খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে তিনি হরমুজ প্রণালীতে টোল বা ফি আরোপ করবেন।

তিনি দাবি করেছেন, এই ফি হবে মধ্যপ্রাচ্যের ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেবা প্রদানের বিনিময়ে’।

ট্রাম্প শনিবার তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালীতে কোনো টোল থাকবে না। এমনকি ৬০ দিন শেষ হওয়ার পরও কোনো টোল থাকবে না, যদি না যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তা আরোপ করে।

তিনি আরও বলেন, যদি চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই টোল আরোপ করা হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, এসব ফি হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে দেওয়া সেবার খরচ পুনরুদ্ধারের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য জাহাজ চলাচল টোল-মুক্ত থাকবে।

এই সময়ে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন একটি ব্যবস্থাপনা কাঠামো নির্ধারণ করবে।
এর ফলে ভবিষ্যতে ইরান প্রণালী ব্যবহারের জন্য ফি আরোপের সুযোগ পেতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে ট্রাম্প এই সপ্তাহে জোর দিয়ে বলেছেন, প্রণালীটি প্রথম ৬০ দিন এবং তার পরেও টোল-মুক্ত থাকবে, যদি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসআর/এএএন

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ‘আছাড় দিয়ে মারার’ হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ‘আছাড় দিয়ে মারার’ হুমকি

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ নামের একটি সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর থেকেই ওই সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১৯ জুন ফটিকছড়িতে বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী তার ওপর চড়াও হন। তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিক নাজিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পরিহিত পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

তৎকালীন সংসদ সদস্যের (এমপি) কর্মসূচি চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন আচরণে উপস্থিত সবার মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। লাঞ্ছনাকালে অভিযুক্ত নেতাকে একাধিকবার এমপির নাম ব্যবহার করতেও শোনা যায়।

ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবদল নেতা চরম উত্তেজিত হয়ে আঞ্চলিক ভাষায় সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই গুন্ডাগিরি কাত্তে শিক্কুজ্জে… এখন ডিলেট গর, আছারি মারি ফেলাইয়ুম, আছারি মারি ফেলাইয়ুম একবেরে ধরি।’

​তিনি সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলার (ডিলিট করার) জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, অন্যথায় মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সাথে এই সংবাদ প্রকাশের পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে, তা নিয়েও উগ্র ভাষায় জেরা করতে দেখা যায় তাকে।

আক্রান্ত সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম বলেন, ​‘আমি জনস্বার্থে ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

​এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও লাঞ্ছনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।

গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ‘সেবা ক্লিনিক’টির লাইসেন্স নবায়ন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসায় গাফিলতিতে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্লিনিকটি সিলগালা ও এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিতর্কিত ওই ক্লিনিকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনিয়মগুলোরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় সমাজসেবার

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় সমাজসেবার

আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছয়টি রোগে আক্রান্তদের বছরে একবার অর্থসহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে গত কয়েক বছরে কয়েকজনকে একাধিকবার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ভুয়া রোগী সাজিয়ে, চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে এবং পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়াই অর্থসহায়তা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটও করেছে তারা।

নীতিমালা অনুযায়ী, চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদান হিসেবে বরাদ্দ করা অর্থ কেবল চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রেই ব্যয় করতে হবে। সরকার আনুষঙ্গিক খাতের ব্যয় মেটানোর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় করেছে।

জানা যায়, সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস প্রভৃতিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ হাজার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ হাজারসহ মোট ৬১ হাজার রোগীর জন্য ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেই বরাদ্দের অর্থ ২৫৯ রোগীকে টাকা না দিয়ে এক কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা টেলেক্স, ফ্যাক্স, কম্পিউটার, স্টেশনারি ক্রয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মানীতে ব্যয় করেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. খায়রুল আলম সেখের বিরুদ্ধে এতিম না থাকা সত্ত্বেও এতিমখানার নিবন্ধন, বরাদ্দগ্রহণ ও বাবার নামে ফাউন্ডেশন গঠন করে সরকারি বরাদ্দ নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দুদকের হাতে। অভিযোগ আছে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধেও। মন্ত্রী থাকাকালে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করার পাশাপাশি ভুয়া রোগী সাজিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, জটিল রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বছরে একবার ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পাবেন। কেউ এক বছরে দুবার আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু ২০১৭-১৮ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮১ জনকে একবারের বেশি অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে৬৮ জনকে দুবার, ১২ জনকে তিনবার এবং একজনকে চারবার অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁও কার্যালয়, ঢাকা জেলা কার্যালয়, যশোর, নড়াইল, রাজশাহী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ ক্যানসার রোগী হিসেবে নোয়াখালীর বাসিন্দা জিসানের রোগনির্ণয়-পরীক্ষার রিপোর্টের কপি দিয়ে চট্টগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। কর্মকর্তারা তাকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দেখান। গাজীপুরের নাছিমা শাহীনের রোগসংশ্লিষ্ট টেস্ট রিপোর্ট নেই, চিকিৎসকের প্রত্যয়ন নেই; তাকেও ঢাকা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়। এভাবে রোগী নয়, তবু ৩০২ জনকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, মাগুরা, খুলনা, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ৫০ হাজার  করে এক কোটি ৫১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বলা আছে, প্রকৃত রোগী যেন সরকারের আর্থিক সহায়তা পায় সে জন্য রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগনির্ণয়-পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগীকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অন্য রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি, চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া আবেদনপত্র, রোগপরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া আবেদনপত্র ও ভুয়া পরিচয়পত্রের বিপরীতে ৩০২ জনকে অর্থসহায়তা দিয়ে সরকারের এক কোটি ৫১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে  রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

রোববার সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর আগে জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন এবং আলোচনার বিভিন্ন কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

এরই মধ্যে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরানি প্রতিনিধিরাও। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মূল আলোচনার আগে শনিবারই ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচক দল জুরিখে পৌঁছেছে। এছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শীর্ষ আলোচনায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারও অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই টেবিলে অংশ নেবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ তার সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে এই শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া একজন শীর্ষ কূটনীতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনার প্রথম দিনের মূল এজেন্ডায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিয়ে একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসার পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ত্রিদেশীয় মধ্যস্থতা আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ এবং লেবানন সরকারের কোনো প্রতিনিধি।

কালের আলো/এসএকে