খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দুই মাসে ৬০টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
দুই মাসে ৬০টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর
দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র দুই মাসে ৬০টি উল্লেখযোগ্য ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে এবং তিনি বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ সাময়িকীর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রথম দুই মাসেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

picসংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো-

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার কার্ড দেওয়া।
২. কৃষক কার্ড: প্রান্তিক কৃষকদের ১০টি সুবিধা সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু।

৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ।
৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: রেকর্ড সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং গুম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।
৫. নদী খনন: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের কাজ শুরু।
৬. জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি।
৭. সৌরশক্তি: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য।
৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং শুরু।
৯. দ্রব্যমূল্য: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রমজান ও পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
১০. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ।
১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক আধুনিকায়ন।
১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।
১৩. হজ খরচ হ্রাস: হজযাত্রার খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো ও নুসুক হজ কার্ড দেওয়া।
১৪. নিয়োগ পরিকল্পনা: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণে ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা।
pic
১৫. বন্ধ কারখানা: চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
১৬. ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম: হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি।
১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
১৮. জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: বিনিয়োগ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল।
২০. শ্রমিক অধিকার: মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরে শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।
২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু।
২২. ইউরোপে শ্রমবাজার: সার্বিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়াসহ ৭টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি।
২৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
২৪. উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।
২৫. পে-পাল: বাংলাদেশে পে-পাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে আনার কাজ শুরু।
২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেখানে ৮০ শতাংশই নারী।
২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
২৮. শিক্ষা ফি বাতিল: প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বাতিল ও বৃত্তি দ্বিগুণ করা।
২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে পড়তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
৩০. শিক্ষক নিয়োগ: মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
৩১. বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক ও নতুন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।
৩২. নতুন কুঁড়ি: শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু।
pic
৩৩. স্কুল কিট: ২ লাখ শিশুর মাঝে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।
৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স চালু।
৩৫. স্পোর্টস কার্ড: ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ।
৩৬. সবুজ বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু।
৩৭. মিতব্যয়িতা: যমুনার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়িতে অবস্থান ও নিজের গাড়ি ব্যবহার।
৩৮. প্রটোকল সংস্কার: ট্রাফিক জট এড়াতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ ও শনিবারও অফিস।
৩৯. ডিজিটাল ভূমি সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাধ্যতামূলক করা।
৪০. পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।
৪১. মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলককরণ।
৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।
৪৪. টিকাদান কর্মসূচি: বন্ধ থাকা হামের টিকা পুনরায় সারাদেশে চালু।
৪৫. চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান: চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সংস্কার।
৪৬. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস।
৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখলকারীদের ৫ বছরের জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪৮. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি ও লাইট ব্যবহারে কঠোর ১১ নির্দেশনা।
৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।
৫০. জ্বালানি নিরাপত্তা: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ।
৫১. ফুটপাত পুনর্বাসন: ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের কাজ।
৫২. বাকস্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।
৫৩. থার্ড টার্মিনাল: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর পদক্ষেপ।
৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: দেশের বড় সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ফ্রি ওয়াই-ফাই।
pic
৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ।
৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে দূতাবাসের অগ্রাধিকার।
৫৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পানি ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে জোর।
৫৮. অর্থ পাচার রোধ: ১০টি দেশের সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনার চুক্তি।
৫৯. উপকূল রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গত দুই মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো নজির না থাকা ও আইনি সুরক্ষা।সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন।’

গত দুই মাসে সরকারের বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের গত ৬০ দিনের সাফল্যের সাতটি দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে গত দুই মাসে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের মাঝে থাকছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছেন না।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, দেশ সেবা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

আগাম ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ফসলহানির মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না থাকায় জেলার শত শত কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর আগাম ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষকের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন তারা। মাঠের পাকা বোরো ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং হাতে নগদ টাকা না থাকায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি, আলু, সবজি ও ভুট্টার খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফলে আয়ের প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ঈদ আনন্দের বদলে পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের প্রয়োজনীয় সওদা করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, “ফসল হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এবার কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ বাজার করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ওপর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই ধান কাটছি। ঋণ করে আবাদ করেছিলাম, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ধান ভালো হয়নি।

বাজারেও এখন ধানের দাম কম, তাই চরম বিপাকে পড়েছি। ভেবেছিলাম আবাদ ভালো হলে কিছু ধান বিক্রি করে কোরবানি দেব, কিন্তু তা আর হলো না। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও এখনো কিনতে পারিনি।

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার আমেনা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আশা ছিল ধান বিক্রি করে জামা-কাপড় কিনব, এখন দেখছি আর কেনা হবে না।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৩ মে এক দিনেই ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ১৭৬ মিলিমিটার এবং ২১ মে পর্যন্ত ৬১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

সাধারণত প্রতিটি কোরবানির হাটে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০-এর বেশি পশু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পশু বিক্রি হচ্ছে। এই বৈরী পরিবেশ স্থানীয় পশুর হাটসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান, ভুট্টাসহ কাটা ফসল ঘরের শুকনো স্থানে ছড়িয়ে কিংবা উঁচু স্থানে রেখে বাতাস ও রোদে শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

২০ মে পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর এবং রৌমারী উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ৪০০ জন কৃষকের প্রায় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালিয়েছে। র‍্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালান। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় অব্যাহত থাকে।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। বিপরীতে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো জঙ্গল সলিমপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের কমান্ডার হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা অভিযান শুরু করছি। আমরা সেখানে কোনো সন্ত্রাসী পক্ষকে ছাড় দেব না।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নেন।

দীর্ঘ সময় ধরে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয় । অভিযানের সময় অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া রুখতে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ সিল করে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। এরপর জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ এবং র‍্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি  

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। এ সময় ইয়াবাসহ আলো হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ মে বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন রংমহল বিওপি এলাকার রংমহল মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার লক্ষ্মীধোলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. আলো হোসেনকে (১৯) ১৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য পাঁচ হাজার চারশত টাকা।

এছাড়াও একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাথুলি মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য তিন লাখ টাকা।

 অপরদিকে, আজ শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর ব্রিজ মোড় নামক স্থানে আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৫০ বোতল মদ, ১০ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ২৫ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি পাঁচ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি আট লক্ষ আশি হাজার চারশত টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি