খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের এইদিনে আমি সারা বিশ্বের সেইসব সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন।

বুধবার সকালে (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই বিশেষ দিনে তাদের পরিবারকে সম্মাননা জানিয়ে আমি আমার বিশ্বাস থেকে একটি কথা বলতে চাই, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি যতদূর জানতে পেরেছি, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনীতে নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আগামী দিনগুলোতেও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের কারণেই বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুনাম ও অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি আপনাদের সাহস এবং গভীর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

একটি দেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সম্মান এবং সাহসের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব এবং অহংকার অবশ্যই আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুতরাং, এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা সুখ্যাতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপ তৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানারকম তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চললেও ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর উপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল।  সেই আঘাতটির ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। সুতরাং, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো,
‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে কিংবা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানে যেই দায়িত্ব পালন করছি সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট, নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর । এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর মর্ডানাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রাথমিকে শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই চালুর উদ্যোগ, সৃষ্টি হবে ৬০ হাজার কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকে শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই চালুর উদ্যোগ, সৃষ্টি হবে ৬০ হাজার কর্মসংস্থান

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের বিকশিত করতে পারে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

ববি হাজ্জাজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায় সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সংগীত,নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব,দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ারম্যানগণসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে ৪টি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

কালের আলো/এসএকে

বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদন

Oplus_131072

কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার চারা বিতরণ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, জৈব সার, বাঁশের খুঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে চারা বাবদ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জৈব সার (গোবর) বাবদ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাঁশের খুঁটি বাবদ ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চারার প্রজাতি অনুযায়ী কৃষি সহায়তাকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে কৃষক ৩০ কেজি জৈব সার ও একটি করে বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে পাবেন।

ক্যাটাগরি-১ : প্রতিটি নারিকেল চারার জন্য চারা বাবদ ১৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকাসহ মোট ৪১০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ক্যাটাগরি-২ : আম, লিচু, সফেদা, শরিফা, তাল, কাঁঠাল, আতা, তেঁতুল, বাতাবি লেবুসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ৩১০ টাকা। এর মধ্যে চারা ৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৩ : মাল্টা, জলপাই, করমচাসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৪০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৪ : অর্জুন, মেহগনি, সুপারি, আমড়া, আমলকী, নিম, ঘোড়া নিম, জাম, বহেরা, বেল, রেনট্রি কড়ই, খেজুর, কাঠবাদামসহ এ জাতীয় চারার জন্য মোট ব্যয় করা হবে ২৪০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৩০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

সারাদেশে এ কর্মসূচির আওতায় ১৬ লাখ ২৮ হাজার বাঁশের খুঁটি এবং ৪৮ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন জৈব সার বিতরণ করা হবে।

কর্মসূচির শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে বেশকিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘পিপিএ-২০০৬’ ও ‘পিপিআর-২০০৮’ অনুসরণসহ সব আর্থিক বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি কর্র্তৃক বরাদ্দ করা অর্থ উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ছাড় করা হবে। কারা এবং কোন প্রতিষ্ঠান এসব চারা পাবেন তার তালিকা প্রস্তুত করবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন কৃষক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন। বসতবাড়ি, পতিত জমি, খালপাড়, সড়কের পাশের ফাঁকা স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণ করা যাবে।

তারা আরও জানান, তালিকাভুক্ত কৃষকদের ছবিযুক্ত ‘কৃষক কার্ড’ যাচাই করে মাস্টাররোলের মাধ্যমে উপকরণ বিতরণ করতে হবে। কার্ড না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর মাস্টাররোলে সংযুক্ত করতে হবে। প্রকৃত তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়া অন্য কাউকে উপকরণ দেওয়া যাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, চারা, জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিন দেশের সব জেলা ও উপজেলায় চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি সচিব  আরও বলেন, ‘আমরা ধারাবহিকভাবে ৫ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে তা নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পূরণ করব।’

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপজেলা ও জেলা কমিটির মাধ্যমে কৃষক তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত ‘কৃষক তথ্য ছক’ পূরণ করে উপকরণ বিতরণ শুরুর আগেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) বরাবর নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য অর্জনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ সমন্বয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে