খুঁজুন
                               
, ,
           

দারিদ্র্য কমানোর নতুন প্রকল্প, পুরোনো মডেলেই ভরসা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
দারিদ্র্য কমানোর নতুন প্রকল্প, পুরোনো মডেলেই ভরসা

দারিদ্র্য কমানোর নামে পাঁচ দশক আগের দুটি মডেলকে নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রস্তাবিত ৫৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্পে ১৯৬০-এর দশকের ‘কুমিল্লা মডেল’ এবং ১৯৭০ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সেমাউল’ মডেলের সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দারিদ্র্য কমানোর সরাসরি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, বিদেশ সফর, ভবন ও সরঞ্জাম কেনায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—দারিদ্র্য কমানোর প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কতটা মানুষের আয় বাড়াবে, আর কতটা অর্থ ব্যয় হবে প্রকল্প পরিচালনার অবকাঠামোতেই?

পুরোনো মডেলেই নতুন প্রকল্প
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘সেমাউল প্লাস অ্যান্ড পোভার্টি প্রোগ্রাম’ (এসপিইপিপি) প্রকল্পটির মেয়াদ আট বছর ছয় মাস। কুমিল্লা, ফেনী ও বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বার্ড ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, সেমাউল মডেলের পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা ও সহযোগিতার সঙ্গে কুমিল্লা মডেলের সমবায়, সঞ্চয়, তদারকির মাধ্যমে ঋণ, স্থানীয় পরিকল্পনা ও কৃষি সম্প্রসারণের ধারণা যুক্ত করা হবে। সরাসরি সহায়তা বা প্রশিক্ষণ পাবেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। প্রায় ২২ হাজার ৮০০ পরিবারকে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে, ছয় দশক আগের কুমিল্লা কিংবা পাঁচ দশক আগের কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বর্তমান বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে কতটা কার্যকর হবে।

বদলে যাওয়া বাস্তবতায় পুরোনো সমাধান
অর্থনীতিবিদদের মতে, সেই সময়ের গ্রাম আর এখনকার গ্রাম এক নয়। তখন যোগাযোগ ও বাজারব্যবস্থা সীমিত থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতি ছিল অনেকটাই স্থানীয়। এখন সড়ক যোগাযোগ, মোবাইল প্রযুক্তি, ডিজিটাল লেনদেন ও বাজার সম্প্রসারণের ফলে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত।

এই বাস্তবতায় শুধু সমবায়, সঞ্চয়, স্থানীয় নেতৃত্ব কিংবা আত্মনির্ভরতার পুরোনো ধারণা দিয়ে দারিদ্র্য কমানোর কৌশল তৈরি করলে বর্তমান অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন ও গ্রামীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান অবশ্য বলছেন, পুরোনো কোনো মডেল হুবহু অনুসরণ করা হবে না। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কুমিল্লা ও সেমাউল মডেলের কার্যকর উপাদান ব্যবহার করা হবে। ২০২৬ সালের বাস্তবতায় ‘সেমাউল প্লাস’কে আধুনিক করে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রশিক্ষণেই ৮৯ কোটি টাকা
প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে প্রশিক্ষণ খাত। ১০৪ কর্মকর্তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ ব্যাচে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। দেশে ৩৮৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণে আরও ৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ মিলিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানোর প্রকল্পে এত বিপুল অর্থ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ব্যয় করা কতটা প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে যে মডেল অনুসরণ করার কথা বলা হচ্ছে, তার মৌলিক ধারণাগুলো নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বহু বছর ধরে কাজ হচ্ছে।

৬১ কোটি টাকার প্রশিক্ষণকেন্দ্র
প্রশিক্ষণ খাতের বড় বরাদ্দের পাশাপাশি কুমিল্লায় একটি ‘এসপিইপিপি প্রশিক্ষণকেন্দ্র’ নির্মাণে ৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১০ দশমিক ৭১ শতাংশই যাবে এই স্থাপনায়।

প্রশ্নটি আরও জোরালো হয় যখন দেখা যায়, প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি আলাদা করে ৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০টি কৃষিপণ্য সংগ্রহকেন্দ্র নির্মাণেও ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

অনুদান, গাড়ি ও সরঞ্জামেও বড় বরাদ্দ
কমিউনিটি অবকাঠামো ও অকৃষি ব্যবসায় ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ এবং কৃষি উপকরণ, কৃষি প্রকল্প ও অবকাঠামোয় প্রায় ৫৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দুই খাতে অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে অফিস সরঞ্জাম ও যানবাহন। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অফিস সরঞ্জামে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ, তিনটি জিপে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ এবং ৪১টি মোটরসাইকেলে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থাৎ প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অনুদান—এই কয়েকটি খাতেই ব্যয় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। দারিদ্র্য কমানোর মূল কার্যক্রমের তুলনায় প্রকল্প পরিচালনার সক্ষমতা তৈরিতে ব্যয়ের এই ভারসাম্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

আগের প্রকল্পের ব্যর্থতার শিক্ষা?
নতুন প্রকল্পের নথিতেই আগের একটি প্রকল্পের টেকসই না হওয়ার কারণ উল্লেখ রয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ২০টি গ্রামে ‘বার্ড-কোইকা’ প্রকল্পে রাস্তা, স্কুল, পানি সুবিধা, কমিউনিটি সেন্টার ও জীবিকা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু বিদেশি অনুদান শেষ হওয়ার পর দুর্বল নজরদারি, স্থানীয় সরকারের কম মালিকানা এবং গ্রাম সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় কার্যক্রম টেকসই হয়নি।

এই অভিজ্ঞতার পরও নতুন প্রকল্পে বড় ব্যয়ে ভবন, বিদেশ প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রশ্ন তুলছে—আগের প্রকল্প টেকসই না হওয়ার যে কারণগুলো নথিতেই চিহ্নিত হয়েছে, নতুন প্রকল্পে সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?

ব্যয়ের বিষয়ে বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনা সভায় ব্যয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে পাঠানো হবে।

শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের সাফল্যের মাপকাঠি হবে ভবন, প্রশিক্ষণ বা বিদেশ সফরের সংখ্যা নয়। বরং প্রকল্প শেষে কত মানুষের আয় বেড়েছে, কত কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং অনুদান-নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উদ্যোগ কতটা টেকসই হয়েছে—সেখানেই ৫৭৩ কোটি টাকার বিনিয়োগের আসল পরীক্ষা।

এম/এএইচ

গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনার বেতাগীতে স্থানীয় উদ্যোগ ও পুঁজিতে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’। গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠা এই কারখানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে নারী, যুবক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে। শহরের শিল্পাঞ্চলে না গিয়েও নিজ এলাকায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে কারখানা
বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক সড়কঘেঁষে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের কাজীর হাটের তুলতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’ নামের এই ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। তবে চলতি বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে এখানে ২৫ জন পোশাকশ্রমিক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীরাও রয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা কারখানাটি এলাকার মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে। গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় শ্রমিকদের অনেককে জীবিকার জন্য দূরের শহরে যেতে হচ্ছে না।

নিজ এলাকায় কাজ পেয়ে স্বস্তিতে শ্রমিকেরা
কারখানার শ্রমিক মনিরুল ইসলাম (৪০) বলেন, শহরে না গিয়ে নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পাওয়ায় গ্রামীণ মানুষের আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

কারখানার আরেক শ্রমিক তানিয়া বেগম (৪৬) জানান, এখানে অসহায় গ্রামীণ নারীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন। নিজের এলাকায় থেকেই উপার্জন করতে পারছেন তিনি। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। শ্রমিক রোকসানা আক্তার (৩৫) বলেন, আগে গ্রামের অনেক নারী ঢাকা, গাজীপুর কিংবা চট্টগ্রামের মতো বড় শিল্পাঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে পারতেন না। এখন বাড়ির কাছেই কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের জন্য উপার্জন করা সহজ হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার আশা
বেতাগী বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুন কৃষ্ণ কর্মকার মনে করেন, বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজারে এই কারখানায় তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে ক্ষুদ্র এই উদ্যোগের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণ, বিদ্যুৎ ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ
ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের প্রসারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসীন খান। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের আধুনিক সেলাই ও পোশাক ডিজাইনের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। উৎপাদিত পোশাক বড় শহর ও বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও জরুরি। তাঁর মতে, এসব সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের বিস্তার কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারসংযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা চান উদ্যোক্তা
গ্রিন লিভ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়ানো এবং আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, গ্রামীণ জনপদে মিনি পোশাক কারখানা গড়ে ওঠা এলাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর ফলে কাজের সন্ধানে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। স্থানীয় পুঁজি, উদ্যোক্তার উদ্যোগ এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা গ্রিন লিভ ফ্যাশন এখন বেতাগীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অচল এক্স-রে ডেন্টাল চেয়ারও বন্ধ

রাজবাড়ী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
অচল এক্স-রে ডেন্টাল চেয়ারও বন্ধ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় দেখা দিয়েছে নানা সংকট। এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ এক্স-রে কক্ষ, আর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডেন্টাল চেয়ার। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলার বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

এক বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার
হাসপাতালটিতে আধুনিক মানের অপারেশন থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সুযোগ না থাকায় যেসব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন, তাঁদের বিকল্প চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াতের দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

টেকনিশিয়ান নেই, তালাবদ্ধ এক্স-রে কক্ষ
হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে জাপানে তৈরি ‘একোমা-১০০’ মডেলের একটি পুরোনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন রয়েছে। ১৯৮৫ সালে স্থাপন করা এই মেশিনটি প্রথম দিকে কয়েক বছর সচল ছিল। পরে পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এতে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বারবার মেরামত করে মেশিনটি কোনো রকমে সচল রাখা হলেও একপর্যায়ে মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। পরে পদটি পূরণ না করায় গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের এক্স-রে করাতে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কম খরচে পরীক্ষা করানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

ডেন্টাল চেয়ার অকেজো, শূন্য চিকিৎসকের পদ
দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। হাসপাতালটিতে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে দাঁতের চিকিৎসার জন্য একটি নতুন ডেন্টাল চেয়ার স্থাপন করা হয়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকে চেয়ারটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিকে, হাসপাতালটিতে ডেন্টাল সার্জন ও মেডিক্যাল ডেন্টাল টেকনোলজিস্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কারিগরি জনবল না থাকায় দাঁতের চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে
হাসপাতালটির বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. রোমেল হাসান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে কক্ষ ও ডেন্টাল সেবা পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি