাড মেন’। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই সিরিজের গল্প ষাটের দশকের নিউইয়র্কের বিজ্ঞাপনজগৎকে ঘিরে।

কেন্দ্রীয় চরিত্র ডন ড্রেপার। বাইরে থেকে তিনি সফল বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিচয়, বিবাহ, সম্পর্ক ও অতীতের মধ্যে রয়েছে নানা দ্বন্দ্ব।

‘ম্যাড মেন’ শুধু বিজ্ঞাপন সংস্থার গল্প নয়। ষাটের দশকের আমেরিকান সমাজে নারীর অবস্থান, পরিবার, ভোগবাদ, পুরুষতন্ত্র, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিবর্তনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জন হ্যামের অভিনয়ে ডন ড্রেপার চরিত্রটি টেলিভিশনের স্মরণীয় চরিত্রগুলোর একটি হয়ে আছে।

শীর্ষ দশে ড্রামা-কমেডির ভারসাম্য

নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকার শীর্ষ ১০-এ ড্রামা ও কমেডির উপস্থিতি সমান। পাঁচটি করে ড্রামা ও কমেডি রয়েছে।

ড্রামাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’, ‘দ্য ওয়্যার’, ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’ ও ‘গেম অব থ্রোনস’।

অন্যদিকে কমেডির মধ্যে রয়েছে ‘ফ্লিব্যাগ’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’।

‘সাকসেশন’-এ ক্ষমতার পারিবারিক লড়াই

চতুর্থ স্থানে থাকা ‘সাকসেশন’-এর গল্প একটি ধনী পরিবারের ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সিরিজটির কেন্দ্রে রয়েছে মিডিয়া সাম্রাজ্যের মালিক লোগান রয় এবং তাঁর সন্তানেরা।

বাবার তৈরি বিশাল ব্যবসার উত্তরাধিকার কে পাবেন, তা ঘিরেই শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। কিন্তু ব্যবসার বাইরেও সিরিজটির বড় বিষয় পরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক।

বাবার স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ভাই-বোনের প্রতিযোগিতা, অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব—সব মিলিয়ে ‘সাকসেশন’ হয়ে উঠেছে এক জটিল পারিবারিক ড্রামা। ২০২৩ সালে শেষ হওয়া সিরিজটি তালিকায় রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

‘ফ্লিব্যাগ’-এর হাসির আড়ালে বিষণ্নতা

শীর্ষ পাঁচে থাকা ‘ফ্লিব্যাগ’ অন্য ধরনের সিরিজ। ফিবি ওয়ালার-ব্রিজের তৈরি ও অভিনীত এই ব্রিটিশ সিরিজের মাত্র দুই মৌসুম।

বাইরে থেকে এটি কমেডি হলেও হাসির আড়ালে রয়েছে শোক, একাকিত্ব, সম্পর্কের সংকট, অপরাধবোধ ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েন।

কেন্দ্রীয় চরিত্রটি মাঝেমধ্যে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে দর্শক যেন চরিত্রটির ব্যক্তিগত জগতের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যান।

২০১৬ সালে শুরু হয়ে ২০১৯ সালে শেষ হওয়া ‘ফ্লিব্যাগ’ শীর্ষ পাঁচে থাকা অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের সিরিজগুলোর একটি। ব্রিটিশ সিরিজগুলোর মধ্যে এটিই তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছে।

ছয় নম্বরে ‘গেম অব থ্রোনস’

একুশ শতকের অন্যতম বড় টেলিভিশন ঘটনা ‘গেম অব থ্রোনস’। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আট মৌসুমে প্রচারিত সিরিজটি জর্জ আর আর মার্টিনের ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

ওয়েস্টেরসের ক্ষমতার লড়াই, বিভিন্ন পরিবারের সংঘাত, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ, ড্রাগন ও হোয়াইট ওয়াকার—সব মিলিয়ে সিরিজটি টেলিভিশনের গল্প বলার পরিসরকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়।

বিশ্বজুড়ে বিপুল দর্শক তৈরি করা সিরিজটি নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।

রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ‘ভিপ’

সপ্তম স্থানে থাকা ‘ভিপ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সেলিনা মেয়ার। জুলিয়া লুই-ড্রেফাসের অভিনয়ে চরিত্রটি রাজনৈতিক কমেডির অন্যতম পরিচিত চরিত্র হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভুল সিদ্ধান্ত, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে সিরিজটি।

‘৩০ রক’ থেকে ‘আটলান্টা’

অষ্টম স্থানে রয়েছে টিনা ফের ‘৩০ রক’। টেলিভিশনের ভেতরের টেলিভিশনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই কমেডি সিরিজে একটি কাল্পনিক অনুষ্ঠান তৈরির নেপথ্যে থাকা কর্মীদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে।

২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটিতে টিনা ফে নিজে অভিনয় করেছেন। অ্যালেক বাল্ডউইন ও ট্রেসি মরগানসহ অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি, দ্রুতগতির সংলাপ এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে ব্যঙ্গ এর বৈশিষ্ট্য।

নবম স্থানে রয়েছে ল্যারি ডেভিডের ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’। ২০০০ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হওয়া এই সিরিজে ল্যারি ডেভিডেরই একটি কাল্পনিক সংস্করণকে দেখা যায়। সামাজিক জীবনের ছোটখাটো নিয়ম, ভুল-বোঝাবুঝি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় হাসির মুহূর্ত।

শীর্ষ দশ শেষ হয়েছে ডোনাল্ড গ্লোভারের ‘আটলান্টা’ দিয়ে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই সিরিজে সংগীতজগতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বর্ণপরিচয় ও সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে। কখনো কমেডি, কখনো সামাজিক ব্যঙ্গ, আবার কখনো পরাবাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছে সিরিজটি।

নতুন সিরিজও পেয়েছে জায়গা

তালিকায় শুধু পুরোনো ও বহুল আলোচিত সিরিজই নেই। সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু সিরিজও জায়গা করে নিয়েছে।

২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘দ্য পিট’ রয়েছে ৩৬ নম্বরে। একই বছরে শুরু হওয়া ‘অ্যাডোলেসেন্স’ রয়েছে ৪০ নম্বরে। ২০২৪ সালের ‘বেবি রেইনডিয়ার’ জায়গা পেয়েছে ৮৯ নম্বরে। আর জাপানি ঐতিহাসিক সিরিজ ‘শোগান’ রয়েছে ৮৬ নম্বরে।

অর্থাৎ তালিকাটি শুধু অতীতের টেলিভিশন ইতিহাসকে স্মরণ করেনি; সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত সিরিজগুলোকেও বিবেচনায় নিয়েছে।

কোন দশকে কত সিরিজ?

তালিকায় থাকা সিরিজগুলোর শুরুর সময়ও টেলিভিশনের পরিবর্তনের একটি ছবি তুলে ধরে।

২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রথম প্রচারিত সিরিজ রয়েছে ৩২টি। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে শুরু হওয়া সিরিজ রয়েছে ৪৫টি। আর ২০২০ সালের পর শুরু হওয়া সিরিজের সংখ্যা ২৩টি।

এতে বোঝা যায়, একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিংয়ের বিস্তারের সময় তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য সিরিজের সংখ্যাও বেড়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সেরা ১০০

তালিকার শীর্ষ ১০-এর পর রয়েছে ‘দ্য অফিস’ (যুক্তরাষ্ট্র), ‘অ্যারেস্টেড ডেভেলপমেন্ট’, ‘গার্লস’, ‘ফ্রাইডে নাইট লাইটস’, ‘সিক্স ফিট আন্ডার’, ‘দ্য অফিস’ (যুক্তরাজ্য), ‘দ্য আমেরিকানস’, ‘আই মে ডেস্ট্রয় ইউ’, ‘চেরনোবিল’ ও ‘দ্য ক্রাউন’।

এরপর তালিকায় রয়েছে ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’, ‘লস্ট’, ‘দ্য কামব্যাক’, ‘ডেডউড’, ‘দ্য লেফটওভারস’, ‘ব্ল্যাক মিরর’, ‘বেটার কল সল’, ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’, ‘কি অ্যান্ড পিল’ ও ‘সেভারেন্স’।

তালিকার পরের অংশে রয়েছে ‘সারভাইভার’, ‘অ্যান্ডর’, ‘এনলাইটেন্ড’, ‘শিটস ক্রিক’, ‘ট্রু ডিটেকটিভ’ (প্রথম মৌসুম), ‘দ্য পিট’, ‘ব্যাটলস্টার গ্যালাকটিকা’, ‘হোমল্যান্ড’, ‘ওয়াচমেন’ ও ‘অ্যাডোলেসেন্স’।

৪১ থেকে ৬০-এর মধ্যে রয়েছে ‘লুই’, ‘হ্যাকস’, ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’, ‘বোজ্যাক হর্সম্যান’, ‘হ্যাপি ভ্যালি’, ‘ব্রড সিটি’, ‘টুইন পিকস: দ্য রিটার্ন’, ‘হাউস অব কার্ডস’, ‘নরমাল পিপল’, ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’, ‘দ্য গুড প্লেস’, ‘ডাউনটন অ্যাবি’, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’, ‘দ্য ব্যুরো’, ‘ইনসিকিউর’, ‘নাথান ফর ইউ’, ‘আই থিংক ইউ শুড লিভ’, ‘শ্যাপেলস শো’, ‘পেন১৫’ ও ‘পিপ শো’।

৬১ থেকে ৮০-এর মধ্যে রয়েছে ‘রুপলস ড্র্যাগ রেস’, ‘স্লো হর্সেস’, ‘দ্য থিক অব ইট’, ‘অ্যান্থনি বোর্দেইন: পার্টস আননোন’, ‘মেয়ার অব ইস্টটাউন’, ‘দ্য রিহার্সাল’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ‘ওজার্ক’, ‘অ্যান্থনি বোর্দেইন: নো রিজারভেশনস’, ‘দ্য শিল্ড’, ‘বিফ’ (প্রথম মৌসুম), ‘স্কুইড গেম’, ‘ব্যারি’, ‘দ্য বিয়ার’, ‘টেড ল্যাসো’, ‘সামবডি সামহেয়ার’, ‘মডার্ন ফ্যামিলি’, ‘ইটস অলওয়েজ সানি ইন ফিলাডেলফিয়া’, ‘দ্য গুড ওয়াইফ’ ও ‘হাউ টু উইথ জন উইলসন’।

শেষ ২০-এ রয়েছে ‘দ্য কুইন্স গ্যামবিট’, ‘বেটার থিংস’, ‘জাস্টিফায়েড’, ‘প্ল্যানেট আর্থ’, ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’, ‘শোগান’, ‘রিজারভেশন ডগস’, ‘ডেক্সটার’, ‘বেবি রেইনডিয়ার’, ‘ইস্টবাউন্ড অ্যান্ড ডাউন’, ‘ক্যাটাস্ট্রফি’, ‘দ্য নাইট অব’, ‘স্টেশন ইলেভেন’, ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’, ‘হাউস’, ‘হল্ট অ্যান্ড ক্যাচ ফায়ার’, ‘কমিউনিটি’, ‘দ্য ওএ’, ‘গিলমোর গার্লস’ ও ‘স্ক্যান্ডাল’।

একুশ শতকের টেলিভিশন ও স্ট্রিমিংয়ের ২৫ বছরের পথচলায় যে বিপুল পরিবর্তন এসেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের এই তালিকা তারই একটি সংকলিত চিত্র। আর সেই দীর্ঘ তালিকার শীর্ষে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর অবস্থান সিরিজটির দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক প্রভাবের আলোচনাকে আবারও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ

 

বাড়ছে সনদ কমছে দক্ষতা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
বাড়ছে সনদ কমছে দক্ষতা

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বের হচ্ছে লাখো তরুণ। হাতে সনদ, সামনে চাকরির বাজার। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পা রাখতেই বড় ধাক্কা—ডিগ্রি আছে, দক্ষতা নেই। শিল্প-কারখানা, প্রযুক্তি, নির্মাণ কিংবা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার—সবখানেই কর্মীর চাহিদা বদলেছে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও অনেকটাই আটকে আছে মুখস্থবিদ্যা, পরীক্ষা আর সার্টিফিকেটের বৃত্তে।

  • শিক্ষিত বেকারের মিছিল
  • কর্মমুখী দক্ষতার ঘাটতি
  • মুখস্থবিদ্যা ও সার্টিফিকেটনির্ভর ধারা
  • শিল্প-শিক্ষার সেতু গড়ার তাগিদ

ফলে একদিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে বিদেশে যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ শ্রমিক। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ জনগোষ্ঠীই দক্ষতার ঘাটতিতে পরিণত হচ্ছে সম্ভাবনার বদলে বোঝায়।

ডিগ্রি আছে, কাজের দক্ষতা নেই
প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। উচ্চশিক্ষায় রয়েছেন আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতেই পড়ছেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ। সংখ্যার বিচারে উচ্চশিক্ষার বিস্তার বড় হলেও কর্মবাজারের সঙ্গে এর সংযোগ দুর্বল।

এইচএসসি ও সমমানের পর প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ নতুন করে চাকরির বাজারে ঢুকছেন। কিন্তু তাদের বড় অংশের হাতে নেই এমন কারিগরি বা ব্যবহারিক দক্ষতা, যা দিয়ে সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হওয়া যায়। ফলে শিক্ষার পরের ধাপ হয়ে উঠছে অপেক্ষা—চাকরির অপেক্ষা, প্রশিক্ষণের অপেক্ষা, কিংবা আবারও একটি সনদ অর্জনের চেষ্টা।

কারিগরি শিক্ষা এখনও প্রান্তে
দেশে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ ১৪ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে এসেছে। অথচ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরিতে এ খাতের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।সমস্যা শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়া নয়। সামাজিক মানসিকতাও বড় বাধা। অনেক পরিবার এখনও বিএ, এমএ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি মনে করে।

কারিগরি শিক্ষাকে তুলনামূলক কম মর্যাদার মনে করার প্রবণতায় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ সাধারণ শিক্ষায় ঢুকে পড়ছে। পরে সেই ডিগ্রি নিয়েই তাদের ছুটতে হচ্ছে এমন চাকরির পেছনে, যেখানে নিয়োগদাতা প্রথমেই খুঁজছেন বাস্তব দক্ষতা।

শিল্প একদিকে, শিক্ষা আরেকদিকে
কর্মবাজার বদলে গেছে দ্রুত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এখন চাকরির ধরন পাল্টে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও পুরোনো পাঠ্যক্রম, সীমিত ল্যাব এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মধ্যে যোগাযোগও দুর্বল।

ফলে একজন শিক্ষার্থী বছরের পর বছর তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেও বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না। দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নেই। কোথাও আবার পুরোনো যন্ত্রপাতি ও পুরোনো কোর্স দিয়েই প্রশিক্ষণ চলছে।

বিদেশেও কম মজুরির ফাঁদ
দেশের দুর্বল দক্ষতা উন্নয়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায় বিদেশের শ্রমবাজারে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেলেও বড় অংশ অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আয়ে। কম দক্ষতার শ্রমিক কম মজুরির কাজে আটকে থাকেন। বিপরীতে দক্ষ টেকনিক্যাল কর্মীর মাসিক আয় অনেক ক্ষেত্রে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একই বিদেশযাত্রা একজনকে কম আয়ের শ্রমিক করে তুলছে, আবার অন্যজনকে উচ্চ আয়ের দক্ষ কর্মীতে পরিণত করছে—পার্থক্যটি মূলত দক্ষতার।

এশিয়া এগিয়েছে দক্ষতার হাত ধরে
জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পেছনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব দেশে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়েছে। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে।চীনের উৎপাদনশিল্পের বিস্তারের সঙ্গে বড় কারিগরি শিক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত করে ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর খাত সম্প্রসারণ করেছে।

জাপানও শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছে।বাংলাদেশের সামনে তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু ‘কতজন শিক্ষিত’—তা নয়। প্রশ্ন হলো, কতজনকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষ করে তোলা যাচ্ছে।

উদ্ভাবনেও পিছিয়ে বাংলাদেশ
দক্ষতার ঘাটতির প্রভাব পড়ছে উদ্ভাবনেও। ২০২৪ সালের গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ১৩৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬। একই সূচকে ভারত ৩৮তম, চীন ১১তম এবং সিঙ্গাপুর চতুর্থ। অর্থাৎ বড় তরুণ জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে সেই জনশক্তিকে যথেষ্ট কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

শিক্ষিত বেকারই বড় সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য এখানেই—শিক্ষার বিস্তার বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সেতু শক্তিশালী হচ্ছে না। রাশেদা কে চৌধুরীর মতে, বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষিত বেকার তৈরি করছে। কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়লেও তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং কম বরাদ্দও এ খাতের বড় সমস্যা।

সনদ নয়, দক্ষতার হিসাব
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ তরুণ জনগোষ্ঠীকে শুধু শিক্ষিত করা নয়, তাদের উৎপাদনশীল করে তোলা। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই ব্যবহারিক শিক্ষা, মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক দক্ষতার সুযোগ, উচ্চশিক্ষায় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে শিল্পের চাহিদা যুক্ত করা, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশগামী কর্মীদের বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় সনদের সংখ্যা নয়, কাজ করার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি।

বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণ সেই শক্তি হতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে শিক্ষা শেষ হওয়ার পর তারা শুধু একটি কাগজ পান, নাকি হাতে তুলে নিতে পারেন একটি কার্যকর দক্ষতা—তার ওপর।

কালের আলো/টিই/এমকে

জ্বালানি সংকট কেটেছে, সরবরাহ এখন স্বাভাবিক: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কেটেছে, সরবরাহ এখন স্বাভাবিক: মন্ত্রী

জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি ও দুর্ঘটনার কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়েছে এবং সরবরাহের শিডিউলও ঠিক করা হয়েছে। সামনে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সময় লেগেছে। জ্বালানি কেনার পরও তা দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে এলএনজির একটি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। এসব দুর্যোগ ও জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে জ্বালানি সঠিকভাবে দেশে আসছে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজে বের করেছে এবং বেশি দাম দিয়েও গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ধরনের সাময়িক সংকট বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা দলগতভাবে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিতে উদ্যোগ নেওয়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামনে আর কোনো সমস্যা না হলে আগামী দিনগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জ্বালানি মন্ত্রী। জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা। তাদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা।

‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে চলা এ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানার সামনে টিএসসি অভিমুখী সড়কে মেট্রোরেলের নিচে অবস্থান করছেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গেছে। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ভোলা থেকে আসা আন্দোলনকারী এস এম খোকন বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করায় তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলতে সাতজন প্রতিনিধি সচিবালয়ে গেছেন। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত রুবেল বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিক্ষক পদে যোগদানের প্রত্যাশায় মার্চ ও এপ্রিলে ১৫তম গ্রেডের দুটি সরকারি চাকরির ভাইভাতেও অংশ নেননি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দেননি। তবে দীর্ঘ সময় পরও তার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল বলেন, তার ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নিয়োগপত্র পাননি।

আন্দোলনকারীরা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি