খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ইতোমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীনা অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন কাঠামোকে গতি দিয়েছে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রধান আমদানিকারক দেশও। যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কাঁচামাল ও টেক্সটাইল ইনপুটের বড় অংশই দেশটি থেকে আসে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল (রোববার) দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়া গেছেন। এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে আজ (সোমবার) রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে।

আসাদ আলম আরও জানান, সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের শুরুতে দালিয়ানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।

আগামী ২৫ জুন  বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কতৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে এই বাণিজ্যের কাঠামো মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি অংশ তুলনামূলকভাবে কম।

তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ ( জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও জিডিআই এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিভিত্তিক কাঠামো নয়, বরং একটি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এই উদ্যোগগুলোর আওতায় প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চীনের বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, হালকা প্রকৌশল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় উভয়ই বাড়বে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

তাঁর মতে, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখালেও কাক্সিক্ষত মাত্রায় বিনিয়োগ আসেনি।

মোহা. খোরশেদ আলম আরও বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশে কাজে লাগানো গেলে পুঁজিবাজার আরও গভীর ও স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা বাড়লে উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ টানতে হলে সুস্পষ্ট নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এতে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেন ব্যয় হ্রাস পাবে।

চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু বাসসকে বলেন, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তার মতে, এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কতৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে তিনটি মূল বিষয়ের ওপরÑবিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর। এই তিন ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। সূত্র: বাসস।

কালের আলো/এসএকে

মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

ডালাসে ম্যাচের শুরুতেই আধিপত্য বিস্তার করে এগিয়ে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির এক নান্দনিক ও চোখধাঁধানো গোলে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে ১–০ ব্যবধানে লিড নিলো আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের চেনা ছন্দ ও নিখুঁত পাসের সমন্বয়ে গড়া এই গোলটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।

এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।

দলের এই দারুণ মুহূর্তটি গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক মারিও কেম্পেস।

তবে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেন মেসি। ৭ম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি শটটি গোলবারের ডানদিকে দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

সন্ধানী বার্তা/এসআর/এএএন

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই চূড়ান্ত ফর্মে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই আজ গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হওয়ার দারুণ এক সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে। তবে মেসি যেন প্রমাণ করলেন, ফুটবল জাদুকর হলেও তিনিও মানুষ। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে স্পটকিক কাজে লাগাতে না পারলেও ৩৮ মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান তিনি, করেন ঐতিহাসিক গোল, মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক।

এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে ইনজুরি টাইমে আরও এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএমটেন। তাঁর জোড়া গোলেই অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই অস্ট্রিয়ার ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। শুরুতে রেফারি বাঁশি না বাজালেও মার্তিনেজকে চোটে কাতরাতে দেখে খেলা থামান রেফারি।

এরপর ভিএআর চেকের সিদ্ধান্ত হয়। ভিএআরে চেক করে দেখার পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। আর স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। তবে দলকে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

স্পটকিক হালকা চালে শট নিলেও তা লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নেওয়া শট চলে যায় গোলপোস্টের ডান দিকে বেশ বাইরে দিয়েই। পেনাল্টি মিস করে লজ্জার এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ফিফার এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে এখন সবার উপরে আর্জেন্টাইন জাদুকরের নাম।

বিশ্বকাপে এতদিন ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে অনাকাঙ্খিত রেকর্ডটি রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড, ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ড এবং এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেন। প্রথম দুবার গোলকিপার তাঁর শট ঠেকান। এবার মেরেছেন পোস্টের বাইরে।

এদিকে মেসির পেনাল্টি মিসের পর গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াও জমাট রক্ষণে আলবিসেলেস্তেদের পরাস্ত করতে থাকে। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি অস্ট্রিয়ানরাও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল, তবে সেসব কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।

এদিকে গোলের লক্ষ্যে মরিয়া আর্জেন্টিনা ১৯ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পায়। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণ এক পাসে মেসিকে বল এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে শট নেওয়ার সুযোগও ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। তবে শেষ পর্যন্ত নিতে না পারায় গোলের সুযোগ বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটেও মেসি ও এঞ্জো ফার্নান্দেজের রসায়নে আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর আর তা হয়নি।

এদিকে একের পর এক সুযোগ হারানোর পর অবশেষে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বাঁ দিকের উইং থেকে দারুণ এক পাসে বল ডি বক্সে এগিয়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। মাঝে ফাকুন্দো মেদিনার শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি না নিয়ে ডামি ক্রসে বল মেসির পায়ে দেন। আর দারুণ এক শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সেই সঙ্গে ক্লোসাকে তপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, ১৭টি গোলের মালিক। মেসির এই গোলেই এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর ম্যাচের ৫৭ মিনিটে শুরুর একাদশে পরিবর্তন আনেন লিওনেল স্কালোনি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে উঠিয়ে মাঠে নামান নিকোলাস ওতামেন্দিকে। এরপর ৬৪ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। লাওতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেজকে। অস্ট্রিয়াও শুরুর একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে।

এদিকে দুই দলই একাদশে পরিবর্তন আনলেও দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউ। পানি পান বিরতির পর ৭৪ মিনিটে ম্যাচে প্রথম কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বলে গোলের সুযোগ এসেছিল নিকো গঞ্জালেজের সামনে। তবে তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৮১ মিনিটে গোলের সুযোগ এসেছিল অস্ট্রিয়ার। তবে মেদিনা কর্ণারের বিনিময়ে তা প্রতিরোধ করেন। ৮২ মিনিটে ডি পল এবং মেদিনার বদলে লিয়ান্দ্রো পারাদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে মাঠে নামান স্কালোনি।

দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ যেন কিছুটা ঝিমিয়েই পড়েছিল। আর ঝিমিয়ে পড়া সেই ম্যাচ শেষের একেবারে আগমূহুর্তে ফের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন মেসি। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে তখন অস্ট্রিয়া বক্সের ভেতরে ছোটখাটো একটা ঝড়ই বয়ে গেল তখন। সেই ঝড়ে শেষ পর্যন্ত মেসির মুখেই ফুটল শেষ হাসি। প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লাগল। ফিরতি বলটা পেলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর শট ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। আবারও ফিরতি বলে মেসির শট এবং গোল করেন এলএমটেন। তাঁর এই গোলেই দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন শুধুই মেসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন শুধুই মেসির

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। দু’জনেরই বিশ্বকাপে গোল ১৬টি করে। আর একটি গোল করতে পারলেই এককভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন তিনি।

ম্যাচের ৯ম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিলেন। কিন্তু পোস্টের ডান পাশে মেরে দিয়ে সেই রেকর্ড গড়া থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি। এরপর আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। নিশ্চিত গোল মিস হলো। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক তাকে গোল করতে দিলেন না।

অবশেষে ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করলেন তিনি। আলমাদার কাছ থেকে বল পেয়ে মেদিনা সেটা এগিয়ে দেন মেসির কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই বাঁ-পায়ের বুলেট গতির শট। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক জায়গা থেকে নড়ারই সুযোগ পেলেন না। গোল হয়ে গেলো। বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে লিওনেল মেসির গোল এখন ১৭টি। এককভাবে তিনিই এখন উঠে গেলেন শীর্ষে।

আর্জেন্টিনাও এগিয়ে গেলো ১-০ গোলে। এ বিশ্বকাপে মেসির গোল হলো ৪টি।

কালের আলো/এম/এএইচ