খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন-সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ এর আলোকে আত্মরক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার রূপরেখা-একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ডকট্রিন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতেও নিয়েছেন কার্যকর উদ্যোগ।

নিজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাসের মাথায় এসে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কোন বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বছরের চ্যালেঞ্জিং কর্মমুখর দায়িত্ব পালন শেষে চাকরি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে। শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল একদিন। নতুন দিনের প্রত্যয়ে দিনটি চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’
নির্বাচনী ইশতেহারেই সশস্ত্র বাহিনীর স্বকীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একে সব রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রতিটি পদক্ষেপে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছেন তারেক রহমান। নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়কেই জাগ্রত করলেন আরও একবার। গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তায়। নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে সরকারপ্রধান তারেক রহমান অভিনন্দন জানালেন। তিনি বললেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশনস, আশা করি দেশের জন্য কাজ করবেন’। প্রধানমন্ত্রী এক বাক্যেই সব বলে দিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার তাগিদ দিয়েছেন।

  • বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে র‌্যাক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
  • অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান
  • রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় তিন বছরের জন্য নতুন নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত দিনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে কামনা করলেন তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা।

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন।

নতুন নৌবাহিনী প্রধানের এই র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি দিক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নতুন প্রধানদের র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন সরকারপ্রধান কিংবা বাহিনী প্রধানরা। এবার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়েছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে। এর মাধ্যমে নতুনকে স্বাগত ও পুরাতনকে সম্মানজনক বিদায়ের রাষ্ট্রনায়কোচিত গভীর দূরদৃষ্টিতে অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এমন এক মুহুর্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

এক নজরে নতুন নৌবাহিনী প্রধান
ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়াও ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

পেনশন, আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
পেনশন, আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন অধিকার, আবাসন সংকট, দুর্নীতি ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে নানা দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও সরকারের পদত্যাগ ও নীতির পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, কোথাও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও আগের সহিংসতার ঘটনার পর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অধিকার এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ গ্রেপ্তার কয়েক হাজার
ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে বিক্ষোভের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী প্যারিসেই আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিক্ষোভের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ এক না হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ অনেক ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের পেছনে ভূমিকা রাখছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তেজনা
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

এই আন্দোলনের মধ্যে সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তিরানায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভের কারণে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির পাশাপাশি সংঘর্ষে আহতদের সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

ইতালিতে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ
ইতালির মিলান, রোম, তুরিন, নেপলস, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুদ্ধের বিরোধিতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির আটটি শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইতালিতে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ সামনে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ, আবাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব চাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হচ্ছে।

স্পেনে পেনশন অধিকার রক্ষায় রাজপথে অবসরভোগীরা
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পেনশনভোগী ও তাঁদের সমর্থকেরা অবসরকালীন অধিকার রক্ষার দাবিতে মিছিল করেছেন। তাঁদের প্রধান দাবি, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে না পড়েন। বিক্ষোভকারীরা ন্যূনতম পেনশন ন্যূনতম মজুরির সমান করার দাবিও জানিয়েছেন। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের পেনশনের মধ্যে বৈষম্য কমানো এবং সরকারি পেনশনব্যবস্থা বেসরকারীকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

পেনশনভোগীদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে গেলে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন। তাই পেনশন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরকালীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। মাদ্রিদের এই কর্মসূচি ইউরোপের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে। পেনশনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে যে উদ্বেগ রয়েছে, স্পেনের আন্দোলন তারই একটি উদাহরণ।

পর্তুগালে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি ও ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্য এবং আবাসনসংকটের কারণে অনেকের পক্ষে উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আবাসনব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আবাসনসংকট ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বাড়িভাড়া ও সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিশেষ করে তরুণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

লিসবনের বিক্ষোভে সেই অসন্তোষই প্রকাশ পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আবাসনকে শুধু বাজারের পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে সামনে আসছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট
ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল—দেশভেদে বিক্ষোভের কারণ ও দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও সরকারবিরোধী আন্দোলন, কোথাও যুদ্ধের প্রতিবাদ, আবার কোথাও পেনশন ও আবাসনসংকটকে কেন্দ্র করে মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে এসব আন্দোলনের মধ্যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক অধিকার এবং সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা জনজীবনের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। এসব আন্দোলনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: ইউরোনিউজ, এপি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে লাগে দীর্ঘ সময়। দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াতের এই ভোগান্তিই একসময় নতুন স্বপ্ন দেখায় ভারতের এক তরুণকে। সেই স্বপ্ন থেকেই উড়ন্ত গাড়ি তৈরির উদ্যোগ। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই দীর্ঘ ১৩ বছরের শেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অধ্যবসায়ে বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা।

মানবিক বিভাগে স্নাতক করা তামতার তৈরি এক আসনের এই উড়ন্ত যানের নাম ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’। গত আগস্টে যানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ, নিজস্ব উদ্যোগে হাতে-কলমে কাজ এবং পরিবারের সহায়তায় তিনি ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই উদ্ভাবনের পথে।

তবে প্রোটোটাইপটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হওয়া মানেই এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, এমন নয়। বাস্তবে ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে।

পাহাড়ি পথের ভোগান্তি থেকে উড়ন্ত গাড়ির ভাবনা
রবি তামতার বেড়ে ওঠা উত্তরাখণ্ডের জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখান এলাকায়। পাহাড়ি অঞ্চলের আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ সড়কপথে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির ভাবনা তাঁর মাথায় আসে।

২০১৫ সালে উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন তিনি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে নিজের উদ্যোগ ‘হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে যানটির প্রোটোটাইপ তৈরি করেন।

তামতার লক্ষ্য, দুর্গম অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত সহজ করা। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তাঁকে এই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করেছে।

কীভাবে উড়বে হাপিডা স্কাইনেক্স?
হাপিডা স্কাইনেক্স একটি এক আসনের বৈদ্যুতিক আকাশযানের প্রোটোটাইপ। এর নকশায় একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিরোটর ড্রোনের প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি এই যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে ওঠানামার জন্য নকশা করা হয়েছে।

যানটির কাঠামো হালকা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে চালকের বসার জায়গা বা ককপিট এবং স্বচ্ছ ক্যানোপি রয়েছে। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এটি প্রচলিত বিমানের মতো তরল জ্বালানির ওপর নির্ভর করে না।

তবে বৈদ্যুতিক আকাশযান তৈরির ক্ষেত্রে শুধু উড়তে পারাই যথেষ্ট নয়। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, একবার চার্জে কত দূর যাওয়া যাবে, যানের ভারসাম্য, আবহাওয়ার প্রভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। হাপিডা স্কাইনেক্সের এসব সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানা যায়নি।

ইন্টারনেটই ছিল তাঁর শেখার বড় ভরসা
তামতা স্থানীয় একটি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রচলিত প্রকৌশল শিক্ষা বা বিশেষায়িত গবেষণাগারের সুযোগ না থাকলেও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাঁকে থামাতে পারেনি।

অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত উপকরণ দেখে তিনি নিজের জ্ঞান বাড়িয়েছেন। এরপর হাতে-কলমে পরীক্ষা চালিয়ে উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর বাবা হরিশ রাম পেশায় একজন মেকানিক। পরিবারের সহায়তাও এই দীর্ঘ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে উড়ন্ত যান নির্মাণ অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। নকশা তৈরি থেকে শুরু করে মোটর, ব্যাটারি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরীক্ষা প্রয়োজন। তাই প্রোটোটাইপ তৈরির পাশাপাশি এর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উড়ন্ত গাড়ির আগেও ছিল নানা উদ্ভাবন
হাপিডা স্কাইনেক্সই তামতার প্রথম উদ্ভাবন নয়। এর আগে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক যন্ত্র তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে।

তাঁর উদ্ভাবনের তালিকায় রয়েছে মোবাইল ফোন চার্জ করার সুবিধাযুক্ত জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলে সহায়ক স্মার্ট লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম। বন বিভাগের কাজে ব্যবহার উপযোগী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র তৈরির উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।

এসব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তামতা। এবার উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করে সেই প্রচেষ্টাকে আরও উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্য তাঁর।

দুর্গম এলাকায় যাতায়াতে কতটা কাজে আসবে?
পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ এবং স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক আকাশযানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে এমন যান ব্যবহার করতে হলে এর উড্ডয়নসীমা, বহনক্ষমতা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, আবহাওয়ায় চলার সক্ষমতা এবং পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

হাপিডা স্কাইনেক্সের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় যাচাই করা বাকি। যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই অপরিহার্য।

রবি তামতার উদ্যোগ তাই আপাতত একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা। প্রকৌশল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও শেখার আগ্রহ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন তাঁর তৈরি উড়ন্ত যানটি কতটা নিরাপদ, কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ/জেএন

জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

টোকিওতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক
জাপান সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি সফরকালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায়
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি