খুঁজুন
                               
, ,
           

সামুদ্রিক নিরাপত্তা থেকে প্রশিক্ষণ, তুরস্কের সঙ্গে নৌ সহযোগিতার সম্ভাবনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
সামুদ্রিক নিরাপত্তা থেকে প্রশিক্ষণ, তুরস্কের সঙ্গে নৌ সহযোগিতার সম্ভাবনা

বাংলাদেশের নৌ কূটনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে তুরস্ক। বাংলাদেশ ও তুরস্কের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. রামিস সেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

  • নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
  • পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পেশাগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা
  • নৌ কূটনীতিতে ঢাকার ধারাবাহিক যোগাযোগ

দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি নৌবাহিনী পর্যায়ে পেশাগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

সামুদ্রিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা
নৌবাহিনীর পেশাগত সহযোগিতা কেবল সামরিক যোগাযোগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রকেন্দ্রিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও। ফলে তুরস্কের সঙ্গে নৌ পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো বাংলাদেশের সামুদ্রিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করছে।

পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে আরও গভীর করার সুযোগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে সর্বশেষ তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকে ‘ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা’ বিশেষভাবে সামনে আসায় এটি ধারাবাহিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দেখা যায়।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নৌবাহিনী পর্যায়ের পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

জুলাই-আগস্টে আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের আগে জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ২৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন নৌ সদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সামুদ্রিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরদিন ২৯ জুলাই রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর কমোডর ফ্লোটিলা কমোডর সাইমন হাওয়ার্ডের সঙ্গে বৈঠকে পেশাগত সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয় উঠে আসে। আর ৪ আগস্ট ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. ওয়েব কোহলার বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পেশাগত ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সহযোগিতা এবং দুই নৌবাহিনীর সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

নৌবাহিনীর পেশাগত যোগাযোগের সক্রিয় চিত্র
চলতি বছরের ২৩ জুলাই ভাইস এডমিরাল পদে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। পরে ২৩ আগস্ট তিনি এডমিরাল পদে পদোন্নতি পান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৌবাহিনীর পেশাগত যোগাযোগের একটি সক্রিয় চিত্র সামনে এনেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার তুরস্কের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও বিস্তৃত করেছে।

সামনে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিদ্যমান সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা। এর ফলে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কোন নতুন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়, সেদিকে নজর থাকবে।

বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে এই বৈঠক বাংলাদেশের সামুদ্রিক কূটনীতিতে আরেকটি যোগাযোগের ঘটনা হলেও এর আলোচ্য বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নৌ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকগুলো মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক পেশাগত যোগাযোগের পরিসর ক্রমেই আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’—কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান,
  • ৭৯ দলের প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে