খুঁজুন
                               
, ,
           

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নারীদের হরমোনজনিত ও বিপাকীয় সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের কারণে দেশে বন্ধ্যাত্বের হার বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে চীনসহ উন্নত দেশগুলোর আধুনিক প্রযুক্তি দেশে আনতে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে।

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ। সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।

দেশে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী চিকিৎসকেরা সক্ষম হলেও অনেক রোগী ভারত ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে যান। এতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, বিদেশের সমমানের চিকিৎসা দেশে সম্ভব—এমন আস্থা তৈরি করতে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় থাকা নারীদের দেশে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হবে। চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করা গেলে সেটিকে দেশের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হবে।

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রশংসা করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাদের সহযোগিতা পেলে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক—তারপর সরাসরি বিশ্বমঞ্চ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণের দিকে এখন নজর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের।

  • বাবা জিয়া ও মা খালেদার পর একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিকের জাতিসংঘ অভিষেক
  • গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান কী বার্তা দেন, সেটিই এখন সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভাষণে সরকারের অগ্রাধিকার, সংস্কার কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তিনি। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখাও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে।

গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করার কথা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতিও রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণের মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এসব আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।

জিয়া-খালেদার পর তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসও। একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিক হিসেবে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। ১৯৮০ সালের আগস্টে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়াও জাতিসংঘের বিশ্ব সম্মেলনসহ একাধিক উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বমঞ্চে উঠছেন তারেক রহমান। ফলে তাঁর বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অবস্থান কীভাবে তুলে ধরা হয়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

নিউইয়র্কে স্বাগত প্রস্তুতি
তারেক রহমানের সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে আসার কথা জানিয়েছে দলীয় সূত্র। এদিকে, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ শুরু হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হতে যাচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর—যেদিন প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বইয়ের বাংলা অনুবাদ বিতর্কের পর ফেরত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন। এ সময় হাফেজদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের কয়েকটি করে বই উপহার দেওয়া হয়। এসব বইয়ের মধ্যে ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’-এর বাংলা অনুবাদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে বইগুলো তুলে দেন। পরে বই দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বই ফেরত নেওয়ার তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর, সহায়তা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

১১ দলীয় ঐক্যের সাফ কথা

গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংস্কার নয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংস্কার নয়

সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটি বলেছে, গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জোটের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কারে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা।

  • দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন
  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণসহ সাত দফা দাবি

এ ছাড়া একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

সাত দফায় যেসব সংস্কারের দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তাবিত সাত দফা হলো—১. সংবিধান সংস্কার। ২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন। ৩. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ। ৪. একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ। ৫. নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার। ৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৭. বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার।

‘সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন নয়’
জোটের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর অনেকগুলোই রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক বিন্যাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাদের দাবি, জাতীয় সংসদ সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।

গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু নির্দিষ্ট কিছু সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে মত দেননি; এসব সংস্কার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েও মতামত দিয়েছেন। এ কারণে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

‘গণরায়কে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধীন করা যায় না’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সরাসরি গণভোটে প্রকাশিত সর্বোচ্চ ইচ্ছাকে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক ইচ্ছার অধীন করা যায় না। গণতন্ত্রের মৌলিক দাবি হলো গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানো। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্য জানায়, গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
একই সঙ্গে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গাঠনিক ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানায় জোটটি।

কালের আলো/এম/এএইচ