খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাডো গাড়িতে মিলল ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা, আটক ২

কুমিল্লায় একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন-ফয়সাল ও আরমান।

তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায়। পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকার উদ্দেশে মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হবে বলে পুলিশ জানতে পারে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়িটি আগের রাতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল। পরদিন সেটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ইয়াবার চালানের মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া প্রাডো গাড়িটির মালিকানা যাচাই করতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।

পুলিশের দাবি, কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে আটক হওয়া ইয়াবার চালানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় চালান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
গাজার অবরোধ ভাঙতে ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু ‘কেট’ নৌযানের

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে একটি নৌবহরের অভিযানে যোগ দিতে দক্ষিণ ইংল্যান্ড থেকে একটি নৌযান যাত্রা শুরু করেছে।

রোববার ব্রিস্টলের হ্যানোভার কুয়ে-তে জড়ো হন সমর্থকেরা।

প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য পরিচিত এবং গ্রিন পার্টির প্রতিনিধিত্ব থাকা শহরটি থেকে ‘কেট’ নামের নৌযানটির যাত্রা উপলক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌযানটিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা আন্দোলনের ১২ জন কর্মী রয়েছেন।
বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ও ‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুই অ্যাং। ছিলেন ওয়েলসের নার্স লেই ইভান্স, যাকে ২০২৫ সালের জুনে মিসরীয় সেনাদের সামনে হাঁটু গেড়ে গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার দৃশ্যের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়া ছিলেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী মতামত প্রকাশের ঘটনায় সম্প্রতি আইনি লড়াইয়ে জয়ী অধ্যাপক ডেভিড মিলার।
নৌযানটির আইরিশ অধিনায়ক ফিয়াক ও ব্রোলচাইন এর আগেও গাজামুখী একটি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

সে সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার শ্রবণযন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
ব্রোলচাইন বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের তিনি বারবার বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের শুনতে পাচ্ছি না; আপনারা আমার শ্রবণযন্ত্র নিয়ে নিয়েছেন’।

২০১০ সাল থেকে গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা প্রতিটি নৌবহরকে ইসরায়েল বাধা দিয়েছে বা হামলা চালিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক জলসীমায়ও এসব নৌযান আটক বা হামলার শিকার হয়েছে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ফ্রাঙ্ক রোমানো বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ৭৫টিরও বেশি সংহতি প্রকাশকারী জাহাজ ও নৌযান আটক করেছে। এসব নৌযান ফিরিয়ে আনতে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি নৌযান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

রোমানোর নিজের মালিকানাধীন ‘হান্দালা’ নামের একটি নৌযানও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। নৌযানটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ফিলিস্তিনি চিত্রশিল্পী নাজি আল-আলির সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হান্দালা’র নামে।

রোমানো জানান, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বিভিন্ন ধাপে কয়েক ডজন নৌযান রয়েছে। এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। গত বছর প্রথম অভিযান শুরু করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত অক্টোবরে ‘আলমা’ নামের একটি নৌযান ইসরায়েলি বাহিনী আটক করলে থুনবার্গসহ ফ্লোটিলার অন্য যাত্রীদেরও আটক করা হয়। আটক অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নৌযানটিতে ‘ইন ফ্রিডম’ কবিতাটিলেখা রয়েছে |
আরেক আইরিশ অধিকারকর্মী কলম বার্নও আগের কয়েকটি ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর এবার আবারও যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি জানান, এপ্রিলে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকতেই ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নৌযান আটক করে।

বার্নের দাবি, ফ্লোটিলার সদস্যদের লাথি মারা, মারধর করা এবং যন্ত্রণাদায়ক ও অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়। এতে তার কাঁধে আঘাত লাগে।

তিনি জানান, হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের। পরে কারাগারে নেওয়ার পর মাথা নিচু করে হাঁটতে বাধ্য করা হয়। মাথা তুললে চড় মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বার্ন বলেন, ওই আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করলেও ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর যে মাত্রায় নির্যাতন চালানো হয়, তার সঙ্গে এ অভিজ্ঞনার তুলনা চলে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট, বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট, বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা হবে। নতুন ইউনিটের কার্যক্রম ও কাঠামো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ বা সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের খসড়ায় র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‍্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর নগর-জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সুদূরপ্রসারী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নারীবান্ধব ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যা বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের নিরিখে অন্যতম ব্যস্ত এক প্রান্তর, সেখানে নারীদের জন্য প্রতিদিনের গণপরিবহন ব্যবহার যেন এক নিরন্তর সংগ্রাম। কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের চালিকাশক্তি হওয়ার সত্ত্বেও, সড়কে তাদের যাতায়াতের বাস্তবতা বহু বছর ধরেই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তিতে আচ্ছন্ন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে, নবনির্বাচিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাজধানীতে চালু করতে যাচ্ছে নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই উদ্যোগটি আপাতদৃষ্টিতে একটি যুগান্তকারী সামাজিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে নীতি-বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক নগর-পরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ‘গোলাপি বাস’ কি ঢাকার পরিবহন খাতের গভীরে গেড়ে বসা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও নিরাপত্তা সংকটের একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান, নাকি নিছকই একটি প্রতীকী সংস্কার?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের একটি ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৬ আগস্ট পাঠানো বিআরটিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিও স্পষ্ট করে যে, নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দ্রুত দৃশ্যমান করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কৌশলগত। ইশতেহারের একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিকে ক্ষমতার সূচনালগ্নেই নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করা জনমনে ইতিবাচক বার্তা পাঠায়। তদুপরি, এই সার্ভিসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের পদায়ন কেবল নারীদের জন্য পৃথক আসন নিশ্চিত করছে না, বরং পরিবহন খাতের ঐতিহ্যগত পুরুষকেন্দ্রিক শ্রমবাজারে নারীদের সরাসরি অন্তর্ভুক্তির এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

একটি নিরাপদ শহর গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো এর গণপরিবহনে নারীদের অবাধ ও হয়রানিমুক্ত চলাচলের স্বাধীনতা। তবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক গবেষণা চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার গণপরিবহনে যাতায়াতকারী নারীদের ৮৫ থেকে৯০ শতাংশের বেশি জীবনে কোনো না কোনো সময় শারীরিক বা মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভিড়ের সুযোগে স্পর্শকাতর আচরণ, অশালীন মন্তব্য এবং চালক বা সহকারী দ্বারা নিগ্রহের ভয় প্রতিনিয়ত নারী যাত্রীদের তাড়া করে ফেরে।

সাধারণ বাসগুলোতে নারীদের জন্য মাত্র কয়েকটি সংরক্ষিত আসন থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ যাত্রীরা বাসের অনভিপ্রেত ভিড়ের মধ্যে এসব আসন দখল করে রাখেন অথবা সেখানে বসতে চাওয়া নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

চলাচলের অনিরাপত্তা নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগকে সীমিত করে দেয়। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভালো কর্মসংস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন অথবা যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সিএনজি অটোরিকশা বা রাইড-শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হন।

এই জটিল বাস্তবতায় নারীবান্ধব ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালু হওয়া অবশ্যই একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস। সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত বাস সার্ভিস নারীদের জন্য এমন একটি ‘সেফ স্পেস’ বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করবে, যেখানে অন্তত বাস ভ্রমণের পুরো সময়টাতে তাদের কোনো যৌন হয়রানি বা সামাজিক হেনস্তার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরগুলোতে নারীদের জন্য পৃথক পরিবহন সার্ভিস চালুর সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। মেক্সিকো সিটি, টোকিও, কায়রো, জাকার্তা এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস বা ট্রেন কোচ চালু করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দুটি স্পষ্ট ধারা দেখা যায়:

১.স্বল্পমেয়াদে, নারীদের জন্য তৈরি এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বা পৃথক ব্যবস্থা দারুণ ইতিবাচক ফল দেয়। নারী যাত্রীরা মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করেন এবং তাদের ওপর যৌন হয়রানির হার তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়। বিশেষ করে নারী চালক ও কন্ডাক্টর থাকার ফলে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

২.আন্তর্জাতিক নগর-বিজ্ঞানী ও জেন্ডার গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল ‘পিংক বাস’ বা ‘অনলি উইমেন’ সার্ভিস দিয়ে পুরো শহরের নিরাপত্তা সংকট দূর করা সম্ভব নয়। যদি সাধারণ ও মূলধারার গণপরিবহনে পুরুষদের মানসিকতা এবং আইনি প্রয়োগ ব্যবস্থা উন্নত না হয়, তবে এই বিশেষ সার্ভিস উল্টো নারীদের ‘বিচ্ছিন্ন’ করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে। মূলধারার বাসগুলো পুরুষদের একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হতে পারে এবং সেখানে নারীদের যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বিআরটিসির অতীতের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের বিশেষ বা ছকভাঙা উদ্যোগ সূচনাতেই থেমে যাওয়ার এক ধরনের ঝোঁক থাকে। ইতোপূর্বেও নারীদের জন্য ‘লেডিস বাস’ চালু হয়েছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, নির্দিষ্ট রুটে সময়সূচি বজায় রাখতে না পারা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সুতরাং এই নতুন পিংক বাস সার্ভিসের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলার ওপর:

১.সীমিত সংখ্যক বাস ও রুট দিয়ে বিশাল ঢাকার নারী জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব।
পর্যাপ্ত বাস বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং প্রধান প্রধান কর্মজীবী রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো।
২.ভারী যানবাহন চালনায় নারী চালকের স্বল্পতা এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা। বিআরটিসির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা এবং তাদের বিশেষ ভাতা নিশ্চিত করা।
৩.ঢাকার তীব্র যানজটে বাসের নির্দিষ্ট শিডিউল ধরে রাখা কঠিন। ডেডিকেটেড বাস লেইন (BRT) বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
৪.কারিগরি ত্রুটি ও বিআরটিসির প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি। আধুনিক ডিপো সুবিধা এবং নিয়মিত গণতদারকির মাধ্যমে বাসের গুণমান ধরে রাখা।

আমি মনে করি,পিংক বাস সার্ভিসকে নিছক একটি প্রতীকী রাজনৈতিক সাফল্য থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই নীতি সংস্কারে রূপান্তর করতে হলে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে:

পিংক বাসকে মূলধারার গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি সহায়ক শাখা হিসেবে দেখতে হবে, একমাত্র সমাধান হিসেবে নয়। মূলধারার সাধারণ বাসগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, চালক ও কন্ডাক্টরদের জন্য নারীবান্ধব আচরণের ওপর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা (যেমন: মোবাইল কোর্ট বা জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯-এর দ্রুত কার্যকারিতা) সুনিশ্চিত করতে হবে। কেবল বাস নারীবান্ধব হলেই চলবে না; বাস স্টপেজ, ফুটপাত এবং বাস সংযোগস্থলগুলোকে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা কর্মী ও সিসিটিভির আওতায় এনে সার্বিকভাবে নিরাপদ করে তুলতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং ইতিবাচক এক দিকনির্দেশনা। তবে এটি যেন কেবল উদ্বোধনী বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এই ‘পিংক বাস সার্ভিস’ যদি ঢাকার বুকে সফলভাবে সচল রাখা যায়, তবেই তা বাংলাদেশের পরিবহন ইতিহাসে জেন্ডার সমতা ও নাগরিক নিরাপত্তার এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করবে ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com