খুঁজুন
                               
, ,
           

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৮৯ হাজার ৯১৬ ইয়াবা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
নাইক্ষ্যংছড়িতে ৮৯ হাজার ৯১৬ ইয়াবা জব্দ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮৯ হাজার ৯১৬টি বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

বিজিবি জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীনস্থ আশারতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৪৬ থেকে আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জারুলিয়াছড়ি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে বিজিবির বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে চোরাকারবারিদের দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে তারা একটি ব্যাগ ফেলে জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ৮৯ হাজার ৯১৬টি বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির ইয়াবা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার জারির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার জারির নির্দেশ

সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম এবং সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি করেন।

২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর সায়দাবাদে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। তাকে নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দিলেন উচ্চ আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবিলম্বে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে হবে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সংশোধন করে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী  মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকারি লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ভিকটিমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘সালাউদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের প্রয়োজন। তাই এই রায়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে আদালত মত দিয়েছেন।’

এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় স্বাস্থ্য সচিব, আইজিপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিএমডিসি প্রেসিডেন্টসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘চার বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
‘চার বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার’

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট দেশের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এরপর চার বছরে এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যাতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়ে এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি একটি চলমান বা ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা কমানোই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত তথ্য সংশোধন চলবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচিতে কোনো ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করা হবে। একসঙ্গে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বেশিও হতে পারে। চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর।

তিনি জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাইলট প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের খোঁজ নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন থেকে অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, দারিদ্র্য কতটা কমছে এসব বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাও পরিচালনা করা হবে। তবে এ ধরনের গবেষণার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, কারা সুবিধা পাবেন বা পাবেন না সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। এগুলো কোনো গোপন নথি নয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এ কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি তুলে ধরলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে কারও মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

আর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হয়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। বাস্তবায়নের সময় নতুন কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত হলে সেটিও নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কমিটি তথ্য যাচাই করবে। সেখানে আইসিটি ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকবেন। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সমন্বয়ে কমিটি থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পর্যায়েও পৃথক কমিটি রয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি একাধিক ভাতা না পান। একই ব্যক্তি বারবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকারের সব নিয়ম, নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

কালের আলো/এসএকে

বিকেল থেকে গ্যাস সঞ্চালন শুরু, ২-৩ দিনে কাটবে জ্বালানি সংকট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
বিকেল থেকে গ্যাস সঞ্চালন শুরু, ২-৩ দিনে কাটবে জ্বালানি সংকট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) পুনরায় চালুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এটি চালু হলে বিকেল থেকেই গ্যাস সঞ্চালন শুরু হবে। একই সঙ্গে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের করিডোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) পুনরায় চালুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এটি চালু হলে বিকেল থেকেই গ্যাস সঞ্চালন শুরু হবে। এরপর ধীরে ধীরে সঞ্চালন ব্যবস্থায় চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গ্যাস সঞ্চালন পুনরায় শুরু হলে ধীরে ধীরে পাইপলাইনে চাপ (প্রেসার) বাড়বে এবং বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে।

সংকট পুরোপুরি কাটতে কতদিন লাগবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিনিমাম দুই থেকে তিন দিন লাগবে। এরপর আগের মতো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস না থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু করা হবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত এমন কিছু কারণে তৈরি হয়েছে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিল বেশি আসার অভিযোগ করছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার যাচাই করলে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় না।

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন গ্রাহক প্রায় সাত হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ করেছিলেন। পরে তদন্তে দেখা যায়, ওই বাসায় দুটি এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজসহ একাধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতগুলো যন্ত্র ব্যবহার করার পর সাত হাজার টাকা বিল হলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি ছিল নিয়মিত কূটনৈতিক বৈঠক। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ভারত থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আসে। চাহিদা বিবেচনায় ভারতকে আরও বেশি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি