খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষার্থীরা

সেশনজট, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং উপস্থিতি গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে অবস্থিত বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কক্ষটিতে তালা ঝুলছিল।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল—‘ছাত্র-ছাত্রীদের বিভাগ না, শিক্ষকদের বিভাগ?’, ‘কিসের অর্ডিন্যান্স, সাড়ে ছয় বছরে অনার্স কেন?’, ‘৯ মাসে এক সেমিস্টার কেন?’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, করোনাকালীন শিক্ষাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না দিয়ে বিভাগটি নানা সময়ে ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা করেছে। এ ছাড়া মাস্টার্সে উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন কোর্স শিক্ষকেরা। একটি ক্লাসের বিপরীতে একটি উপস্থিতি দেওয়ার কথা থাকলেও তিন-চারটি করে উপস্থিতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে সেদিন ক্লাসে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীরা একদিন না থাকায় কয়েকটি উপস্থিতি হারিয়ে ফেলেছেন।

 

এসব কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতির কোটা পূরণ করতে পারেননি। তাঁদের দাবি সুযোগ না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, ‘আমাদের অনার্স শুরু হয় ২০২০ সালে, কিন্তু শেষ হতে প্রায় ছয় বছর লেগেছে। মাস্টার্সও দেরিতে শুরু হয়েছে। কিছু শিক্ষক উপস্থিতি গণনায় অনিয়ম করেছেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি পূরণ করতে পারেনি। বিষয়টি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সমাধান পাইনি, তাই আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে তালা দিয়েছি।’

একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি বলেন, ‘করোনাসহ বিভিন্ন কারণে চার বছরের অনার্স শেষ হতে আমাদের প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছে। ফল প্রকাশেও বিলম্ব হয়েছে। অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু শেষ হয়েছে ২০২৬ সালে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি ক্লাসে একাধিকবার উপস্থিতি ধরা হচ্ছে, ফলে কিছু শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় উপস্থিতি পূরণ করতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সমাধান চাই।’

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের সভাপতি রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের নিচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। আজ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তারা সবাইকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃগোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।

বৈঠকে সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটির নেতারা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চীনের ডালিয়ান সফর শেষে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছান। এর আগে দুপুর দুইটায় তিনি ডালিয়ান থেকে বিশেষ হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে আজ সকালে ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী এই মূল সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় তারা পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের অধিক প্রতিনিধি, শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, শিল্প খাতের রূপান্তর এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। বেইজিং সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

কালের আলো/এসএকে

হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৯ জন শিশু।

বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৮৯ জন শিশু। এ সময়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন