খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদি আরবে হুথি হামলার নিন্দা নিরাপত্তা পরিষদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে হুথি হামলার নিন্দা নিরাপত্তা পরিষদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও নিন্দা জানায়। জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদ হুথিদের বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদ সতর্ক করেছে, সংঘাত আরও বাড়লে দেশটির ইতিমধ্যে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে পূর্ণ, নিরাপদ, দ্রুত ও অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ৭৩ কর্মীসহ বিভিন্ন এনজিও, সুশীল সমাজ ও কূটনৈতিক মিশনের আটক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

সৌদি আরব রক্ষায় ‘সবকিছু করতে’ প্রস্তুত পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব রক্ষায় ‘সবকিছু করতে’ প্রস্তুত পাকিস্তান

সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি ‘শর্তহীন’।

আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও সরাসরি—দুইভাবেই পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। হারামাইন শরিফাইন—মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ—এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকাগুলো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। একই সময়ে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ রয়েছে; জবাবে রিয়াদও হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তোলে। তবে হুতিরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পাকিস্তান দেশটির পাশে থাকবে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে পাকিস্তানের জনগণের অবস্থানও স্পষ্ট।

পাকিস্তানের এই সামরিক মুখপাত্র জানান, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতায় বর্তমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনালাপ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে আহমেদ শরীফ বলেন, এ বিষয়েও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

কালের আলো/এসএ

হাম কেড়ে নিচ্ছে সঞ্চয়, জমজ সন্তান নিয়ে দিশেহারা মা-বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
হাম কেড়ে নিচ্ছে সঞ্চয়, জমজ সন্তান নিয়ে দিশেহারা মা-বাবা

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত জমজ দুই সন্তানকে নিয়ে দেড় মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন এক দম্পতি। সন্তানদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমানো টাকা শেষ হওয়ার পাশাপাশি গয়না বিক্রি এবং স্বজনদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার করেও চিকিৎসা চালিয়েছেন তারা। এখন হাতে কোনো টাকা না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা বাবা-মা।

চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার গার্মেন্টসকর্মী মিজানুর রহমান ও ইয়াসমিন বেগম দম্পতির জমজ দুই ছেলে ইয়াসিন ও ইয়ামিনের জন্ম চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। জন্মের পর সাত মাস মোটামুটি সুস্থই ছিল তারা। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দুই শিশুর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে শুরু হয় হাসপাতালে ছোটাছুটি।

প্রথমে ইয়াসিনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার কয়েক দিন পর আবারও ১০৪ ডিগ্রি জ্বর, মুখে ঘা ও চোখে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে আবার আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে হাসপাতালে থাকা ইয়াসিনের জমজ ভাই ইয়ামিনও হামে আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইয়াসিন ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে অন্য একটি শিশুর সঙ্গে একই শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ইয়ামিন চিকিৎসাধীন রয়েছে হাম ওয়ার্ডে।

ইয়াসমিন বেগম বলেন, দেড় মাস ধরে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। মাঝখানে মাত্র এক রাত বাসায় থাকতে পেরেছেন। সন্তানদের চিকিৎসায় প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গায়ের সব অলংকার বিক্রি করেছেন এবং বোন ও বোনের জামাইয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার করেছেন। এখন আর কোনো টাকা নেই।

তিনি জানান, তার স্বামী একটি পোশাক কারখানায় মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। সন্তানদের চিকিৎসার জন্য দেড় মাস ধরে হাসপাতালে থাকায় তিনিও নিয়মিত কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।

চট্টগ্রামে বাড়ছে হামের সংক্রমণ

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা ও মহানগর মিলিয়ে সন্দেহজনক হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২২ জন। এর মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং জেলার ১৫ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭০ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৭৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ৭৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম গবেষক ডা. কামরুন নাহার বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ জনের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে একই শয্যায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, হাম শনাক্ত হওয়ার আগেই অনেক রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন। এতে তাদের সংস্পর্শে এসে অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসাও সহজ হবে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

রিয়াদে হামলার সতর্কতার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
রিয়াদে হামলার সতর্কতার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাত ৩টার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে পুরো এলাকা শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে রয়েছে জানিয়ে নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পর এএফপির সাংবাদিকেরা দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। প্রায় ৩০ মিনিট পর হামলার ঝুঁকি কমে গেলে জরুরি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বর্তমানে সৌদি আরবে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। তবে জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এবারই প্রথম সৌদি রাজধানী সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান জোরদার করেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

হুতিদের নৌ অবরোধের কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, গত জুলাই থেকে বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে গত সপ্তাহেও তেলবাহী পাঁচটি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করেছে।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পার্শ্ববর্তী জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

হুতিরা অবশ্য দাবি করে আসছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আন্তর্জাতিক এই জলপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

সূত্রঃএএফপি

কালের আলো/এসএ