খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কারে যাত্রা শুরু, আসছে আমূল পরিবর্তন: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কারে যাত্রা শুরু, আসছে আমূল পরিবর্তন: ববি হাজ্জাজ

২০২৮ সালে নতুন একটি কারিকুলাম (জাতীয় শিক্ষাক্রম) চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন এ কারিকুলামের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, ২০২৮ সালের কারিকুলাম সংস্কারের যাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, পাঠদক্ষতা, গণিত দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ‘প্রাইমারি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট: গাইডিং প্রিন্সিপাল ফর টেক্সটবুক, টিচার গাইড, রিমেডিয়াল গাইড অ্যান্ড ভিডিও লেসন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যবোধভিত্তিক কাঠামোর ওপর পুনর্গঠন করা হবে। পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্লাস টু বা ক্লাস থ্রির শিক্ষার্থীকে বই পড়তে দিলে সে যেন তা বুঝে পড়তে পারে, নিজের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী হয় সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন কারিকুলামে প্রতিটি শ্রেণির জন্য স্পষ্ট ‘লার্নিং আউটকাম’ এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের অর্জনযোগ্য দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্রোফাইল’ নির্ধারণ করা হবে। এর ভিত্তিতেই পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভিডিও লেসন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সহায়ক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (ইএফপি) প্রদান করা হবে এবং তিন বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে ইএফপি দেওয়া হবে।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের অধিবেশন বসাতে পারেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের অধিবেশন বসাতে পারেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য বিভাগে হাইকোর্টের কোনো স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই, কারণ এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে এবং প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে ঢাকার বাইরে দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের সাময়িক অধিবেশন বসাতে পারেন।

রোববার (২১ জুন) সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের বিভাগওয়ারী হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না, থাকলে তা কবে বাস্তবায়িত হবে এবং না থাকলে তার কারণ কী।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আসন সম্পর্কে সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে কেবল রাজধানীতেই। তবে দেশের মানুষের বিচারিক প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি ঢাকার বাইরে যে কোনো জায়গায় হাইকোর্টের অধিবেশন বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার আইনি বিতর্কটি ঐতিহাসিক ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগে এরই মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। ওই রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাংবিধানিক নিয়মের পরিপন্থি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

ময়মনসিংহে আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। এ সময় মিছিলটি নগরীর জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার এবং গাঙ্গিনাপাড় মোড় ঘুরে স্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল পূর্বসমাবেশে এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, আমরা মাদক, সন্ত্রাস ও চাদাবাজ মুক্ত সমাজ গঠন করতে চাই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আওয়ামী লীগ দৌঁড় মিছিল করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবেলায় বিএনপি রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

এ সময় তারেক রহমানের মানবিক কর্মকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াহাব আকন্দ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নেতৃত্বের গুণাবলী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তাঁর নেতৃত্বে বতর্মান সরকারে প্রতিটি পদক্ষেপ সর্বমহলে হয়ে উঠেছে প্রশংসনী| এজন্য ষড়যন্ত্রকারী মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।’

সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহমেদ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহম্মেদ ভুলু, এম.এ হান্নান খান, এনামুল হক আকন্দ লিটন, কায়কোবাদ মামুন, সৈয়দ শরীফ, রতন আকন্দ, খন্দাকার মাসুদ, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগিতা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কালের আলো/এম/এএইচ

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত

Oplus_131072

বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য এবং এর নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন মন্ত্রী।

এ সময় জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নতুন কোনো ধারণা নয় উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয় এবং চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এ সমীক্ষা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।

মন্ত্রী বলেন, সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনা ও মতামতের আলোকে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীরের স্থিতিশীলতা রয়েছে। একইসঙ্গে চর গঠনের ফলে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থান অনুকূল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মার মতো বৃহৎ নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ কারণে নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে