খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বছর আগের পরিস্থিতির স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানকালেও শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, সরকারের দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।’

তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম নৃশংস ও অন্ধকার সময়।’

তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা কমাতে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

কূটনৈতিক সাফল্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে যে হারিয়ে যেতে বসেছিল, তা আবার পুনর্দখল করছে।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তিই হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ আর কখনো অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়ের কথা উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এই ‘অসম্ভব মিশন’ জয় করা সম্ভব হয়েছে। এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।

তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণরা ভয়াবহ এক দানবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন ভালোবাসা, মেধা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাহবুব আলী খান স্মরণে দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
মাহবুব আলী খান স্মরণে দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও ইসলামী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাদ মাগরিব মরহুমের ধানমন্ডির ‘মাহবুব ভবনে’ তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শহীদ মাহবুব আলী খানের কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, শহীদ মাহবুব আলী খানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তনয়া ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ মরহুমের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন এই মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া, দোয়া মাহফিল ও ইসলামী আলোচনায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সামরিক- বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মরহুমের পরিবারের সদস্যগণ ও আত্মীয়-স্বজনরা অংশ নেন এতে।

এ সময় শহীদ রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদগণ।

পরে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেও মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শশুর। সকালে বনানী সামরিক কবরাস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরে নৌ বাহিনীসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মরুহমের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ১৯৭৯ সালে মাহবুব আলী খান নৌ বাহিনীর দায়িত্ব পান। পরে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট মাহবুব আলী খান মারা যান। তাকে বনানী সামরিক কবরাস্থানে সমাহিত করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন দই মিষ্টি ও ঘি বিক্রেতাকে জরিমানা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন দই মিষ্টি ও ঘি বিক্রেতাকে জরিমানা

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই ‘সুইটমিট (মিষ্টি)’ এবং নবায়ন ব্যতিরেকে ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই) ও ঘি’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় এবং পণ্যের

উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্য সম্বলিত লেবেল না থাকায় নগরীর ভদ্রা মোড় সংলগ্ন আরাফাত মিষ্টি প্রতিষ্ঠানটিকে ২০,০০০/- (বিশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুরুল আবছার সবুজ এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের 

ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটিকে কড়া এক বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

ভারত সরকার যদি এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ না করে এবং দলটির কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৫ আগস্ট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী একটি দলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতেরই নিতে হবে। তবে, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও বাস্তবতাকে ভারতের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ভারত কী করবে, না করবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টকে ভারতের বুঝতে হবে।

শামা ওবায়েদ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো আড়াল করতে আওয়ামী লীগ পুরোনো সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের তত্ত্ব সামনে আনছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভারত সরকার যদি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সীমিত না করে, তাহলে তা দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে পুনরায় মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির ওপর নির্ভর করবে। তার সিডিউল অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএকে