খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদির হাতে ৪৮ এফ-৩৫, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
সৌদির হাতে ৪৮ এফ-৩৫, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও ৪৯টি ইঞ্জিন রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১৭ সেপ্টেম্বর এ অনুমোদনের কথা জানায়। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বিক্রি নয়; মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার ধাপও রয়েছে।

ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এই বিক্রি সৌদি আরবের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক প্রযুক্তিগত প্রাধান্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সৌদিকে এফ-৩৫ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে সামঞ্জস্য করা হবে।

কেন এফ-৩৫-এর দিকে রিয়াদের নজর
সৌদি আরব বহুদিন ধরেই এফ-৩৫ কেনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এই যুদ্ধবিমান পেলে দেশটির বিমানবাহিনী এমন একটি প্ল্যাটফর্ম পাবে, যা প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি স্টেলথ, উন্নত সেন্সর ও তথ্য সংযুক্তির সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগায়।

বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন সৌদি আরবের জন্য আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের এফ-৩৫ চাওয়ার পেছনে সামরিক আধুনিকায়ন এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

এফ-৩৫ আসলে কতটা আলাদা
লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ মূলত স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এর নকশার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শত্রুর রাডার ও অন্যান্য শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কাছে বিমানের দৃশ্যমানতা কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে এতে রয়েছে উন্নত সেন্সর ও কম্পিউটিং ব্যবস্থা, যা পাইলটকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিতে এবং বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্রে ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

এর তিনটি প্রধান সংস্করণ—এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি ও এফ-৩৫সি। সৌদির প্রস্তাবিত বিমানগুলো হলো প্রচলিত রানওয়ে থেকে ওঠানামা করতে সক্ষম এফ-৩৫এ সংস্করণ। প্যাকেজে ৪৮টি বিমানের জন্য ৪৮টি ইঞ্জিনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত ইঞ্জিনও রয়েছে।

তিন মডেল, তিন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্র
এফ-৩৫এ সাধারণ বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালনার জন্য তৈরি। এফ-৩৫বি-এর বিশেষত্ব হলো স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও প্রায় উল্লম্ব অবতরণের সক্ষমতা, যা সীমিত রানওয়ে বা ছোট ঘাঁটির জন্য কার্যকর। আর এফ-৩৫সি বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি।

এই তিন সংস্করণের ভিন্নতা দেখায়, এফ-৩৫ কেবল একটি যুদ্ধবিমান নয়; ভিন্ন ধরনের সামরিক পরিবেশে ব্যবহারের জন্য একই প্রযুক্তি পরিবারের একাধিক সংস্করণ।

কেন বদলাল ওয়াশিংটনের অবস্থান
সৌদিকে এফ-৩৫ দেওয়ার পথে দীর্ঘদিন বড় প্রশ্ন ছিল ইসরাইলের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’—অর্থাৎ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইসরাইলের সামরিক প্রযুক্তিগত সুবিধা। সৌদি আরবকে একই শ্রেণির অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান দেওয়ার ফলে সেই ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার পথে এগিয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে বড় প্রতিরক্ষা প্যাকেজের ঘোষণার পর এফ-৩৫ চুক্তির উদ্যোগও সামনে আসে। এবার পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন সেই প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি শুধু ৪৮টি যুদ্ধবিমান কেনাবেচার ঘটনা নয়। সৌদি আরবের হাতে এফ-৩৫ পৌঁছালে দেশটির বিমান সক্ষমতায় নতুন প্রযুক্তিগত স্তর যুক্ত হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি হবে সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন সমীকরণ সামলানোর পরীক্ষা। চুক্তির চূড়ান্ত পরিণতি এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

এম/এএইচ

মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় ১ ঘণ্টায় তিন বাসে আগুন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় ১ ঘণ্টায়  তিন বাসে আগুন 

রাজধানীর মিরপুর ও বাড্ডায় একই সন্ধ্যায় পৃথক তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মিরপুর-১১, মিরপুর-১ ও মধ্য বাড্ডায় এসব ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের পাশে শিকড় পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা যায়নি।

এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর মোড়ে অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বাসটির পেছনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, কে বা কারা বাসটিতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসটি পুরোপুরি পুড়ে যায়নি বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, রাত ৭টা ৫০ মিনিটে মধ্য বাড্ডা ইউ-লুপের নিচে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিপরীতে ‘আলিফ এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি স্টাফ বাসে আগুন লাগে। বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুল জানান, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

বঙ্গোপসাগরে নৌ কূটনীতির নতুন অধ্যায়, বাড়ছে সহযোগিতার পরিসর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে নৌ কূটনীতির নতুন অধ্যায়, বাড়ছে সহযোগিতার পরিসর

বাংলাদেশে চীনের নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চীনা নৌবাহিনীর ‘থাং শান’ ও ‘দা ছিং’ জাহাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এই পরিদর্শনে বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বসহ দু’দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সফরটির গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

  • ‘থাং শান’ ও ‘দা ছিং’ পরিদর্শনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনী প্রধান
  • প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ায় গুরুত্ব

প্রযুক্তি ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে জোর
জাহাজ পরিদর্শনের সময় আধুনিক নৌ সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামকে অবহিত করা হয়। পরে চীনা জাহাজ দুটির কমান্ডিং অফিসার, কর্মকর্তা ও নাবিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ে উঠে আসে দুই দেশের নৌবাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার বিষয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সহযোগিতাটি শুধু সৌজন্য সফরে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশিক্ষণ, নৌ-নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করার আলোচনা হয়েছে। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এছাড়াও মতবিনিময়কালে আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও নৌ-সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বঙ্গোপসাগরে সহযোগিতার নতুন মাত্রা
চীনা নৌবাহিনীর ‘থাং শান’, ‘দা ছিং’ ও ‘থাই হু’ গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে আসে। পাঁচ দিনের এই সফরে পেশাগত যোগাযোগের পাশাপাশি দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সফর শেষে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগের সময় প্যাসেক্স-এ অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। এই ধরনের মহড়া সাধারণত দুই নৌবাহিনীর যোগাযোগ, সমন্বয় এবং পারস্পরিক কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।

নৌ কূটনীতিতে ঢাকার বহুমাত্রিক যোগাযোগ
বাংলাদেশের জন্য বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে, চীনের নৌবাহিনীর এ ধরনের সফর দুই দেশের সামরিক যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধরে রাখার একটি মাধ্যম। এই সফরের তাৎপর্যকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা পর্যায়ের মতবিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়ার মতো কার্যক্রম নৌ কূটনীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।।বিশ্লেষকরা বলেন, চীনা যুদ্ধজাহাজের এবারের সফর বাংলাদেশ-চীন নৌবাহিনীর মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পেশাগত সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

বিশেষ/গাজীপুর/টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, সন্ধানী বার্তা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

আট দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এবার প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রয়োজন হলে দাবি আরও বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে আট দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করারও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। প্রায় সাড়ে চার শ গাড়ির বহর নিয়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করা এই লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

  • ৪৫০ গাড়ির বহরে রংপুরের পথে ১১ দল
  • সরকারকে সতর্কবার্তা, ঢাকামুখী পরবর্তী লংমার্চের ইঙ্গিত

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘আট দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে’
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’ এরপর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এই লড়াই কোনো দলের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম বা বিরতি নেই বলেও জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নাই, বিরতি নাই।’

‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় কেন সম্মান করলেন না’
টাঙ্গাইলের পথসভায় বিএনপি সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না?’ তিনি অভিযোগ করেন, কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন ‘কার্ড’ চায়নি; জনগণ যে বিষয়গুলো চেয়েছিল, সেগুলোই সরকার দিতে পারেনি। এর আগে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। জনগণের দাবির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে—এমন বার্তাও দেন তিনি।

‘১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি’
ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে তাঁদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে এই কর্মসূচি।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল, কিন্তু সরকার সেই রায় অগ্রাহ্য করেছে। তাঁর দাবি, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত করতেই হবে।

তারেক রহমানকে ‘যাওয়ার পথ’ বেছে নেওয়ার কথা বললেন নাহিদ ইসলাম
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে।’

এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলে যারা ছিলেন
টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ মোড়ের পথসভায় শফিকুর রহমানের সঙ্গে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা
এর আগে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে ডা.শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আট দফায় যা আছে
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে।

যমুনা সেতু পার ৪৩০–৪৫০ গাড়ি
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে মূল বহরটি সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো সেতু পার হতে থাকে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত মূল বহরের গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যায়। মূল বহরের আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গাড়ি এবং মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকারযুক্ত কিছু গাড়ি সেতু পার হয়। সব মিলিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

এম/এএইচ