খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের এইদিনে আমি সারা বিশ্বের সেইসব সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন।

বুধবার সকালে (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই বিশেষ দিনে তাদের পরিবারকে সম্মাননা জানিয়ে আমি আমার বিশ্বাস থেকে একটি কথা বলতে চাই, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি যতদূর জানতে পেরেছি, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনীতে নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আগামী দিনগুলোতেও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের কারণেই বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুনাম ও অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি আপনাদের সাহস এবং গভীর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

একটি দেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সম্মান এবং সাহসের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব এবং অহংকার অবশ্যই আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুতরাং, এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা সুখ্যাতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপ তৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানারকম তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চললেও ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর উপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল।  সেই আঘাতটির ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। সুতরাং, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো,
‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে কিংবা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানে যেই দায়িত্ব পালন করছি সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট, নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর । এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর মর্ডানাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি

দেশে হাম-সংক্রান্ত রোগে আরও আট শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৯ জনে।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৫৪৭ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জনের। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন।

গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫৬ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ২২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮৬ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৬৬, ময়মনসিংহে ৫০, চট্টগ্রামে ৪৭, বরিশালে ৩৮, খুলনায় ২৩ ও রংপুরে আটজন প্রাণ হারিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম মোকাবিলায় ৪ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিলো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
হাম মোকাবিলায় ৪ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিলো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান

দেশে হাম রোগের চিকিৎসা ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ভেন্টিলেটরসহ প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের জরুরি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েছে কানাডাভিত্তিক ইমিগ্রেশন প্রতিষ্ঠান ‌‌‘স্কশিয়া কনসালট্যান্টস’। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরঞ্জামগুলো হস্তান্তর করা হয়। স্কশিয়া কনসালট্যান্টসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ডা. মো. জামিলুর রহিম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে এসব সামগ্রী তুলে দেন।

চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণকালে দেশের এই ক্রান্তিকালে বেসরকারি খাতের এমন মানবিক ও মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি ডা. জামিলুর রহিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের এই ধরনের সহযোগিতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মহামারি বা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, এমপরি এ্যাংশো মেডিকেয়ার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শাহেদ কামালসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হস্তান্তর করা অত্যাধুনিক ভেন্টিলেটর ও জরুরি সরঞ্জামগুলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আব্দুল্লাহ আল ফিরোজ (৪০)। তিনি ইসলামী ব্যাংকের মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট শাখার ক্যাশ ইনচার্জ। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। প্রায় ৫০ বছর বয়সী অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত এক নারীসহ চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাশ্বের হোসেন খান নিহত ফিরোজের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ফিরোজ নিহত হন। পরে আহত অন্যদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. উজ্জ্বল জানান, তারা নিহত দু’জনেরই  পরিচয় জানেন না। অজ্ঞাত হিসেবে তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর আহত চারজনকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মোহনপুর থানার এসআই মোদাশ্বের হোসেন খান জানিয়েছেন, হতাহতরা সবাই সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়েছেন। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন আইনে থানায় একটি মামলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি