খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে তাগিদ তৈরি হয়েছিল, তার ওপর ভর করে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশবাসী আশা করেছিল, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর সেই নতুন অধ্যায়ের মূল কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি যখন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল এক দৃঢ় অঙ্গীকার “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।

লক্ষ জনতার অভূতপূর্ব অভ্যর্থনার জবাবে তিনি উপহার দিয়েছিলেন এক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথ নকশা। আজ সরকার গঠনের চার-পাঁচ মাস পার হওয়ার পর যদি পুরো দৃশ্যপট পর্যালোচিত হয়, তবে দুটি বিপরীতমুখী স্রোত পরিলক্ষিত হয়: একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সততা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব; অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা।

বিগত ৫৬ বছরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের শাসনামলটুকু বাদ দিলে সরকারপ্রধানদের জীবনযাত্রা, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সিদ্ধান্তের মধ্যে এমন আমূল পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপে গভীর দেশপ্রেম ও পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় তকমা ও অহেতুক আড়ম্বর ত্যাগ করে অত্যন্ত সাদামাটা পোশাক ও যাপনচিত্র বেছে নিয়েছেন। ভিআইপি সংস্কৃতির নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি খরচে লাগাম টেনে ধরে যে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

প্রতিপক্ষের সমালোচনা সহ্য করার বিরল উদারতা তিনি দেখাচ্ছেন। কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতের প্রতি তাঁর আচরণ অত্যন্ত শৃঙ্খলিত ও গণতান্ত্রিক।

সাধারণ মানুষ আজ তাঁর মাঝে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন, তারেক রহমানও তাঁর নির্দেশিত পথেই আধুনিক ও সময়োপযোগী এক নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়ন করছেন।

তাঁর এই সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং সততা প্রতিটি দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি যোগাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষগুলো তাঁর নেতৃত্বের মাঝে নতুন আশার আলো দেখছে।

দেশ পুনর্গঠনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত সমর্থন ও গতি পাচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে বা ত্রুটি খুঁজবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

দীর্ঘদিনের লালিত অপসংস্কৃতি, তোষামোদি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে ঐতিহ্য দেশে তৈরি হয়েছিল, সেই চক্রটি তারেক রহমানের বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনের মডেলকে মেনে নিতে পারছে না। কারণ, দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি,দখল,ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি আলোচনা বৈঠকে কুমিল্লার এসপি মহোদয়ের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে এক বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তিনি খোলাখুলিই বলেন, “আমি আপনার আগে ছাত্রদল করে এসেছি। আপনারা কাউকে পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বা জামায়াত বলে আখ্যা দেন।” এটি কেবল কোনো একক জেলার চিত্র নয়; সারাদেশের সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে আজ এই একই প্রবণতা দৃশ্যমান।

একদল সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ও দলীয় প্রভাবশালী নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

এমনকি যেসব কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে সরাসরি ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন—কলেজ উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে কর্মজীবনে যারা সৎ, পেশাদার ও পরহেজগার  হিসেবে চাকরিজীবন পার করেছেন—তাদেরকেও দুর্নীতির বাধা মনে করে হেনস্তা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য ও কুৎসা রটিয়ে নীতিবান কর্মকর্তাদের দূরে সরিয়ে রেখে পুরো সিস্টেমে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করাই এই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য। তবে আশা জাগানিয়া বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয় আমলে নিচ্ছেন না।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি চট্টগ্রামে সংঘটিত দুটি আলোচিত চাঁদাবাজির ঘটনায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেখা গেছে:

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্ল্যাকমেইল করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে কোটি টাকার চেক লিখে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তদের রেহাই দেওয়া হয়নি।

অন্য একটি ইন্টারনেট কোম্পানির অফিসে ঢুকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও তাণ্ডব চালানোর মূলহোতাদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের মতো অপরাধীরা যখন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, পুলিশ তাদের ধরে আইনের আওতায় এনেছে। বিএনপি সমর্থিত কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় না দেওয়ার এই বার্তা প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়তে কোনো গলদ নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যে কোনো বিচারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

এখানে দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই যে,সমসাময়িক রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মত এতটা পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিবিদ খুব বেশি আছে বলে আমার জানা নেই।

“চার-পাঁচ মাসে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে। ভালো পরিকল্পনা আগের মতোই আটকে দিচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন এক নির্মম সত্যের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ, অন্যদিকে এটি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর সংকটের ইঙ্গিত বলেই মনে হচ্ছে।

এই জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এবং তোষামোদকারী চক্রকে রুখে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো অনুসরণের পরামর্শ:

প্রধানমন্ত্রী এমন একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারেন যে, কোনো কর্মকর্তা বা নেতার নামে যদি তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক তথ্য দেওয়া হয় এবং তদন্তে তা ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়, তবে তথ্য প্রদানকারীকে একটি ‘মাইনাস পয়েন্ট’ দেওয়া হবে।

কোনো ব্যক্তি—তিনি প্রধানমন্ত্রীর যত নিকটবর্তীই হোন না কেন—যদি পরপর দুই বা তিনবার সরকারকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রদান করেন, তবে তাকে অবিলম্বে সরকারের সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করতে হবে। এই কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে অশুভ গ্রুপিং, লবিং এবং মিথ্যার ওপর ভর করে সুবিধা নেওয়ার রাজনীতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মতো একটি ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও যদি মানুষের জীবনমানের মৌলিক উন্নতি না হয়, তবে তা দেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক। চব্বিশের তরুণরা রক্ত দিয়েছিল ক্ষমতার হাতবদলের জন্য নয়; তারা রক্ত দিয়েছিল ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য। তারেক রহমান তাঁর সততা, পোশাক, মেধা ও দূরদর্শিতা দিয়ে নিজের পরিবর্তন প্রমাণ করেছেন। কিন্তু একটি দেশ কেবল এক একক ব্যক্তির পরিশ্রমে বদলাতে পারে না। দলের ভেতর থাকা তথাকথিত নেতাদের বুঝতে হবে, পুরোনো ভোগবাদী ও তোষামোদের রাজনীতি বজায় রাখলে তা কেবল দলকেই নয়, পুরো দেশকেই অতলে ডুবিয়ে দেবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বীকারোক্তিকে আক্ষেপ হিসেবে না দেখে, একে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে এখনই দল ও প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তবেই জুলাই শহীদদের স্বপ্ন সার্থক হবে এবং তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, সৎ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে একটি নতুন ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ

ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।

এর ফলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি