খুঁজুন
                               
, ,
           

৬০ হাজার কোটি টাকার মাদকের কালো সাম্রাজ্য

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
৬০ হাজার কোটি টাকার মাদকের কালো সাম্রাজ্য

একদিকে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার মাদক ব্যবসা, অন্যদিকে ৭০ লাখ মানুষের আসক্তি—মাদকের এই হিসাব কেবল অর্থের নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক সংকটের চিত্র। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাদকসেবীরা বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন। মাদক নিরাময় কেন্দ্র, এনজিও, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও সরকারি কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয় আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মাদককে ঘিরে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে মানস।

এই বিপুল অর্থের পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ সরবরাহব্যবস্থা। মাঠপর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা দৃশ্যমান হলেও মূল নিয়ন্ত্রকদের বড় একটি অংশ থাকে আড়ালে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

টার্গেট তরুণ প্রজন্ম
মানসের তথ্য বলছে, মাদকাসক্তদের বড় অংশই তরুণ। আসক্তদের ৮০ শতাংশ যুবক এবং ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের বেশি। পুরুষ ৮৪ শতাংশ, নারী ১৬ শতাংশ। গবেষণায় মাদকাসক্তদের ৬০ শতাংশ অপরাধে জড়িত এবং ৫৭ শতাংশ যৌন অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরুপ রতন চৌধুরী বলেন, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মাদক গডফাদারদের ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সামনে বিক্রেতা, পেছনে নিয়ন্ত্রক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সিআইডির সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের অনেকে সরাসরি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত না থেকে আড়াল থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের সরবরাহে এসব সিন্ডিকেটের ভূমিকার তথ্য তদন্তে এসেছে।

অবৈধ ব্যবসা থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্যও সংশ্লিষ্ট তদন্তে উঠে এসেছে। কারও কারও বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার অভিযোগ রয়েছে। ফলে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার নয়, অর্থের উৎস ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কাছে পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সীমান্ত পেরিয়ে রাজধানীর বাজারে
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তপথ দিয়ে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ দেশে ঢোকার অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আসা মাদকের বড় গন্তব্য ঢাকা। রাজধানী থেকে পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

পাশাপাশি সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে অন্যান্য মাদক প্রবেশের তথ্য রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কয়েকটি পয়েন্টও এই নেটওয়ার্কের নজরে রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

বদলেছে বিক্রির কৌশল
মাদকের বাজার এখন শুধু রাস্তার মোড়, গলি কিংবা নির্দিষ্ট স্পটে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোম সার্ভিস, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও কুরিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমেও মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি ক্রাইম জোনের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ মাদকের স্পট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক খুচরা বিক্রেতা কাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানেও অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও নেটওয়ার্কের মূল স্তরে পৌঁছানোই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

অভিযানে বড় সাফল্য
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অবশ্য জোরদার হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ১ মে থেকে চলমান বিশেষ অভিযানে ৫২ লাখের বেশি ইয়াবা, ৫ হাজার ৬৮৯ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ৩৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ৭ হাজার ৭২৫ কেজির বেশি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর মাদক নেটওয়ার্ক ভাঙতে সিআইডিও আলাদা করে কাজ করছে। চার শতাধিক মাদক গডফাদারের মধ্যে ৪০৮ জনের তালিকা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

জেনেভা ক্যাম্পে প্রকাশ্য কারবারের অভিযোগ
তবে অভিযানের মধ্যেও রাজধানীর কিছু এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ পুরোপুরি থামেনি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত অভিযান হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক মাদক মামলার আসামি কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে কারবারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলার অন্তত ৬০ শতাংশ মাদককেন্দ্রিক। ফলে অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহের নেটওয়ার্ক, অবৈধ অর্থ এবং স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা—তিন দিকেই একযোগে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হচ্ছে।

মামলার জট, সামনে আরও বড় পরীক্ষা
মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচারেও তৈরি হয়েছে চাপ। মানসের হিসাবে দেশে মাদক মামলা ঝুলে আছে সাড়ে তিন লাখ। অন্যদিকে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিচারাধীন মাদক মামলার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার বলে জানিয়েছেন। দুই উৎসের পরিসংখ্যানে বড় পার্থক্য থাকায় হালনাগাদ সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত মামলাজট নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে অভিযান ও তদন্ত ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—সীমান্তে চালান ঠেকানো থেকে রাজধানীর খুচরা বাজার বন্ধ করা, দৃশ্যমান বিক্রেতার পাশাপাশি আড়ালের অর্থদাতা ও নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা এবং একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা। কারণ মাদকের এই কালো সাম্রাজ্য শুধু কয়েকজন কারবারির ব্যবসা নয়। এর বিস্তার ঠেকানো না গেলে এর আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে বাড়তে থাকবে সামাজিক ও অপরাধগত চাপও।

কালের আলো/এম/এএইচ

সিটি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
সিটি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি

সিটি ব্যাংক পিএলসি তাদের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ (এফআইসিসি) টিমে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার—ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ’ পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার—ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মস্থল: ঢাকা
পদসংখ্যা:

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সম্মান ডিগ্রিধারী হতে হবে। ব্যাংকিং খাতে ২ থেকে ৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আবেদনকারীর বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

ব্যাংকিং ও ট্রেড ফাইন্যান্স সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা, বিশেষ করে ব্যবসায়িক যোগাযোগে পারদর্শিতা, শক্তিশালী ফলোআপ ও সমন্বয় দক্ষতা এবং সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা থাকতে হবে। এমএস অফিসের এক্সেল, ওয়ার্ড ও পাওয়ার পয়েন্টে দক্ষতাও প্রয়োজন।

দায়িত্ব

নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ট্রেড ফাইন্যান্স–সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রমে এফআইসিসি টিমকে সহায়তা করবেন। এলসি ইস্যুকারী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হবে।

এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের হংকং সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে এলসি রুটিং, বিলের ব্যাংক স্বীকৃতি, মেয়াদ শেষে বিল নিষ্পত্তি, ট্রেড ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও সরবরাহ এবং সুইফট–সংক্রান্ত বিষয় সমন্বয় করতে হবে। বকেয়া বিল পর্যালোচনা এবং এফআইসিসি টিম ও সিটি এইচকেতে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্বও থাকবে।

গ্রাহক ও ব্যাংকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাও পদটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বেতন ও আবেদন

বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

আবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন করতে বিডিজবসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

কালের আলো/এসএ

বহু ভাষায় কাজ, উচ্চারণ নিয়ে ট্রল-মুখ খুললেন রাশমিকা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বহু ভাষায় কাজ, উচ্চারণ নিয়ে ট্রল-মুখ খুললেন রাশমিকা

তেলেগু, কন্নড়, তামিল ও হিন্দি—ভারতের একাধিক ভাষার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন রাশমিকা মান্দানা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই অভিনেত্রী এখন বহুভাষিক তারকা হিসেবে পরিচিত। তবে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর উচ্চারণ ও সংলাপ বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ট্রলের শিকার হতে হয়।

এবার সেই সমালোচনা নিয়েই মুখ খুলেছেন রাশমিকা। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন। বরং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গেই তাঁর আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে। ২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমায় অভিষেকের পর তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান তিনি। পরে তামিল ও হিন্দি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন।

রাশমিকা মনে করেন, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। কাজের সুযোগ ও দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে বিভিন্ন ভাষার সিনেমার দিকে নিয়ে গেছে। তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা হিসেবে দেখেন এবং যে অঞ্চলের দর্শকের জন্য কাজ করেন, তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়।

উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর অবস্থানও স্পষ্ট। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, কোনো একটি ভাষাতেই তিনি ‘খুব ভালো’ নন। অনেক ভাষায় কাজ করলেও নিজেকে কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ মনে করেন না। তাঁর মতে, একাধিক ভাষায় অভিনয় করতে গেলে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে সব সময় শতভাগ নিখুঁত হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। শেখার চেষ্টা এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাশমিকার ক্যারিয়ারও বহুভাষিক পথচলার উদাহরণ। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ ও ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো তেলেগু সিনেমা তাঁকে দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

তবে বহুভাষিক তারকা হওয়ার সঙ্গে বাড়তি চাপও এসেছে। একটি ভাষায় দর্শক যে উচ্চারণে অভিনেত্রীকে অভ্যস্তভাবে দেখেন, অন্য ভাষায় সামান্য পার্থক্যও তাঁদের নজরে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পার্থক্য নিয়েই দ্রুত শুরু হয় আলোচনা ও ট্রল।

রাশমিকা অবশ্য এসব মন্তব্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর কাছে সিনেমা মূলত দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে ভালো করার চেষ্টা করলেও একটি সিনেমার চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

বর্তমানে রাশমিকার হাতে বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রকল্পও রয়েছে। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি সিনেমার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/এসএ

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কূপটি খনন করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় খনন শেষে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক সরবরাহের সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এখন থেকে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। নতুন কূপটি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ায় দেশের গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এমএসআইপি