খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন-সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ এর আলোকে আত্মরক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার রূপরেখা-একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ডকট্রিন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতেও নিয়েছেন কার্যকর উদ্যোগ।

নিজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাসের মাথায় এসে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কোন বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বছরের চ্যালেঞ্জিং কর্মমুখর দায়িত্ব পালন শেষে চাকরি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে। শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল একদিন। নতুন দিনের প্রত্যয়ে দিনটি চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’
নির্বাচনী ইশতেহারেই সশস্ত্র বাহিনীর স্বকীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একে সব রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রতিটি পদক্ষেপে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছেন তারেক রহমান। নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়কেই জাগ্রত করলেন আরও একবার। গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তায়। নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে সরকারপ্রধান তারেক রহমান অভিনন্দন জানালেন। তিনি বললেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’। প্রধানমন্ত্রী এক বাক্যেই সব বলে দিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার তাগিদ দিয়েছেন।

  • বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে র‌্যাক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
  • অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান
  • রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় তিন বছরের জন্য নতুন নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত দিনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে কামনা করলেন তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা।

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন।

নতুন নৌবাহিনী প্রধানের এই র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি দিক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নতুন প্রধানদের র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন সরকারপ্রধান কিংবা বাহিনী প্রধানরা। এবার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে। এর মাধ্যমে নতুনকে স্বাগত ও পুরাতনকে সম্মানজনক বিদায়ের রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এমন এক মুহুর্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

এক নজরে নতুন নৌবাহিনী প্রধান
ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়াও ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সভর্তি ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কনটেইনারটিতে শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল থাকায় উদ্বেগে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে আমদানি করা এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কনটেইনারটি ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজে করে গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে আসে।

পরে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কাস্টমস ও বন্দরের প্রয়োজনীয় রাজস্ব ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধের পর গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি কিপ ডাউন ও ডেলিভারি দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ সময় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটিকে কনটেইনারটির অবস্থান খুঁজে বের করতে বলা হয়। পরে ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোঁজ করেও কনটেইনারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি টার্মিনাল ম্যানেজার, এটিও ও টিওকে প্রতিদিন জানানো হয়।

এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, সব ধরনের কাস্টমস ও বন্দরের চার্জ পরিশোধের পর কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির কোনো হদিস মিলছে না। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, অভিযোগের চিঠি তারা পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সব ধরনের নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের অনলাইনে কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীল। অতীতে অনেক অপেশাদার ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মী সাংবাদিক কার্ড পেয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইসির নতুন উদ্যোগে যেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা সহজে কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। তবে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ছাড়াই ওয়েবসাইট চালু করায় আবেদনকারীদের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের আপত্তি ও সমালোচনার পর ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কমিশন।

এবার আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ ও কার্যকর সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাকরি নেই, তবু রোজ দাঁড়ান সড়কে—একনজর দেখবেন প্রধানমন্ত্রীকে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
চাকরি নেই, তবু রোজ দাঁড়ান সড়কে—একনজর দেখবেন প্রধানমন্ত্রীকে

সকাল নয়টা বাজলেই লোকটি এসে দাঁড়ান রাজধানীর রমনার সেই সড়কের পাশে। গায়ে নিরাপত্তাপ্রহরীর পোশাক। হাতে ধানের শীষ। চোখ তাঁর সড়কের দিকে। একসময় এই জায়গাটিই ছিল তাঁর কর্মস্থল। এখন সেখানে তাঁর কোনো চাকরি নেই। প্রায় এক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে পাশের এটিএম বুথটি। চলে গেছে তাঁর কাজও। কিন্তু জায়গাটি ছাড়েননি তিনি। প্রতিদিনের মতো এখনো আসেন। কারণ, এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • হাতে ধানের শীষ, গায়ে পুরোনো নিরাপত্তার পোশাক
  • জীবনের টানাপোড়েনের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদিনের অপেক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন আবদুস সালাম। গাড়ি সামনে দিয়ে চলে গেলে তিনি সালাম জানান। কখনো প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে হাত নাড়ার সাড়া আসে। কখনো হয়তো শুধু এক ঝলক চোখে পড়ে। তারপর গাড়িবহর চলে যায়। আর তাঁর সকালও যেন পূর্ণ হয়। ষাটোর্ধ্ব এই মানুষের কাছে সেই কয়েক সেকেন্ডের দেখাই অনেক।

কর্মস্থল হারিয়েও হারাননি সকাল
রাজধানীর মানিকনগরে ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন আবদুস সালাম। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে এখনো বেকার। ফলে বয়স বাড়লেও সংসারের দায় থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। জীবনের বড় একটা সময় কেটেছে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে। প্রায় ২৫ বছর দূরপাল্লার পরিবহনের চালক ছিলেন। কয়েক বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থমকে যায় তাঁর কর্মজীবন। প্রায় তিন বছর বাড়িতেই ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফেরেন—এবার ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে। সেই চাকরিটিও টিকল না। কিন্তু চাকরি হারানোর পর যে মানুষটির প্রতিদিনের গন্তব্য বদলে যাওয়ার কথা, তাঁর সকালটি বদলায়নি। আগের মতোই পোশাক পরেন। ব্যাগে ধানের শীষ নেন। তারপর চলে আসেন সেই পুরোনো কর্মস্থলের কাছে। কাজ নেই, আয় নেই—তবু এই অভ্যাসে কোনো ছেদ নেই।

অপেক্ষার মধ্যে রাজনীতি, রাজনীতির মধ্যে আবেগ
আবদুস সালামের এই অপেক্ষাকে শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে ব্যাখ্যা করলে গল্পটির বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। এখানে রাজনীতির সঙ্গে মিশে আছে ব্যক্তিগত আবেগ, বিশ্বাস আর এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি কাছে গিয়ে দেখেন না। কথা বলার সুযোগও নেই। গাড়ি থামে না। দূরত্ব থেকেই তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তবু সেই দূরত্ব যেন তাঁর অনুভূতিতে কোনো বাধা তৈরি করেনি।প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি দেখা তাঁর কাছে দিনের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা। গাড়ি না গেলে তাঁর মধ্যে থেকে যায় আফসোস। আর গাড়ি এলে, সালামের জবাব মিললে বা অন্তত একবার চোখে পড়লে, সেই মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে আনন্দের।

একদিনের একটি ঘটনা তাঁর মনে বিশেষভাবে গেঁথে আছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধানের শীষ হাতে দৌড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গাড়ি থেকে হাত নাড়ার ইশারা পেয়েছিলেন। সেই ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়াই তাঁর কাছে বড় পাওয়া হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য হয়তো সেটি ছিল চলন্ত গাড়ি থেকে দেওয়া একটি স্বাভাবিক শুভেচ্ছা। কিন্তু আবদুস সালামের কাছে তা ছিল নিজের ভালোবাসা পৌঁছে যাওয়ার প্রমাণ।

গাড়ি চলে যায়, অপেক্ষা থেকে যায়
রমনার ওই জায়গার চায়ের দোকানদারও এখন তাঁকে চেনেন। প্রতিদিন আসেন, দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রী এলে সালাম দেন, তারপর চলে যান। দৃশ্যটি তাঁর কাছে এখন আর নতুন নয়।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুস সালামের মতো আরও অনেকে নিয়মিত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার অপেক্ষা করেন। কেউ হাত নাড়েন, কেউ চোখের ইশারায় শুভেচ্ছা জানান। গাড়ি থামে না, কথাও হয় না। তবু মানুষের এই ক্ষণিকের যোগাযোগে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অনুভূতি।আবদুস সালামের গল্পে সেই অনুভূতিই সবচেয়ে স্পষ্ট।

জীবনের কঠিন হিসাবেও আনন্দ
একজন মানুষের জীবনে চাকরি হারানো মানে শুধু একটি কর্মসংস্থান হারানো নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংসারের অনিশ্চয়তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিজের চিকিৎসা ও আগামী দিনের চিন্তা।আবদুস সালামের জীবনেও সেই হিসাব আছে।কিন্তু সেই কঠিন হিসাবের বাইরে তিনি নিজের জন্য একটি ছোট্ট আনন্দের জায়গা রেখে দিয়েছেন। প্রতিদিন সকালে সেই জায়গাটিতে এসে দাঁড়ান। পুরোনো পোশাক পরেন। হাতে নেন ধানের শীষ। অপেক্ষা করেন।প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আসে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়। তিনি সালাম জানান।তারপর আবার ফিরে যান নিজের অনিশ্চিত জীবনে। পরদিন সকাল হলে আবার আসেন। চাকরি হারিয়েছেন আবদুস সালাম, কিন্তু হারাননি অপেক্ষা। কারণ তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা শুধু একটি মুহূর্ত নয়—এটি তাঁর দিনের সেই ছোট্ট শান্তি, যা কোনো চাকরি হারানোর সঙ্গে হারিয়ে যায়নি।

কালের আলো/এম/এএইচ