খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬ এর অধীনে বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই ধরনের সেশন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের তথ্য ও উপাত্ত নির্ভর বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গভীর ধারণা পেতে সংসদ-সদস্যগণ সংসদ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদ-সদস্যদের আগ্রহ এবং সংসদীয় উদ্যোগে নিজেকে ব্যাপৃত করতে পারলে জাতি উপকৃত হবে। জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই সংসদ নিয়ে। তাদের ভবিষ্যৎ চলার রূপরেখা এখান থেকে নির্ধারিত হবে।

স্পিকার বলেন, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইইউর এ ধরনের প্রোগ্রাম সংসদ-সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি এসময় বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, স্বাধীনতা উত্তর সময়ে সংসদ নিয়ে অনেক বেশি জনপ্রত্যাশা ছিল। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জনগণ এই সংসদ পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির আধার এই সংসদ। তথ্যভিত্তিক সংসদ প্রতিষ্ঠায় বাজেট ডিব্রিফিং সেশন কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সুশৃঙ্খল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। স্বাধীনতার পর এমন ভালো বাজেট কখনো হয়নি।

তিনি বলেন, বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়। এক সময় বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সংসদ সদস্যদের অনেক কষ্ট করতে হতো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে এখন সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে এবং বাজেটকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, হুইপসহ আজকের সেশনের আমন্ত্রিত সংসদ-সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/এসএকে

এটা শাহবাগ চত্বর নয় জাতীয় সংসদ: হান্নান মাসউদকে স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
এটা শাহবাগ চত্বর নয় জাতীয় সংসদ: হান্নান মাসউদকে স্পিকার

সংসদ অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ দাঁড়িয়ে কথা বলতে চান নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এ বিষয়ে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বসুন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রীর বক্তব্য শেষ না হতেই সংসদে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। তখন স্পিকার এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হান্নান মাসুদের উদ্দেশে বলেন, ‘হান্নান মাসউদ আপনি বসুন। সংসদে কথা বলার জন্য আপনি যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, দিস ইস নট দ্য নর্ম। মাননীয় সদস্য দয়া করে আপনি বসুন।’

স্পিকার হান্নান মাসউদকে বারবার বসতে বললেও তিনি না বসে দাঁড়িয়ে থাকেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পিকারকে বারবার বলেন কথা বলতে দেওয়ার জন্য।

এরপর স্পিকার বলেন, ‘হান্নান মাসউদ এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। আপনি আপনার সিটে বসুন।’

পরে হান্নান মাসউদ চেয়ার ছেড়ে দুই হাত উঁচিয়ে সংসদে চিৎকার করতে থাকেন।

এরপর ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাড়ে ৪ লাখের বেশি শূন্য পদে নিয়োগ দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সাড়ে ৪ লাখের বেশি শূন্য পদে নিয়োগ দেবে সরকার

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সাড়ে ৪ লাখের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ অনুযায়ী এই চিত্র সামনে এসেছে। সরকারের এই বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ পূরণে ইতোমধ্যেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, যা ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের আওতাভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অর্থাৎ ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং এগুলো ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে অর্থাৎ ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে।

আব্দুল বারী আরও জানান, এই বিশালসংখ্যক শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে ইতোমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে

মামুনুল হক ইস্যুতে এবার নিজের বক্তব্যও এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
মামুনুল হক ইস্যুতে এবার নিজের বক্তব্যও এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জের পর এবার নিজের বক্তব্যও এক্সপাঞ্জ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রোববার (২১ জুন) সংসদ অধিবেশনের শুরুতে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু আশফাক হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের কথিত পরকীয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যা অনভিপ্রেত। যেহেতু যার পক্ষে সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। সেজন্য আবু আশফাকের মন্তব্য আমি এক্সপাঞ্জ করেছি।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বক্তৃতার সময় আমি উল্লেখ করেছিলাম যে কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে বক্তব্য এসেছে। সেই অংশটিও এক্সপাঞ্জ করা হলো। যাঁর পক্ষে সংসদে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ নেই, তাঁর বিপক্ষে বিরূপ মন্তব্য করা উচিত নয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়েন, মুতা বিয়ের নামে—সেটি আসলে কী ছিল?

সেদিন সংসদে আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া তিনি এখনো তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা তিনি চান না।

কালের আলো/এসআর/এএএন