খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুই কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

Oplus_131072

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে ১২ জেলার ৫৮ উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে দুর্গম অঞ্চলে রাউন্ড বা ক্যাম্পেইন পরবর্তী চারদিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআই’র নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীতে শাহবাগস্থ আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (তাদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচার পত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনা—বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর পঞ্চম আসরে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’ দর্শকপ্রিয়তার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সিনেমাটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন, শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং বদলে যাওয়া বিনোদনজগৎ নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পুরস্কারের বাইরেও দর্শকের ভালোবাসাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

উপস্থাপনায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না সুনেরাহ
২০২২ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রথম আসরে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুনেরাহ। তবে উপস্থাপনা তাঁর জন্য খুব সহজ কোনো কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। সুনেরাহর ভাষ্য, স্বভাবগতভাবে তিনি কিছুটা লাজুক। মানুষের সামনে কথা বলা কিংবা সাক্ষাৎকারে নিজের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন। ধীরে ধীরে সেই জড়তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, আগে তিনি এখনকার মতো এতটা কথা বলতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে মানুষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। ফলে উপস্থাপনা ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

শাস্ত্রীয় নৃত্যে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের
অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যেও প্রশিক্ষণ রয়েছে সুনেরাহর। তবে তাঁর এই দক্ষতার কথা অনেকেরই জানা ছিল না। ওটিটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ‘পাতার বাঁশরি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নিজের এই প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সুনেরাহ মনে করেন, ওই পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক দেখার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই যে তাঁর শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতেন না, সেটিও উপলব্ধি করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করাও ছিল তাঁর জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা। দুজনের ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলে জানান সুনেরাহ। মহড়ার সময় ইরফানকে নাচের ধাপ শেখাতে হয়েছে তাঁকে। বারবার অনুশীলন করার কারণে নিজের পরিবেশনাও আরও ভালো হয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সহশিল্পীকে শেখানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি মনোযোগী করেছে।

‘দাগি’ নিয়ে দর্শকের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি
সুনেরাহ অভিনীত ‘দাগি’ সিনেমাটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। সম্প্রতি ছবিটি দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কারও জিতেছে। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেকে তাঁকে প্রশ্ন করছেন, এত প্রশংসা পাওয়ার পরও তিনি কেন ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে সুনেরাহ জানিয়েছেন, ছবিটি মুক্তির পর থেকে এমন প্রশ্ন তাঁকে বারবার শুনতে হচ্ছে। দর্শকেরা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন এবং পুরস্কার জেতার পরও তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছেন।

তবে পুরস্কারকেই স্বীকৃতির একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে একটি সিনেমার সামগ্রিক সাফল্য এবং দর্শকের ভালোবাসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনেরাহর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান ছবিটি ভালো করুক। কারণ, ‘দাগি’তে তিনি একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির সাফল্য তাঁর কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যক্তিগত পুরস্কার না পেলেও দর্শকের প্রশংসা তাঁর কাজের জন্য বড় প্রাপ্তি।

ভেনিস উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন সুনেরাহ। সেখানে ছবিটি দর্শকেরা কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা জানার বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিনেত্রী জানান, প্রদর্শনীর সময় তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন লাগছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকেরা সিনেমাটি উপভোগ করেছেন এবং বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করেছেন।

ছবিতে তাঁর বিয়ের সাজও দর্শকদের নজর কেড়েছে। একজন দর্শক জানতে চেয়েছিলেন, পুরো সিনেমাজুড়ে কীভাবে একই ধরনের বিয়ের সাজ বজায় রেখেছিলেন তিনি। সুনেরাহ জানান, ভারী লেহেঙ্গা, পূর্ণাঙ্গ বিয়ের সাজ এবং হাতে-পায়ে আলতার মতো রং ব্যবহার করে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী কনের সাজে থাকতে হয়েছে। প্রতিদিন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যেত। এমনকি মাথায় ঘোমটা ঠিকভাবে আটকে দেওয়ার পর শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুমে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানান তিনি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। তবে পর্দায় সেই সাজ সুন্দরভাবে ফুটে ওঠায় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

ইউটিউব নাটক নিয়ে বদলে যাচ্ছে দর্শকের অভ্যাস
বর্তমানে ইউটিউব নাটকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দর্শকের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় বিনোদনশিল্পকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সুনেরাহ। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা এবং দ্রুত এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়ার অভ্যাস দর্শকের মনোযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে ইউটিউব কনটেন্ট দেখার সুযোগও এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দর্শকের এই পরিবর্তনকে শুধু ইউটিউব নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, সব মাধ্যমেই মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। সুনেরাহ মনে করেন, নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে যেসব মানের কাজ দর্শকেরা দেখেন, স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা, সিরিজ ও টেলিভিশন নাটক—সব ধরনের কনটেন্টেরই প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ, প্রতিটি মাধ্যমের দর্শক আলাদা এবং তাঁদের পছন্দও ভিন্ন। তাই দর্শকের রুচি ও চাহিদা বুঝে মানসম্মত কাজ তৈরি করতে পারলেই বিনোদনশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কনটেন্টের মান নিয়ে ভাবছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তাঁর কথায় উঠে এসেছে, পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দর্শকের ভালোবাসা, কাজের মান এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতাও একজন শিল্পীর পথচলায় সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

ছোট্ট দোয়েল যেভাবে হয়ে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অংশ

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ছোট্ট দোয়েল যেভাবে হয়ে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অংশ

ভোরের নীরবতা ভেঙে ভেসে আসে সুমিষ্ট ডাক। গাছের ডালে বসে কালো-সাদা ছোট্ট পাখিটির সেই সুর চেনেন অনেকেই। এটি দোয়েল—বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। আকারে ছোট হলেও এ পাখি বাঙালির প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও পরিচিতির সঙ্গে মিশে আছে গভীরভাবে। কিন্তু দেশের জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েলকেই কেন বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনে রয়েছে পাখিটির সহজ পরিচিতি, সুরেলা ডাক এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক।

স্বাধীনতার পর জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন নিজস্ব জাতীয় পরিচিতি ও প্রতীকগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করছিল, তখন দোয়েল জায়গা করে নেয় জাতীয় পাখির মর্যাদায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেন এ পাখিকে জাতীয় পাখি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে দোয়েল নির্বাচনের পেছনে একটিমাত্র কারণ ছিল—এমনটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। পাখিটির পরিচিতি, সুরেলা ডাক এবং দেশের প্রকৃতির সঙ্গে এর সহজাত সম্পর্ক একে বিশেষভাবে স্বতন্ত্র করেছে। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর—বিভিন্ন পরিবেশে দোয়েলের উপস্থিতিও এর পরিচিতি বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।

কালো-সাদা রূপ, সুরেলা ডাক
দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। ছোট আকৃতির এই পাখির পুরুষটির শরীরের ওপরের অংশ সাধারণত কালো এবং বুক ও পেট সাদা। স্ত্রী পাখির রং তুলনামূলক ধূসর। লম্বায় প্রায় ২০ সেন্টিমিটারের এই পাখিকে চেনা যায় এর স্বতন্ত্র রং, লেজের নড়াচড়া এবং সুরেলা ডাকের মাধ্যমে।

দোয়েলের অন্যতম আকর্ষণ তার কণ্ঠ। ভোরবেলায় এর ডাক বিশেষভাবে শোনা যায়। বিভিন্ন সুরে ডাকতে পারে পাখিটি; কখনো অন্য পাখির ডাকের অনুকরণও করে। বাংলার প্রকৃতি ও লোকজ জীবনে দোয়েলের এই সুরেলা উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।

প্রকৃতির বন্ধু দোয়েল
দোয়েল সাধারণত মাটিতে নেমে খাবার খোঁজে। পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা ও অন্যান্য ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী এর খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাগান, উঠান কিংবা গাছপালার আশপাশে খাবার খুঁজতে দেখা যায় এই পাখিকে। ক্ষতিকর কিছু পোকামাকড় খাওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।

এ পাখি সাধারণত গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক কিংবা উপযুক্ত গোপন স্থানে বাসা বাঁধে। ডিম ও ছানার যত্নে মা-বাবা উভয় পাখিই ভূমিকা রাখে। প্রজননের সময় নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া দোয়েলের বংশবিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় পাখি হয়েও কি নিরাপদ দোয়েল?
জাতীয় পাখির মর্যাদা থাকলেও দোয়েলের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস রক্ষা করা জরুরি। নগরায়ণের ফলে গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে গেলে পাখিটির খাবার খোঁজা এবং বাসা তৈরির উপযুক্ত স্থানও সীমিত হতে পারে। কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার পোকামাকড়ের প্রাপ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা পোকাভুক পাখিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তবে দেশের সর্বত্র দোয়েলের সংখ্যা কমে গেছে বা এটি নিশ্চিতভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য জরিপ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে পাখিটির উপস্থিতি কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও তা দিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না।

দোয়েলকে রক্ষা করা কেন জরুরি?
জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি দেশের জীববৈচিত্র্যেরও অংশ। বাড়ির আশপাশে গাছপালা রাখা, পাখির বাসা নষ্ট না করা, অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণে সচেতন হওয়া—এসব উদ্যোগ দোয়েলসহ অন্যান্য দেশীয় পাখির জন্য সহায়ক হতে পারে।

দোয়েলকে জাতীয় পাখি হিসেবে চেনা সহজ, কিন্তু এর অস্তিত্ব রক্ষার দায়িত্বও আমাদের। ভোরের সেই সুরেলা ডাক যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও শুনতে পায়, সে জন্য প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: বার্ড ক্লাব বাংলাদেশ

কালের আলো/এসএ/জেএন

মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির একাধিক বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেশটির বিভিন্ন স্থানে পড়ে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মক্কার বাইরে ওয়াদি মুঘামাস, জেদ্দার আল-নুঝা এলাকা, তাইফের ওয়াদি জালিল এবং রাবিগের একটি জনবসতিহীন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হওয়ায় এসব এলাকাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, সেগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য কী ছিল এবং প্রতিহত করার প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মক্কা মদিনাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সামনে আসার পর তা সরাসরি অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কথা জানালেও হুতিরা পবিত্র নগরী দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের উৎস ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির পশ্চিমাঞ্চলের চার প্রদেশে নিরাপত্তা সতর্কতা
ক্ষপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর প্রকাশের আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। এসব এলাকার মধ্যে মক্কা অঞ্চলও রয়েছে। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সতর্কতা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য বিপদের ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারির বিষয়টি সাম্প্রতিক উত্তেজনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে দেশটির তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি তেল পরিবহন পাইপলাইন এবং একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তাই হুতিদের এসব দাবিকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলার দাবি সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের পুরোনো প্রেক্ষাপট
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তবে সেই যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনের সংঘাতের সব দিকের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ছাড়াও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, পাইপলাইন, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে ঘিরে হামলার দাবি সামনে আসায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে হামলার দাবির সত্যতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা কতটা সচল রয়েছে তার ওপর। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সৌদি দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিষয়ে হুতিদের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হলেও ঘটনার সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন তথ্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/আরআইকে