খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন-সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ এর আলোকে আত্মরক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার রূপরেখা-একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ডকট্রিন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতেও নিয়েছেন কার্যকর উদ্যোগ।

নিজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাসের মাথায় এসে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কোন বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বছরের চ্যালেঞ্জিং কর্মমুখর দায়িত্ব পালন শেষে চাকরি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে। শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল একদিন। নতুন দিনের প্রত্যয়ে দিনটি চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’
নির্বাচনী ইশতেহারেই সশস্ত্র বাহিনীর স্বকীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একে সব রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রতিটি পদক্ষেপে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছেন তারেক রহমান। নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়কেই জাগ্রত করলেন আরও একবার। গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তায়। নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে সরকারপ্রধান তারেক রহমান অভিনন্দন জানালেন। তিনি বললেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’। প্রধানমন্ত্রী এক বাক্যেই সব বলে দিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার তাগিদ দিয়েছেন।

  • বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে র‌্যাক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
  • অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান
  • রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় তিন বছরের জন্য নতুন নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত দিনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে কামনা করলেন তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা।

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন।

নতুন নৌবাহিনী প্রধানের এই র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি দিক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নতুন প্রধানদের র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন সরকারপ্রধান কিংবা বাহিনী প্রধানরা। এবার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে। এর মাধ্যমে নতুনকে স্বাগত ও পুরাতনকে সম্মানজনক বিদায়ের রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এমন এক মুহুর্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

এক নজরে নতুন নৌবাহিনী প্রধান
ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়াও ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩, ওয়ারীতে ৮৭, মতিঝিলে ৬৫, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১১৮, গুলশানে ১০৫, উত্তরা বিভাগে ৩৭ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট  তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই তথ্য না আসে যে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সংকট তৈরির সাথে জড়িত।

সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সরকারি গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, সিন্ডিকেট দমনে সরকার কঠোর। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সরকারি গোডাউন এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকে, তবে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভতুর্কির বিষয়ে আলোকপাত করে সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি কেজি ডিএসপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভভর্তুকি প্রদান করছে।

ডিলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের উচিত সরকারকে এই কাজে সহায়তা করা, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানান, ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তাদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি সচিব বলেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত  জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির কেন্দ্রীয় ও জেলার প্রতিনিধি এবং সার ডিলার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার প্রস্তুতি নিতে বললেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার প্রস্তুতি নিতে বললেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে মেধাবী প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, ফুল ও গাছের চারা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্যসচিব মো. এনামুল কাদির, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরের শেষ দিনে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইলের চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

পরে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক ও জনপথের রাস্তা থেকে ডা. আবু আলী ফকিরের রাস্তা পর্যন্ত আরসিসিকরণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ