বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী
টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। ভোগান্তি সঙ্গী করেই কেউ হাঁটেন, কেউ রিকশায়, আবার কেউ বাস থেকে পানিতে নেমে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। জলাবদ্ধতায় ধীর হয় যান চলাচল, ব্যাহত হয় নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।নজিরবিহীন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সড়কে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট।
প্রায় পুরো ঢাকা শহর প্রায় পানিতে তলিয়ে যায়। ধানমন্ডি, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, মতিঝিল, খিলগাঁও, বনানী, খিলক্ষেত, মিরপুর ১০ নম্বর, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ফলে ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি ও মোড়ে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় ফুটপাতও পানির নিচে চলে যাওয়ায় পথচারীদের সড়ক দিয়েই চলাচল করতে দেখা যায়।
বৃষ্টির মধ্যেই সকালে বাইরে হওয়া মানুষকে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে ছাতা থাকলেও তাতে খুব একটা স্বস্তি মিলেনি।
ছাতা দিয়ে মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ রক্ষা করা গেলেও জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে ভিজে যায় প্যান্ট, জুতা ও কাপড়। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের অনেকেই গাড়ির ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শেওড়াপাড়া শাখা-৩, এর সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ জানান। পরে কর্তৃপক্ষ শেওড়াপাড়া শাখা তিন এর সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকাল ছয়টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভাগেও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, পটুয়াখালীতে ১৩২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৯৮ মিলিমিটার, ফরিদপুর ১০১ মিলিমিটার, আরিচায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টি হলেই পরিবহন চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায় এক স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রিকশা ও সিএনজি চালকরা। প্রতিনিয়তই তাদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা চোখে পড়ে। বৃষ্টি হলে তা যেন আরও বেড়ে যায়। এই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। মিরপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘মিরপুর ২ নম্বর মসজিদ মার্কেট থেকে ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আজকে চাচ্ছে ১০০ টাকা। অবাক হয়ে যাই আমি রিকশাওয়ালাদের কারবার দেখলে। বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক আছে, তাদের যেমন সমস্যা আমাদেরও তেমন সমস্যা। তাই বলে ভাড়া চাওয়ার কোনও মাত্রা থাকবে না! তারা যা ইচ্ছা তাই চাইছে। এই বৃষ্টি-বাদলের দিনে অফিস যেতে এভাবেই অনেক খরচ বেড়ে যায়। যদি সম্ভব হতো তাহলে বেরই হতাম না।’
বৃষ্টিতে শুরু হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে কেবল যাত্রীরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের চালকরাও। অটোরিকশা চালক মো. মজিদ বলেন, ‘রিকশা নিয়ে বের হয়েছি সকালে। ভাবলাম আজকে বৃষ্টি আছে, কিছু টাকা বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু পানিতে ডুবে রিকশাই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যাচ্ছি মেকারের কাছে। আজকে সারাদিনের টাকাটাই মাইর গেল।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array