শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান, আবেদন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত
সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার। এ অনুদানের জন্য আগ্রহীদের আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পুনর্বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে তাঁকে আবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে না। একই ব্যক্তি দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে তাঁর দুটি আবেদনই বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে বিশেষ অনুদানের অর্থ বিতরণের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিতসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী না পাওয়া এবং প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকার অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর অনলাইনে আবেদনের সুযোগ সীমিত থাকায় এবার নতুন করে ম্যানুয়াল আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
যেসব ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়া হবে
বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন। উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান পেতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আর স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার আবেদন গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই শেষে সেগুলো একত্র করবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে হবে।
অনলাইন ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একই আবেদন যাতে দুইবার সুপারিশপ্রাপ্ত না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলা কমিটির মাধ্যমে আগে পাঠানো অনলাইন আবেদনভিত্তিক সুপারিশের তালিকা এবং নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া তালিকা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে।
আবেদনের শেষ সময় ১৫ অক্টোবর
প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাওয়া আবেদন জেলা কমিটি যাচাই করে সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশকৃত তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর পৌঁছাতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
নির্ধারিত আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
রয়েছে একাধিক শর্ত
কোনো আবেদনকারী আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন না। দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে উভয় আবেদন বাতিল হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর পরপর এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আবেদনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকার প্রদত্ত সাধারণ উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি এ শর্তের আওতামুক্ত থাকবে।
যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নির্মাণ, সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে অথবা সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে এ ধরনের প্রকল্প সমাপ্ত বা চলমান রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে
অনলাইনে আবেদনকারী ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদনকারী—উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ দেওয়া হবে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে তাঁর বাবা বা মায়ের সঙ্গে যৌথ নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিজ নামে ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।
ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল
অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ভুল তথ্যসংবলিত কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে আবেদন বা কোনো সুপারিশকে অনুদানের অর্থ পাওয়ার অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অনুদান দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ফলে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরমে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করার পাশাপাশি আগে অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array