জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, জনগণের করের অর্থের অপচয় রোধে এবার মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নিউইয়র্ক সফর করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে সফরের নজির থাকলেও এবার তুলনামূলক ছোট বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর করা হয়েছে। তার মতে, এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি বার্তা বহন করে।
চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তরুণদের কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশের সুযোগ এবং যুক্তি, শিক্ষা ও মানবিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ ও বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সফরে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলো আলোচনায় ছিল বলে সরকারি তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—এমন বক্তব্য তিনি ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের বর্তমান অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
সালেহ শিবলী বলেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array