খুঁজুন
                               
, ,
           

সামুদ্রিক নিরাপত্তা থেকে প্রশিক্ষণ, তুরস্কের সঙ্গে নৌ সহযোগিতার সম্ভাবনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
সামুদ্রিক নিরাপত্তা থেকে প্রশিক্ষণ, তুরস্কের সঙ্গে নৌ সহযোগিতার সম্ভাবনা

বাংলাদেশের নৌ কূটনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে তুরস্ক। বাংলাদেশ ও তুরস্কের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. রামিস সেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

  • নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
  • পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পেশাগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা
  • নৌ কূটনীতিতে ঢাকার ধারাবাহিক যোগাযোগ

দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি নৌবাহিনী পর্যায়ে পেশাগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

সামুদ্রিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা
নৌবাহিনীর পেশাগত সহযোগিতা কেবল সামরিক যোগাযোগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রকেন্দ্রিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও। ফলে তুরস্কের সঙ্গে নৌ পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো বাংলাদেশের সামুদ্রিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করছে।

পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে আরও গভীর করার সুযোগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে সর্বশেষ তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকে ‘ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা’ বিশেষভাবে সামনে আসায় এটি ধারাবাহিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দেখা যায়।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নৌবাহিনী পর্যায়ের পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

জুলাই-আগস্টে আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের আগে জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ২৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন নৌ সদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সামুদ্রিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরদিন ২৯ জুলাই রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর কমোডর ফ্লোটিলা কমোডর সাইমন হাওয়ার্ডের সঙ্গে বৈঠকে পেশাগত সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয় উঠে আসে। আর ৪ আগস্ট ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. ওয়েব কোহলার বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পেশাগত ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সহযোগিতা এবং দুই নৌবাহিনীর সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

নৌবাহিনীর পেশাগত যোগাযোগের সক্রিয় চিত্র
চলতি বছরের ২৩ জুলাই ভাইস এডমিরাল পদে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। পরে ২৩ আগস্ট তিনি এডমিরাল পদে পদোন্নতি পান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৌবাহিনীর পেশাগত যোগাযোগের একটি সক্রিয় চিত্র সামনে এনেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার তুরস্কের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও বিস্তৃত করেছে।

সামনে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিদ্যমান সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা। এর ফলে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কোন নতুন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়, সেদিকে নজর থাকবে।

বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে এই বৈঠক বাংলাদেশের সামুদ্রিক কূটনীতিতে আরেকটি যোগাযোগের ঘটনা হলেও এর আলোচ্য বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নৌ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকগুলো মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক পেশাগত যোগাযোগের পরিসর ক্রমেই আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ