খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বর্ষবরণে উৎসবে মাতোয়ারা দেশ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
বর্ষবরণে উৎসবে মাতোয়ারা দেশ

কেউ সেজেছেন কিষান-কিষানি, কেউ জেলে, কেউবা কুমার। কোথাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রূপ, কোথাও গ্রামীণ জীবনের আবহ। রাখাল, ঘটক, বরযাত্রী, হালখাতা, বাউল, বেদে, কাকতাড়ুয়া, কামার, তাঁত, জারিগান ও লাঠিখেলার সাজ—সব মিলিয়ে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ। বৈচিত্র্যময় এসব সাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছেন গ্রামবাংলার হারানো ও চেনা ঐতিহ্য। এমন দৃশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বৈশাখী শোভাযাত্রার। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে কলেজটির স্নাতক পর্যায়ের ১৭টি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বর্ণিল এ আয়োজনে।

উৎসবের আমেজেই সারা দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নতুন বছরকে বরণ কওে দেশের মানুষ। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে ছিল বর্ণিল সব আয়োজন। বিভিন্ন সড়ক রাঙিয়ে তোলা হয় আলপনায়। এদিন ভোর থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে এসব স্থানে নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল গান ও নাচ পরিবেশন করে। আমাদের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো প্রতিবেদকদের খবরে বিস্তারিত।

আমাদের চট্টগ্রাম প্রতিবেদক জানান, নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন—সব খানেই লেগেছে বৈশাখের রঙ। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় রূপ নেয় পুরো নগরী। নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন করে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব। সিআরবি শিরীষতলায় এ আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায় বৈশাখের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই আছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা ও লোকজ সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন। সকাল থেকেই এসব অনুষ্ঠানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন উৎসবে। দিনভর চলে লোকসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় শিল্পীরা। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ‘বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। একইসঙ্গে কাজীর দেউড়িস্থ সিজেকেএস মুক্ত মঞ্চে (আউটার স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নরেন আবৃত্তি একাডেমি। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম ৩১-শে চৈত্র রাতে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে ‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় চট্টগ্রামবাসী। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি নগরীর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, লাভ লেন মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

আমাদের ময়মনসিংহ প্রতিবেদক জানান, ময়মনসিংহে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। এটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। নগরবাসীর নজর কাড়তে শোভাযাত্রায় আবহমান গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণ হাতে নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান, লিটন আকন্দসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৈশাখী মঞ্চে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সময় উদ্যানজুড়ে বসে রঙ বেরঙের বর্ণিল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের গ্রামীণ মেলা। বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলার ঐতিহ্য ঘুড়ি উড়ানো, লাঠি খেলা, রশি টানাটানি ও হাডুডু প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের বরিশাল প্রতিবেদক জানান, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও নানা আয়োজন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। সকাল থেকে নগরজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আবহ। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে নগরীর ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য প্রভাতী অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে রঙ-বেরঙের পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বৈশাখের চিরচেনা গান এসো হে বৈশাখ এসো এসো পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রভাতী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রাখি বন্ধন ও ঢাকের বাদ্যে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে চারুকলার আয়োজনে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বরিশাল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের নানা বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। রঙ-বেরঙের মুখোশ, মুকুট, টোপর, তালপাখা, টিয়া পাখি, টাট্টু ঘোড়াসহ গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ শোভাযাত্রাকে করে তোলে দৃষ্টিনন্দন। এতে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। নববর্ষ উপলক্ষে বরিশাল বিএম স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। সেটিকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে কেনাবেচা ও বিনোদনের আয়োজন। প্রভাতী অনুষ্ঠানে আগতরা জানান, পুরোনো সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতে চান তারা। সবাই মিলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

আমাদের খুলনা প্রতিবেদক জানান, নানা আয়োজনে খুলনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বর্ষবরণ, বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। বৈশাখ উপলক্ষে শহীদ হাদিস পার্কে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও লোকজ মেলা বসে। অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সর্বজনীন উৎসব। বাঙালির লোকসংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা নববর্ষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিগত বছরের যত গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বর্ষে আমরা নতুন করে শুরু করি।’

কালের আলো/এম/এএইচ

কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

আগাম ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ফসলহানির মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না থাকায় জেলার শত শত কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর আগাম ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষকের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন তারা। মাঠের পাকা বোরো ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং হাতে নগদ টাকা না থাকায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি, আলু, সবজি ও ভুট্টার খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফলে আয়ের প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ঈদ আনন্দের বদলে পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের প্রয়োজনীয় সওদা করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, “ফসল হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এবার কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ বাজার করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ওপর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই ধান কাটছি। ঋণ করে আবাদ করেছিলাম, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ধান ভালো হয়নি।

বাজারেও এখন ধানের দাম কম, তাই চরম বিপাকে পড়েছি। ভেবেছিলাম আবাদ ভালো হলে কিছু ধান বিক্রি করে কোরবানি দেব, কিন্তু তা আর হলো না। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও এখনো কিনতে পারিনি।

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার আমেনা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আশা ছিল ধান বিক্রি করে জামা-কাপড় কিনব, এখন দেখছি আর কেনা হবে না।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৩ মে এক দিনেই ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ১৭৬ মিলিমিটার এবং ২১ মে পর্যন্ত ৬১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

সাধারণত প্রতিটি কোরবানির হাটে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০-এর বেশি পশু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পশু বিক্রি হচ্ছে। এই বৈরী পরিবেশ স্থানীয় পশুর হাটসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান, ভুট্টাসহ কাটা ফসল ঘরের শুকনো স্থানে ছড়িয়ে কিংবা উঁচু স্থানে রেখে বাতাস ও রোদে শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

২০ মে পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর এবং রৌমারী উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ৪০০ জন কৃষকের প্রায় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালিয়েছে। র‍্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালান। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় অব্যাহত থাকে।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। বিপরীতে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো জঙ্গল সলিমপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের কমান্ডার হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা অভিযান শুরু করছি। আমরা সেখানে কোনো সন্ত্রাসী পক্ষকে ছাড় দেব না।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নেন।

দীর্ঘ সময় ধরে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয় । অভিযানের সময় অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া রুখতে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ সিল করে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। এরপর জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ এবং র‍্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি  

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। এ সময় ইয়াবাসহ আলো হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ মে বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন রংমহল বিওপি এলাকার রংমহল মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার লক্ষ্মীধোলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. আলো হোসেনকে (১৯) ১৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য পাঁচ হাজার চারশত টাকা।

এছাড়াও একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাথুলি মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য তিন লাখ টাকা।

 অপরদিকে, আজ শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর ব্রিজ মোড় নামক স্থানে আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৫০ বোতল মদ, ১০ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ২৫ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি পাঁচ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি আট লক্ষ আশি হাজার চারশত টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি