সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ‘আছাড় দিয়ে মারার’ হুমকি
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ নামের একটি সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর থেকেই ওই সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১৯ জুন ফটিকছড়িতে বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী তার ওপর চড়াও হন। তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিক নাজিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পরিহিত পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
তৎকালীন সংসদ সদস্যের (এমপি) কর্মসূচি চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন আচরণে উপস্থিত সবার মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। লাঞ্ছনাকালে অভিযুক্ত নেতাকে একাধিকবার এমপির নাম ব্যবহার করতেও শোনা যায়।
ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবদল নেতা চরম উত্তেজিত হয়ে আঞ্চলিক ভাষায় সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই গুন্ডাগিরি কাত্তে শিক্কুজ্জে… এখন ডিলেট গর, আছারি মারি ফেলাইয়ুম, আছারি মারি ফেলাইয়ুম একবেরে ধরি।’
তিনি সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলার (ডিলিট করার) জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, অন্যথায় মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সাথে এই সংবাদ প্রকাশের পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে, তা নিয়েও উগ্র ভাষায় জেরা করতে দেখা যায় তাকে।
আক্রান্ত সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম বলেন, ‘আমি জনস্বার্থে ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও লাঞ্ছনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।
গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ‘সেবা ক্লিনিক’টির লাইসেন্স নবায়ন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসায় গাফিলতিতে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্লিনিকটি সিলগালা ও এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিতর্কিত ওই ক্লিনিকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনিয়মগুলোরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array