খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, নিজ ধর্ম অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, নিজ ধর্ম অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিন বাজেটের ওপর আলোচনার আগে ‘মাথা ঝুঁকিয়ে’ সম্মান জানানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, কার্যপ্রণালীবিধিতে সংসদে প্রবেশের পর মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এটা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়।

মো. মুজিবুর রহমান আরও বলেন, আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করি সুন্দরভাবে আপনি সালাম দেন। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে একটু দেখা যায় এ রকম করে একটু ওই আগের ঝুঁকুনিটা এখনও আছে। আপনারাও আছেন, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারও আছে।

সেজন্য আমি অনুরোধ করি কার্যপ্রণালী বিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে বিধান করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে। গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে। আমরা উপকার লাভ করবো। ওইদিন স্পিকার এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং গত ১৭ জুন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক সংসদের সভাপতির প্রতি ঝুঁকিয়া সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অফ অর্ডারে অনুরোধ জানান।

বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানানো হবে মর্মে আমি জানিয়েছিলাম। সে প্রেক্ষিতে আমার পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি। কার্যপ্রণালী বিধিতে এই সংক্রান্ত বিধি ২০৬৭ (১)। সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য (বিধি-১) সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ কক্ষ করার সময় এবং তার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।

ওই বিধিটি ২০০৬ সালে সংশোধন করে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখেছি অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সংসদে একটি রিপোর্ট উপস্থাপন করে। রিপোর্টটি ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়, যার মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির ওই সংশোধনীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অতএব আমাদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৭ (১) বিধি থেকৈ ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

হাসপাতাল থেকে ফিরলেন আনসারী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
হাসপাতাল থেকে ফিরলেন আনসারী

স্বাস্থ্যগত জটিলতা কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

গত সোমবার বুকে ব্যথা ও হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ার কারণে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আজ বাসায় ফিরেছি বলেও জানান তিনি।

তিনি লেখেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার জন্য তিনি ও তার পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা, সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান এবং অন্যান্য বাহিনী প্রধান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের আন্তরিক সহযোগিতা, সৌজন্য ও মনোযোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষভাবে দেশের স্বনামধন্য কার্ডিওলজিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলেয়া সুলতানার সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান, পেশাদারত্ব ও মানবিক আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে উল্লেখ করেন।

সিএমএইচে অবস্থানকালে সেখানকার অন্যান্য বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক ছাড়াও অসংখ্য কর্মকর্তা ও সৈনিকের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সম্মান তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও তিনি জানান। সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা প্রকাশ করেন।

সর্বোপরি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য মানুষের দোয়া ও শুভকামনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।তিনি জানান, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং কিছুটা স্থিতিশীল হলে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওয়ানা করবেন, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে কার্যকর না থাকায় আপাতত এই পেজের মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চার বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে নিতে লাগবে আড়াই বছর: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
চার বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে নিতে লাগবে আড়াই বছর: সড়কমন্ত্রী

আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

রবিউল আলম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়েদাবাদ টার্মিনাল ধাপে ধাপে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার বিপরীত পাশে। গাবতলীর টার্মিনাল যাবে হেমায়েতপুরে। ৩০০ ফিট এলাকায় একটি ডিপো এবং কাঁচপুরে আরেকটি ডিপো করা হচ্ছে। কাঁচপুরের ডিপোটি পরে টার্মিনাল হিসেবেই ব্যবহার হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে ওয়ার্কশপের মতো কাজও চলে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে সেখানে রং করা, ডেন্টিং, ইঞ্জিন মেরামতের মতো কাজ করা হয়, যা টার্মিনালের স্বাভাবিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে এসব টার্মিনালকে আলাদা ডিপো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, টার্মিনাল শিফটের কাজ এখনই পুরোপুরি শুরু হয়নি। আপাতত এগুলো ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের আগে টার্মিনালে এসে দাঁড়াবে এবং সময় অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে, স্থায়ী ওয়ার্কশপ হিসেবে নয়। পর্যায়ক্রমে আলাদা ডিপো তৈরি করে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থানান্তর সম্পন্ন করা হবে।

মহাখালী টার্মিনালের জন্য উত্তরা বা আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এর আগ পর্যন্ত ৩০০ ফিট এলাকায় ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেসব বেসরকারি বাস কাউন্টার রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। রাস্তার পাশে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা হবে।

রবিউল আলম বলেন, ঢাকার বাস ব্যবস্থা রুটভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই রুটে একাধিক মালিকানাধীন বাস আলাদা আলাদাভাবে না চালিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করা হবে। এতে নির্দিষ্ট রঙ, মান ও ফিটনেস অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হবে। এছাড়া ইলেকট্রিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টার্মিনালগুলোতে টয়লেট, ফ্যান, অপেক্ষাগারসহ মৌলিক সুবিধা বাড়ানো হবে। এ কাজ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে। পরিস্থিতি উন্নত হলে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও টার্মিনাল উন্নয়নে অংশ নেবে। তিনি বলেন, যাত্রীদের জন্য পরিবেশ উন্নত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টার্মিনাল ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে, তবে পুরো স্থানান্তর শেষ হতে আড়াই বছর সময় লাগবে।

বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে আরও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচv

৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে মাসে ৩২ হাজার টাকা আয়কারী একজন মানুষকে মধ্যবিত্ত বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেরর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এই সীমা এখনও অনেক সাধারণ আয়ের মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, সরকার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা যথেষ্ট নয়।

রমিন বলেন, ‘যার মাসিক আয় ৩২ হাজার টাকা, তার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনিও করযোগ্য আয়ের আওতায় চলে আসেন। প্রশ্ন হলো, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ৩২ হাজার টাকা মাসিক আয়কারী একজন মানুষকে কি মধ্যবিত্তও বলা যায়?’

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আয় বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন বলেন, দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। অন্যদিকে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোট সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

কর ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর নিয়ে রুমিন ফারাহানা বলেন, কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় সহজে শনাক্ত করা যায় এবং যারা নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে থাকে। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় অনেক বেশি, তাদের একটি বড় অংশ এখনও কার্যকরভাবে করের আওতায় আসছে না। তিনি বলেন, আয়করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়, তাদের বড় অংশ এখনও কার্যত করের আওতার বাইরে।

কর কাঠামোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে। বাজেটে প্রত্যক্ষ করের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও পরোক্ষ করের অংশ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

তার মতে, পরোক্ষ কর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমান প্রভাব ফেলে, যা কর ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ করের ভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে।

বাজেট আলোচনায় রুমিন সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং কমে আসা প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সূচক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

তবে বক্তব্যের শুরুতে রুমিন কৃষিপণ্যের উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে এই উদ্যোগ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

করমুক্ত আয়সীমা ও কর কাঠামো নিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা মূলত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের প্রভাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ