খুঁজুন
                               
, ,
           

বিয়ের পর হঠাৎ থেমে গিয়েছিল সোনি রাজদানের অভিনয়জীবন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
বিয়ের পর হঠাৎ থেমে গিয়েছিল সোনি রাজদানের অভিনয়জীবন

একসময় নিয়মিত অভিনয় করছিলেন সোনি রাজদান। সিনেমায় প্রশংসা পাচ্ছিলেন, টেলিভিশনেও তৈরি হয়েছিল পরিচিতি। কিন্তু ১৯৮৬ সালে পরিচালক মহেশ ভাটকে বিয়ের পর হঠাৎই যেন বদলে যায় তাঁর ক্যারিয়ারের গতি। নতুন সিনেমা বা ধারাবাহিকে কাজের সুযোগ কমে যায়। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়েছিল, অভিনয়জীবনে এতদিনে যা কিছু অর্জন করেছিলেন, সব যেন একসঙ্গে হারিয়ে গেছে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা আবারও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, বিয়ের সময় তিনি একটি কাজ করছিলেন এবং সেটি শেষও করেছিলেন। কিন্তু এরপর আর নতুন কোনো কাজ পাননি। যেন আচমকাই তাঁর অভিনয়জীবনের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

১৯৮১ সালে ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক সোনি রাজদানের। এরপর ‘মান্ডি’ ও ‘সারাংশ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ‘সারাংশ’-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনেও পরিচিতি পান সোনি। রমেশ সিপ্পির ‘বুনিয়াদ’ তাঁকে আরও বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।

তখন তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল নিজের গতিতেই। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২০ এপ্রিল মহেশ ভাটকে বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সোনি জানান, বিয়ের সময় তিনি কাজ করছিলেন। সেই কাজ শেষ হওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নতুন কাজের প্রস্তাব আসা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর কাছে বিষয়টি ছিল আকস্মিক এবং হতাশাজনক।

এর আগে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারেও একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন সোনি। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও তাঁকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল—তিনি যেহেতু একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের স্ত্রী, তাই তাঁর আর কাজ করার প্রয়োজন কী।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছিল। কারণ, বিয়ের পরও নিজের পেশা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর ছিল। কিন্তু আশপাশের মানুষের ধারণা যেন তাঁর হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল।

‘মহেশ ভাটের স্ত্রী’ পরিচয়ের আড়ালে অভিনেত্রী সোনি

বিয়ের পর সোনি রাজদানের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায় আরেকটি পরিচয়—তিনি পরিচালক মহেশ ভাটের স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের মা হিসেবেও তাঁকে ব্যাপকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু এখানেই সোনির আপত্তি ছিল। কারণ, অভিনয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল আলিয়ার জন্মেরও আগে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরিচয় নিয়ে কথা বলেছিলেন সোনি। জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে মূলত মহেশ ভাটের স্ত্রী হিসেবেই দেখা হয়েছে। ২০২৫ সালের আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সারা জীবনই যেন তাঁকে ‘অন্য কারও কেউ’ হিসেবে দেখা হয়েছে। নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াই।

অথচ তাঁর অভিনয়জীবনের ইতিহাস চার দশকেরও বেশি সময়ের। সিনেমা, টেলিভিশন ও পরবর্তী সময়ে ওয়েবভিত্তিক কাজ—বিভিন্ন মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘বুনিয়াদ’ ফিরিয়ে দিয়েছিল কাজ

বিয়ের পর কাজের খরা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সোনির ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে ‘বুনিয়াদ’ দিয়ে।

রমেশ সিপ্পি ও জ্যোতি স্বরূপ পরিচালিত ধারাবাহিকটি ১৯৮৬ সালে দূরদর্শনে প্রচার শুরু হয়। দেশভাগ এবং তার পরবর্তী সময়ের সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ধারাবাহিক দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

‘বুনিয়াদ’-এ সোনির অভিনয়ও দর্শকের নজর কাড়ে। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধারাবাহিকটি তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এরপর আবার বেশ কিছু সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি।

অর্থাৎ যে সময়টিকে একসময় তিনি ‘সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার’ সময় বলে মনে করেছিলেন, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অভিনয়ে ফিরে আসেন সোনি।

স্বামীর সিনেমাতেও সহজ চরিত্র মেলেনি

মহেশ ভাটকে বিয়ে করার পর সোনির ক্যারিয়ার পুরোপুরি স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ছিল—বিষয়টি এমন নয়। বরং বিভিন্ন সময়ে মহেশ ভাট নিজেই তাঁর অভিনয়ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।

২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে মহেশ ভাট সোনিকে অত্যন্ত শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সোনির অভিনয়ের ধরন, শরীরী ভাষা ও সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি মূলধারার ভারতীয় সিনেমার প্রচলিত অভিনয়শৈলীর সঙ্গে সব সময় মেলে না। ফলে তাঁর প্রতিভার যথাযথ ব্যবহার করার মতো চরিত্রও সব সময় পাওয়া যায়নি।

তবে মহেশ ভাটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেলেও সোনির চরিত্রগুলোর পরিণতি অনেক সময় সুখকর হয়নি। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে সোনি রসিকতা করে জানান, তাঁর স্বামী তাঁকে এমন অনেক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছেন, যেগুলো গল্পের মধ্যেই মারা যেত। পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিষয়টি একসময় মজার হয়ে উঠেছিল।

‘রাজি’-তে মেয়ের মায়ের চরিত্রে

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর ২০১৮ সালের ‘রাজি’ সিনেমায় আবারও বড় পর্দায় আলোচনায় আসেন সোনি রাজদান। সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন আলিয়া ভাটের মায়ের চরিত্রে। বাস্তব জীবনেও আলিয়া তাঁর মেয়ে হওয়ায় সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল আরও বেশি।

তবে এখানেও তৈরি হয় পরিচয়ের আরেকটি দ্বন্দ্ব। সোনির অভিনয় নিয়ে আলোচনার বদলে তাঁকে অনেক সময় শুধু ‘আলিয়া ভাটের মা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও বাস্তবতা হলো, সোনি যখন অভিনয়জগতে পা রাখেন, তখন আলিয়ার জন্মই হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ‘ইয়োরস ট্রুলি’, ‘সংস অব প্যারাডাইস’-এর মতো কাজেও অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ ও চরিত্রনির্ভর বিভিন্ন কাজেও তাঁকে দেখা গেছে।

বদলে গেছে সময়

নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনাও করেছেন সোনি রাজদান। তাঁর মতে, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। বিশেষ করে তাঁর মেয়ে আলিয়া ভাটের প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য বিয়ে কিংবা মাতৃত্ব আগের মতো ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার কারণ নয়।

চলতি বছর দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, সময় বদলেছে দেখে তিনি খুশি। তাঁর মেয়ে এমন এক সময়ে কাজ করছেন, যখন একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পেশাজীবন চালিয়ে যেতে পারেন।

সোনি রাজদানের নিজের ক্যারিয়ারের গল্প তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর দীর্ঘ বিরতির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিয়ের পর একজন নারী শিল্পীর পেশাগত পরিচয় কীভাবে বদলে দেওয়া হয়, পারিবারিক পরিচয় কীভাবে ব্যক্তিগত অর্জনকে আড়াল করে দিতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সেই ধারণাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তারও একটি দীর্ঘ অধ্যায়।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, জারি জরুরি সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, জারি জরুরি সতর্কতা

টানা ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছেন ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে যানবাহন আংশিক পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ব্যাংককে আরও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপান বলেছেন, বন্যা মানুষের জীবন ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। খালসংলগ্ন এলাকাগুলোর পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্গত মানুষের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপন করছে সেনাবাহিনী। ব্যাংকক মহানগর প্রশাসন স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খালের কাছাকাছি বসবাসকারীদের জরুরি সতর্কবার্তা দিয়ে প্রয়োজনীয় মালপত্র নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে সুপারমার্কেটগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে বন্যার মধ্যেও ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে বিমানযাত্রীদের যাতায়াতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বনানীতে বহুতল ভবনের ২৩ তলায় আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
বনানীতে বহুতল ভবনের ২৩ তলায় আগুন

রাজধানীর বনানীতে আলোচিত এফ আর টাওয়ারের পাশের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে বনানীর একটি ২৬ তলা ভবনের ২৩ তলায় আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর বনানীর বহুতল ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করলেই মিলবে পেশাগত পরিচয়, অ্যান্ড্রয়েডে চালু সুবিধা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করলেই মিলবে পেশাগত পরিচয়, অ্যান্ড্রয়েডে চালু সুবিধা

অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে কলারের নাম ও ফোন নম্বরের পাশাপাশি এবার তাঁর কর্মস্থল ও পদবির তথ্যও দেখা যেতে পারে ট্রুকলারে। পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে কলারের পরিচয় সম্পর্কে বাড়তি তথ্য দিতে লিংকডইনের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে নতুন এ সুবিধা চালু করেছে কল শনাক্তকরণ সেবা ট্রুকলার।

নতুন সুবিধার আওতায় কোনো ব্যবহারকারী তাঁর লিংকডইন প্রোফাইল ট্রুকলারের সঙ্গে যুক্ত করলে তাঁর পেশাগত পরিচয়ের তথ্য কলার আইডিতে দেখানো হতে পারে। তবে লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করলেই সেখানে থাকা সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রুকলারে প্রদর্শিত হবে না। কোন তথ্য দেখানো হবে, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ধরা যাক, কোনো নিয়োগকর্তা, গ্রাহক, সরবরাহকারী, পরামর্শক বা ব্যবসায়িক সহযোগী এমন একটি নম্বর থেকে ফোন করেছেন, যা ফোনে সংরক্ষিত নেই। ওই ব্যক্তি যদি নিজের লিংকডইন প্রোফাইল ট্রুকলারের সঙ্গে যুক্ত করে রাখেন, তাহলে কলার আইডিতে তাঁর নাম, প্রোফাইল ছবি, পদবি ও প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যেতে পারে। চাইলে সেখান থেকেই তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলেও প্রবেশ করা যাবে।

যেসব তথ্য দেখা যেতে পারে

লিংকডইন প্রোফাইল ট্রুকলারের সঙ্গে যুক্ত করার পর কলার আইডিতে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন পেশাগত তথ্য প্রদর্শিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নাম, প্রোফাইল ছবি, বর্তমান কর্মস্থল বা প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি, লিংকডইনে যাচাই করা পরিচয়ের তথ্য এবং লিংকডইন প্রোফাইলের লিংক।

লিংকডইনের পরিচয় যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করা যায়। ‘ভেরিফায়েড অন লিংকডইন’ কর্মসূচির মাধ্যমে এখন লিংকডইনের বাইরের বিভিন্ন সেবাতেও এসব যাচাইয়ের তথ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রুকলার এ কর্মসূচির নতুন অংশীদার।

যেভাবে কাজ করবে

নতুন ট্রুকলার ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় ‘লগইন উইথ লিংকডইন’ অপশন ব্যবহার করে নিজেদের লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে লিংকডইন অ্যাকাউন্টে থাকা নাম ও প্রোফাইল ছবির মতো তথ্য ট্রুকলার প্রোফাইলে যুক্ত হতে পারে।

যাঁরা আগে থেকেই ট্রুকলার ব্যবহার করছেন, তাঁরাও ‘ভেরিফায়েড অন লিংকডইন’ সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কর্মস্থল ও পদবির তথ্য ট্রুকলার প্রোফাইলে যোগ করা যাবে।

দুটি প্রোফাইল যুক্ত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ট্রুকলার ব্যবহারকারীকে ফোন করবেন, তখন কলার আইডিতে তাঁর পেশাগত পরিচয়ের তথ্য দেখা যেতে পারে। লিংকডইনে তাঁর কর্মস্থল যাচাই করা থাকলে ট্রুকলারে প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে যাচাইয়ের নির্দেশকও দেখা যেতে পারে।

ফলে ফোন ধরার আগেই ব্যবহারকারী কলারের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে অতিরিক্ত একটি তথ্যসূত্র পাবেন।

১১ কোটি ৫০ লাখের বেশি পরিচয় যাচাই

লিংকডইন জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্মে ১১ কোটি ৫০ লাখের বেশি সদস্যের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় যাচাইব্যবস্থা ট্রুকলারের পাশাপাশি অ্যাডোবি, ট্রাস্টরেডিয়াস, ইউজারটেস্টিং ও পিয়ারস্পটের মতো অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সেবাতেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

অ্যান্ড্রয়েডে চালু, আইফোনে পরে

ট্রুকলার জানিয়েছে, লিংকডইনের সঙ্গে অংশীদারত্বের নতুন এ সুবিধা বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি পরে চালু করা হবে।

ব্যবহারকারীরা চাইলে ট্রুকলারে তাঁদের কর্মস্থল ও পদবির তথ্য প্রদর্শন বন্ধ করতে পারবেন। একইভাবে যেকোনো সময় ট্রুকলার থেকে লিংকডইন প্রোফাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাও সম্ভব হবে।

ট্রুকলার জানিয়েছে, লিংকডইনের সঙ্গে অংশীদারত্বের এ সুবিধা তাদের বিদ্যমান পরিচয় যাচাইব্যবস্থার বিকল্প নয়। ট্রুকলারে আগে থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

সূত্র: নিউজ১৮ ডটকম

কালের আলো/এসএ