খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সালেহ শিবলী বলেন, জনগণের করের অর্থের অপচয় রোধে এবার মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নিউইয়র্ক সফর করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে সফরের নজির থাকলেও এবার তুলনামূলক ছোট বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর করা হয়েছে। তার মতে, এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি বার্তা বহন করে।

চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তরুণদের কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশের সুযোগ এবং যুক্তি, শিক্ষা ও মানবিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ ও বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সফরে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলো আলোচনায় ছিল বলে সরকারি তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—এমন বক্তব্য তিনি ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের বর্তমান অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

সালেহ শিবলী বলেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা

প্রথম শ্রেণির পর এবার প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। লটারির মাধ্যমেই এসব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিকের ভর্তি পদ্ধতিতে আবার পরিবর্তনের ভাবনা

চলতি বছর মার্চ,২০২৬ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, দীর্ঘদিনের লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আপত্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রাথমিকের ছোট শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনা হলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

পরে ৬ আগস্ট,২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না; লটারির মাধ্যমেই ভর্তি নেওয়া হবে। তবে তখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল।

এখন সেই সিদ্ধান্তেও আবার পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পুরো প্রাথমিক স্তরেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিশুদের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে মনে করেন, প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশুদেরও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে নিয়ে এলে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিপুলসংখ্যক শিশুকে নিয়ে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাও শিক্ষা বিভাগের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকেরা আগের লটারি পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ২০২৭ সালে প্রাথমিকের কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না।

মাধ্যমিকে ভর্তি পরীক্ষা বহাল

প্রাথমিক স্তরে লটারি চালুর পরিকল্পনা করা হলেও মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা এখনো বলা হয়নি। অর্থাৎ প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারি এবং মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা—এমন পৃথক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

সরকারের ৬ আগস্টের ঘোষণাতেও প্রথম শ্রেণিতে লটারি এবং অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারি ফিরছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সামনে রেখে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

লটারির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন

ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতিকে শিশুদের জন্য তুলনামূলক চাপমুক্ত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে লটারির স্বচ্ছতা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর মনে করেন, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা হলে অল্প বয়সেই শিশুদের মধ্যে ব্যর্থতার নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় লটারিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে, তবে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আগেও ছিল লটারি পদ্ধতি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়।

তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত তখন ভর্তি পরীক্ষা চলত। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। এরপর কয়েক বছর এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকে।

চলতি বছর আবার লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকেও লটারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিকের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

কালের আলো/এসএ

সার সংকট নিয়ে আন্দোলন পরিকল্পিত: মীর শাহে আলম

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সার সংকট নিয়ে আন্দোলন পরিকল্পিত: মীর শাহে আলম

কুড়িগ্রাম: জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—এমন আসনগুলোতেই কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রাম সফরে গিয়ে জেলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেসব এলাকায় সারের সংকট হয়নি এবং সার নিয়ে কোনো আন্দোলনও হয়নি। তাঁর দাবি, জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন এলাকাগুলোতেই পরিকল্পিতভাবে সারের সংকট তৈরি করে আন্দোলন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, যে সময়ে সার সংকটের কথা বলা হয়েছিল, তখন কোথাও প্রকৃত সংকট ছিল না। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল এবং আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু ডিলার জড়িত ছিলেন।

সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অনিয়ম রোধে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের চাহিদার তুলনায় দেড়গুণ বেশি সার আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল নিয়ে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির নাম ‘লং মার্চ’ না হয়ে ‘রোড মার্চ’ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমস্যা সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভক্তদের যুদ্ধ, বন্ধুত্বে অটুট জোভান-তৌসিফ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
ভক্তদের যুদ্ধ, বন্ধুত্বে অটুট জোভান-তৌসিফ

পছন্দের অভিনয়শিল্পীকে সেরা প্রমাণ করতে ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ কিংবা পোস্টের মন্তব্যে প্রিয় তারকাকে এগিয়ে রাখতে অন্য তারকার ভক্তদের সঙ্গে তর্কে জড়ান অনেকেই। কখনো সেই তর্ক সীমা ছাড়িয়ে কটূক্তি কিংবা ঝগড়াতেও গড়ায়।

তবে এবার যে দুই তারকাকে ঘিরে এমন ভার্চুয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তারা নিজেরাই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও তৌসিফ মাহবুব। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই একসঙ্গে পথ চলছেন দুজন। ভক্তদের এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নিজেদের বন্ধুত্বের জায়গাটি মনে করিয়ে দিয়েছেন জোভান।

‘যুদ্ধটা আপনাদের, বন্ধুত্বটা আমাদের’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন জোভান। ছবির সঙ্গে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমাদের দুজনকে নিয়ে ভক্তদের নিজেদের মধ্যে এত ঝগড়াঝাঁটি, এত ভার্চুয়াল মারামারি করার আগে একটা জিনিস জেনে রাখেন, আমরা একে অপরকে যতটা সম্মান করি, আপনারা একে অপরকে ততটা সম্মান করেন না।’

পরে নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে জোভান বলেন, ‘যুদ্ধটা আপনাদের, বন্ধুত্বটা আমাদের। ভালোবাসাটা আমাদের। আপনারা ফ্যান হয়ে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করেন, আর আমরা প্রতিযোগী হয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিই।’

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভক্তদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের বিপরীতে দুই অভিনেতার বন্ধুত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।

১৩ বছরের বন্ধুত্ব

জোভান ও তৌসিফের বন্ধুত্ব বেশ পুরোনো। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘ঝালমুড়ি’ ধারাবাহিক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর নিয়মিত বিভিন্ন কাজে একসঙ্গে যুক্ত হতে হতে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব।

দেখতে দেখতে সেই সম্পর্কের বয়স প্রায় ১৩ বছর। দুজনের ব্যস্ততা বেড়েছে, কাজের পরিধিও বদলেছে; কিন্তু বন্ধুত্বে তার প্রভাব পড়েনি। সুযোগ পেলেই এখনো একসঙ্গে সময় কাটান, আড্ডা দেন।

এর আগে নিজেদের বন্ধুত্ব নিয়ে জোভান বলেছিলেন, ব্যস্ততা যতই থাকুক, বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া জরুরি। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভালো হয়ে যায়। তাদের আড্ডায় ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে খুনসুটি চলতে থাকে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মন্তব্যে ফুটে উঠল ভক্তদের দ্বন্দ্ব

জোভানের সাম্প্রতিক পোস্টের মন্তব্যেও দেখা গেছে সেই তারকা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘জোভান ভাই আমার কাছে সেরা।’ এর জবাবে আরেকজন লিখেছেন, ‘তৌসিফ ভাই সেরা।’

রাজীব অভি নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ বা পোস্টে ভক্তরা যেভাবে একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া করেন, বাস্তবে তারকারা নিজেরাই একসঙ্গে আড্ডা দেন।

সব মিলিয়ে জোভানের বক্তব্যে উঠে এসেছে তারকা-ভক্তদের সম্পর্কের একটি পরিচিত বাস্তবতা—পছন্দের শিল্পীকে সমর্থন করা এক বিষয়, আর সেই সমর্থনকে কেন্দ্র করে অন্যের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো আরেক বিষয়। দুই অভিনেতার দীর্ঘ বন্ধুত্বের বার্তাটিও তাই স্পষ্ট—পর্দায় প্রতিযোগিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে থাকতে পারে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব।

কালের আলো/এসএ