খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন-সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ এর আলোকে আত্মরক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার রূপরেখা-একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ডকট্রিন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতেও নিয়েছেন কার্যকর উদ্যোগ।

নিজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাসের মাথায় এসে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কোন বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বছরের চ্যালেঞ্জিং কর্মমুখর দায়িত্ব পালন শেষে চাকরি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে। শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল একদিন। নতুন দিনের প্রত্যয়ে দিনটি চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’
নির্বাচনী ইশতেহারেই সশস্ত্র বাহিনীর স্বকীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একে সব রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রতিটি পদক্ষেপে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছেন তারেক রহমান। নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়কেই জাগ্রত করলেন আরও একবার। গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তায়। নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে সরকারপ্রধান তারেক রহমান অভিনন্দন জানালেন। তিনি বললেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’। প্রধানমন্ত্রী এক বাক্যেই সব বলে দিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার তাগিদ দিয়েছেন।

  • বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে র‌্যাক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
  • অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান
  • রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় তিন বছরের জন্য নতুন নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত দিনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে কামনা করলেন তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা।

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন।

নতুন নৌবাহিনী প্রধানের এই র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি দিক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নতুন প্রধানদের র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন সরকারপ্রধান কিংবা বাহিনী প্রধানরা। এবার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে। এর মাধ্যমে নতুনকে স্বাগত ও পুরাতনকে সম্মানজনক বিদায়ের রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এমন এক মুহুর্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

এক নজরে নতুন নৌবাহিনী প্রধান
ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়াও ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তুটি ছিলো আইইডি বোমা : ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তুটি ছিলো আইইডি বোমা : ডিএমপি

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বোমা উদ্ধার করে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।

নিয়াজ মেহেদী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা একটি পরিত্যক্ত ছাতা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় ছাতাটি পরীক্ষা করে এর ভেতরে আইইডি সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান তারা। পরে সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা কর্ডন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং বিষয়টি ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইইডি সদৃশ বস্তুটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিতে কোনো ধরনের হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বস্তুটির প্রকৃত উৎস এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ইউনিট তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কাফরুলে গুলিতে যুবদলকর্মী নিহত, ২ পথচারী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
কাফরুলে গুলিতে যুবদলকর্মী নিহত, ২ পথচারী আহত

রাজধানীর কাফরুলে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও দুই পথচারী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানার মিরপুর-১৩-এর ই-ব্লক এলাকায় ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইউসুফ আলীকে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা পরিচয় দেওয়া মামুন মিয়া নামে হাসপাতালে একজন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে তারা কাফরুল ই-ব্লকের ১ ও ২ নম্বর লিংক রোডে ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

এসময় ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের পাশ দিয়ে কয়েকবার ঘোরাঘুরি করে। একপর্যায়ে ইউসুফ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, গুলির পর আশপাশের লোকজনকে নিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে দেখা যায়, ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন।

এছাড়া দুই পথচারীও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামুন মিয়ার দাবি, ইউসুফ আলী আগে কাফরুল থানা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুবদলের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তার বাড়ি কাফরুলের পশ্চিম বাইশটেকি এলাকায়। গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শাকরাল গ্রামে।

আহতরা হলেন– নালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২)। নালাম সরদার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা, তিনি ফুটপাতে কাঁচামাল বিক্রি করেন। নালাম মাথার ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মনির হোসেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা, তিনি ফুটপাতে কাপড় ব্যবসা করেন। মনির বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ইউসুফের মৃত্যুর তথ্য জানান। তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত দুজন ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কাফরুল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল বলেন, গুলির ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পেছনের কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে কাফরুল থানার একটি সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য

৯০ দিনের মধ্যে ভোট, দ্রুতই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
৯০ দিনের মধ্যে ভোট, দ্রুতই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া আসনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় এই পদটি শূন্য হয়।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুসরণ করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। সে অনুযায়ী ইসি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা চূড়ান্ত করবে।

ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরপরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনা করা হবে অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসনের পদ্ধতির মতো। প্রার্থী একাধিক হলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, আর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায়, আগামী রোববার বা তার পরবর্তী দিনগুলোতে তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করবে ইসি।

খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশবাসী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি