খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি: শিশির মনির

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি: শিশির মনির

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে পূর্বে যে প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। গণভোটে যদি অধিকাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দেয়, তাহলে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে এবং সংসদ সদস্যরাই সেই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই চেতনা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বাকৃবি ছাত্রশিবিরের অফিস কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

শিশির মনির বলেন, নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে সংসদই পরবর্তী সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট এবং ৩৭টি সংবিধানের বাইরের বিষয়। সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০টিতে ঐকমত্য থাকলেও ১৭টিতে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরের বিষয়গুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলোই সংসদে উপস্থাপন না করে বাতিল করা হয়েছে, ফলে সংস্কারের উভয় ধারায় অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, মূল সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়নে।

শিশির মনির বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না- এমন বিধান থাকা উচিত। পাশাপাশি পারিবারিক রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দলের প্রধান এবং সরকারের প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া উচিত নয়। কারণ একজনের পক্ষে একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।

বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহার সভাপতিত্বে সেমিনারে বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ ড. শহীদুল্লাহ শরীফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দীপু মনির স্বামী আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
দীপু মনির স্বামী আর নেই

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০:২৭ মিনিটে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কোথায় কখন দাফন এবং জানাজা হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে ২০১৯ সালে স্ট্রোক করেন তৌফিক নেওয়াজ। গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দী স্ত্রী দিপু মনির সঙ্গে দেখা করাতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনেরা।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবহমান ধারার দলিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবহমান ধারার দলিল: তথ্যমন্ত্রী

‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবহমান ধারার একটি দলিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, বইটি শুধু সুখপাঠ্য নয়, রাজনৈতিক কর্মী, সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের জন্য সংগ্রহে রাখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সূচিপত্র প্রকাশিত বইটি লিখেছেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বইটি পড়লে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির নানা দিক সামনে আসে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবহমান ধারাটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। আঁকাবাঁকা ও জটিল পথ অতিক্রম করে রাজনীতি কীভাবে রূপান্তরিত, পরিবর্তিত ও বিবর্তিত হয়েছে, বইটির মাধ্যমে তা বোঝা যায়।

তিনি বলেন, মারুফ কামাল খান তার স্মৃতির ভান্ডার থেকে বইটিতে অনেক চরিত্র, ঘটনা ও পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সেখান থেকে রস আস্বাদন ও জ্ঞান আহরণ—দুটিই নির্ভর করবে পাঠকের ওপর।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক, রাজনীতির সঙ্গে বিভিন্ন বৃত্তের সম্পর্ক এবং রাজনীতির সঙ্গে মানুষের প্রবৃত্তির সম্পর্ক—সবই কমবেশি উঠে এসেছে বইটিতে।

তিনি বলেন, বইটির ব্যাপ্তিকালও কম নয়। প্রায় স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক চরিত্র এতে স্থান পেয়েছে। লেখক যেসব চরিত্রকে সামনে এনেছেন, তাদের নানা কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের বিভিন্ন প্রবৃত্তিও ফুটে উঠেছে। কখনো সেখানে সুকুমারবৃত্তির পরিচয় পাওয়া গেছে, আবার কখনো তার বিপরীত চিত্রও সামনে এসেছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি তার বইটি আগেই সংগ্রহ করেছিলাম।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সূচিপত্রের প্রধান নির্বাহী ও প্রকাশক সাঈদ বারী। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

কালের আলো/এম/এএইচ

দলের সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
দলের সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো ভাবেননি যে রাষ্ট্রপতি হবেন। দলের সিদ্ধান্ত ও মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর হেয়ার রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।’

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহসভাপতি ও স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ও বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক ও জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ এবং বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ