মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব
রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বের ভার। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিন রাতে এক বার্তায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। আইএসপিআর জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
বিশাল কর্মময় জীবনে দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও আদর্শবাদিতা ও কর্তব্যপরায়ণতায় অটল-অনড় থেকে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের পহেলা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে (বিএন) যোগদান করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে নৌ-কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করার পর এক্সিকিউটিভ শাখায় কৃতিত্বের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
- বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
- আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন
- বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৫ মাস বয়সী সরকারের সময়ে এই প্রথম দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কোন বাহিনী প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করে আগামী ২৩ জুলাই স্বাভাবিকভাবেই অবসরে যাচ্ছেন। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছর তিনি নেতৃত্ব দিবেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন আলোকিত এক অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হচ্ছে রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর। দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছিলেন চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার। নৌবাহিনীতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত সাবমেরিন কমান্ডারেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনএস শাহ আমানত, বিএনএস সৈকত, বিএনএস নির্ভয়, বিএনএস এস আর আমিন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বিএনএস ওমর ফারুক (এফ-১৬) এর মতো বিভিন্ন নৌ-জাহাজ এবং বিএনএস তিতুমীর নৌ-ঘাঁটির কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন তিনি নৌ-সদর দপ্তরে ডিরেক্টর অফ নেভাল অপারেশনস (ডিএনও), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) স্টাফ অফিসার ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে ডিরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও।
বিরল সম্মানের অধিকারী হিসেবে একই সঙ্গে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পুরস্কার’ এবং মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) থেকে ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণা পত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তিনি আইএনএস ভেন্ডুরুথি থেকে ‘অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ)-এ বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেখানেও তিনি ‘সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার’ পেয়েছেন।
শিক্ষাজীবনেও খোন্দকার আজীম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে সমসাময়িক সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা (মেরিটাইম গভর্নেন্স) বিষয়ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও ‘ডিফেন্স স্টাডিজ’-এ স্নাতকোত্তর (এমডিএস); ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ এমএসসি; এবং চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রতিটি ডিগ্রিতেই তিনি প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। শিক্ষাজীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে লাভ করেন ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’।

আন্তর্জাতিক অঙ্গণে নতুন নৌবাহিনী প্রধান আজিম লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)-এর ‘মেরিটাইম টাস্ক ফোর্স’-এ এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের মিশন (মনুক)-এ সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক কোর্স, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন ও বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে অসাধারণ সেবার জন্য শান্তিকালীন সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি); কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘নৌদক্ষতা পদক’ (এনপিপি); সর্বোচ্চ নৈতিক আচরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’; এবং স্কাউট আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (সিলভার হিলসা মেডেল) অর্জন করেছেন। তিনি তিনবার নৌ-বাহিনী প্রধানের প্রশংসা পত্র লাভ করেছেন। তিনি বহু প্রবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। বাংলা, ইংরেজি ও মালয় ভাষায় পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ভাষাতেও তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিম মিসেস নুরতাজ আজিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁর স্ত্রী মিসেস নুরতাজ আজিম ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সমিতির ঢাকা ও চট্টগ্রাম-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এই আলোকিত দম্পতির দুই কন্যার মধ্যে নুযাবাহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (এলএসই)-এ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। অপর কন্যা মেহতাজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ওয়ালা ওয়ালা-তে অবস্থিত হুইটম্যান কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array