খুঁজুন
                               
, ,
           

টেলিটকের নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
টেলিটকের নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর নেটওয়ার্কের পরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে সরকার।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের উত্তরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এই সংসদ সদস্য জানতে চান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক-এর নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে এবং বেসরকারি অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে রাখতে কোনো বিশেষ বরাদ্দ বা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি কিনা?

জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সারাদেশে টেলিটকের উন্নত নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। তবুও বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করছে। ধীরে ধীরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে টেলিটকের মোট ৩,৫১১ কোটি টাকার ৩টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ৭,৭৫৪ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্পের প্রস্তাব সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ হয়েছিল ৯৮৩ কোটি টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ হয়েছিল ৯৮৩ কোটি টাকা!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের জন্য প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে খরচের এ হিসাব তুলে ধরেন তিনি।

এদিন সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, সরকারি অফিসসমূহে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সরকারের মোট কত টাকা খরচ হয়েছে এবং এই বিপুল খরচের বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা, মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী তার জবাবের সঙ্গে এ সংক্রান্ত ‘মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী’র একটি কপিও সংযুক্ত করে সংসদে পেশ করেন।

কালের আলো/এসএকে

ভারী বৃষ্টিতে কয়েক অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে কয়েক অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার (১২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানা যায়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ ও ভারতের ত্রিপুরায় এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে কোনো লঘুচাপ নেই।

পূর্বাভাসে বলা হয়, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি এবং সুরমা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুর অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় এবং সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়ে শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।

ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে থাকায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী

টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। ভোগান্তি সঙ্গী করেই কেউ হাঁটেন, কেউ রিকশায়, আবার কেউ বাস থেকে পানিতে নেমে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। জলাবদ্ধতায় ধীর হয় যান চলাচল, ব্যাহত হয় নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।নজিরবিহীন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সড়কে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট।

প্রায় পুরো ঢাকা শহর প্রায় পানিতে তলিয়ে যায়। ধানমন্ডি, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, মতিঝিল, খিলগাঁও, বনানী, খিলক্ষেত, মিরপুর ১০ নম্বর, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ফলে ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি ও মোড়ে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় ফুটপাতও পানির নিচে চলে যাওয়ায় পথচারীদের সড়ক দিয়েই চলাচল করতে দেখা যায়।

বৃষ্টির মধ্যেই সকালে বাইরে হওয়া মানুষকে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে ছাতা থাকলেও তাতে খুব একটা স্বস্তি মিলেনি।

ছাতা দিয়ে মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ রক্ষা করা গেলেও জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে ভিজে যায় প্যান্ট, জুতা ও কাপড়। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।

সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের অনেকেই গাড়ির ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শেওড়াপাড়া শাখা-৩, এর সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে যায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ জানান। পরে কর্তৃপক্ষ শেওড়াপাড়া শাখা তিন এর সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকাল ছয়টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভাগেও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, পটুয়াখালীতে ১৩২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৯৮ মিলিমিটার, ফরিদপুর ১০১ মিলিমিটার, আরিচায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টি হলেই পরিবহন চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায় এক স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রিকশা ও সিএনজি চালকরা। প্রতিনিয়তই তাদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা চোখে পড়ে। বৃষ্টি হলে তা যেন আরও বেড়ে যায়। এই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। মিরপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘মিরপুর ২ নম্বর মসজিদ মার্কেট থেকে ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আজকে চাচ্ছে ১০০ টাকা। অবাক হয়ে যাই আমি রিকশাওয়ালাদের কারবার দেখলে। বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক আছে, তাদের যেমন সমস্যা আমাদেরও তেমন সমস্যা। তাই বলে ভাড়া চাওয়ার কোনও মাত্রা থাকবে না! তারা যা ইচ্ছা তাই চাইছে। এই বৃষ্টি-বাদলের দিনে অফিস যেতে এভাবেই অনেক খরচ বেড়ে যায়। যদি সম্ভব হতো তাহলে বেরই হতাম না।’

বৃষ্টিতে শুরু হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে কেবল যাত্রীরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের চালকরাও। অটোরিকশা চালক মো. মজিদ বলেন, ‘রিকশা নিয়ে বের হয়েছি সকালে। ভাবলাম আজকে বৃষ্টি আছে, কিছু টাকা বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু পানিতে ডুবে রিকশাই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যাচ্ছি মেকারের কাছে। আজকে সারাদিনের টাকাটাই মাইর গেল।’

কালের আলো/এম/এএইচ