খুঁজুন
                               
, ,
           

সিএনজি স্টেশনে বাড়ছে অপেক্ষা, কমছে আয়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
সিএনজি স্টেশনে বাড়ছে অপেক্ষা, কমছে আয়

গ্যাসের সংকট এখন সড়কেও দৃশ্যমান। চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস ভরতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি। গ্যাস নিতে আসা তানভির হোসেন বলেন, ‘গাড়ির লাইন বেশি বড় না। কিন্তু আমি এসেছি প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেলো। কেন যেন এক একটি গাড়ির জন্য অনেক সময় লাগছে।’

হিমালয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হিমালয় ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত মঙ্গলবার থেকে গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে গেছে। এতে গাড়িতে গ্যাস ভরতে বেশি সময় লাগছে এবং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।’

গ্যাস সংগ্রহে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করা চালকদের জন্য শুধু সময় নষ্টের বিষয় নয়। এই সময় গাড়ি চালাতে না পারায় কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। গত বুধবার গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ঢাকার খিলক্ষেতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা।

গ্যাস সরবরাহের সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিএনজি স্টেশন মালিকদের দীর্ঘদিনের কমিশন-সংক্রান্ত দাবি। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়। এরপর বিদ্যুত, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাংক কমিশন, জমির ইজারা ও লাইসেন্সসহ প্রায় সব পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কমিশন বাড়েনি বলে জানান স্টেশন মালিকেরা।

এ কারণে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, এটি অতিরিক্ত মুনাফা নয়; বরং গত এক দশকের মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে কমিশন সমন্বয়ের দাবি।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এতে আমাদের খরচ বেড়েছে। সরকার থেকে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলছে। সব মিলিয়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। অথচ গত এক দশকে কমিশন বাড়ানো হয়নি। এসব বিষয় সমন্বয় করা দরকার।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ২০১৭ সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি হিসাব করলে ২০২৪ সালের শুরুতে অতিরিক্ত মার্জিনের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এর সঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আনুপাতিক সমন্বয় বাবদ ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ হওয়ার কথা ছিল বলে দাবি সংগঠনটির।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই কমিশন ৫ টাকা ১০ পয়সা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করা হয়। এর পর গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে পরিচালন ব্যয় আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে বলেও জানায় সংগঠনটি।

ফলে সিএনজি খাতে এখন তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চাপ—একদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে গাড়িতে গ্যাস দিতে সময় লাগছে বেশি, অন্যদিকে দীর্ঘদিন কমিশন না বাড়ায় পরিচালন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্টেশন মালিকেরা।

কালের আলো/এম/এএইচ

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরাকে নিহত বেড়ে ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরাকে নিহত বেড়ে ২০

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া হামলায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) ইরাকের প্যারামিলিটারি গ্রুপ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালায় সৌদি ও মার্কিনিদের যুদ্ধবিমান।

পিএমএফ এক সময় সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকলেও ২০১৬ সালে ইরাকের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তাদের একীভূত করা হয়। এই গ্রুপে আবার আলাদা আলাদা কয়েকটি দল রয়েছে।

পিএমএফ টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বাসরা, কিরকুক, কারবালা এবং দিয়ালাতে তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে একাধিক মিলিটারি সদরদপ্তর, সামরিক যান এবং যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরআগে পিএমএফের ৩০নং ব্রিগেড আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে নিনেভেহ এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাতবার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর শুধুমাত্র সেখানেই ১০ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ আল-জাইদি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, হামলার পর ইরানের নিনেভেহ প্রদেশ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বাসরা প্রদেশেও ধোঁয়া দেখা গেছে।

সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফায়ার ফাইটাররা বাসররা হামলাস্থলে উদ্ধার অভিযানে যাচ্ছেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নির্দেশনায় ইরাকি গোষ্ঠী সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়। আর এর জবাব হিসেবে তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি আরবও হামলার তথ্য স্বীকার করেছে। দেশটি বলেছে, তারা নতুন করে আর উত্তেজনা চায় না। কিন্তু উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে এরজন্য তারা প্রস্তুত।

সূত্র: সিএনএন

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের চরনোমরস্ক বন্দরের কাছে কৃষ্ণসাগরে পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা হয়েছে।

নাবিকদের সংগঠন ফরোয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এফএসইউআই জানিয়েছে, এমভি আমির-১ নামে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

জাহাজটিতে ১৩ ভারতীয় নাবিক-সহ মোট ১৫ জন রয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এফএসইউআই জানিয়েছে, জাহাজের মধ্যে নাবিকেরা আটকা পড়ে আছেন। তারা অত্যন্ত উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

নাবিকদের সংগঠনটি তাদের এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, এম ভি আমির-১ নামে জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের চরনোমরস্ক বন্দরের কাছে নোঙর করেছে। জাহাজে ১৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাদের জীবন সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, বেশ কয়েকবার জাহাজটিকে নিশানা বানানো হয়েছে। সংগঠনের তরফে ভারত সরকার এবং জাহাজমালিকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে ভারতীয় নাবিকদের ওই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বের করে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

সামরিক সংঘাতের মধ্যে পড়ে ভারতীয় নাবিকদের জীবন সংশয় হতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছেন নাবিকরা।

একটি ভিডিও পোস্ট করেছে নাবিকদের সংগঠনটি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জাহাজ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। জাহাজে আগুন লেগে গিয়েছে।

কয়েক দিন আগেও ইউক্রেনে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল। সোমবার (২৭ জুলাই) ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ভারত। পণ্যবাহী জাহাজ এবং নাবিকদের ওপর হামলার নিন্দা করা হয়। গত সপ্তাহে এম ভি ওমরফি নামে আরেকটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি জাতীয় অর্জন: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি জাতীয় অর্জন: সেতুমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি জাতীয় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকা কলেজে আয়োজিত ‘শাশ্বত জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্বের নয়। জুলাই হলো জাতীয় অর্জন। এটি ছিল জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল হচ্ছে জুলাই।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে ছাত্র, জনতা, সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, যার শুরু করেছিল বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্বে সব শ্রেণির মানুষ এক হয়ে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করেছে। আর তাই ২৬ এর নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকেই নির্বাচিত করেছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ