ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার সংগঠনের মামলা
ফিলিস্তিন ইস্যুতে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির দুই মানবাধিকার সংগঠন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মার্কিন নাগরিকদের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলাটি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডেমোক্রেসি ইন দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাও (ডন) এবং নিউইয়র্কভিত্তিক ট্যাক্সপেয়ার অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট জেনোসাইড।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে জারি করা নিষেধাজ্ঞার কারণে ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা মার্কিন নাগরিকদের পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানবাধিকার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।
ডনের নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করে লাখো মার্কিন নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
৪৩ পৃষ্ঠার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় সংঘটিত ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জমা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল। পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিনি এনজিও এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের সঙ্গেও কাজ করেছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, এসব কার্যক্রম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে মার্কিন নাগরিকরা ফৌজদারি মামলা ও জরিমানার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। এর পরপরই এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের পরিচালক ব্র্যাড স্মিথকে বিবাদী করা হয়েছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং ভবিষ্যতে ভিন্নমত দমনে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
কালের আলো/এসএ




আপনার মতামত লিখুন
Array