খুঁজুন
                               
, ,
           

‘চার বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
‘চার বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার’

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট দেশের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এরপর চার বছরে এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যাতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়ে এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি একটি চলমান বা ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা কমানোই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত তথ্য সংশোধন চলবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচিতে কোনো ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করা হবে। একসঙ্গে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বেশিও হতে পারে। চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর।

তিনি জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাইলট প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের খোঁজ নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন থেকে অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, দারিদ্র্য কতটা কমছে এসব বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাও পরিচালনা করা হবে। তবে এ ধরনের গবেষণার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, কারা সুবিধা পাবেন বা পাবেন না সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। এগুলো কোনো গোপন নথি নয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এ কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি তুলে ধরলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে কারও মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

আর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হয়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। বাস্তবায়নের সময় নতুন কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত হলে সেটিও নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কমিটি তথ্য যাচাই করবে। সেখানে আইসিটি ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকবেন। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সমন্বয়ে কমিটি থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পর্যায়েও পৃথক কমিটি রয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি একাধিক ভাতা না পান। একই ব্যক্তি বারবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকারের সব নিয়ম, নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

কালের আলো/এসএকে

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের

গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে জোটটি। এ সময় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নগরের লালদিঘী জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান খানের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এলডিপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, লেবার পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে দেশ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ল কেন, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের নামে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল পাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকটের সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অবৈধ মজুতদারি, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে কেউ বাজার অস্থিতিশীল করছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় বার্ষিকী চললেও এখনো শহীদদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে তাদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এসএকে

ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পরিহন বিভাগের মুশফিকুর রহমান তুষারকে চকবাজার জোনে, ট্রাফিক-পল্লবী জোনের তানিয়া সুলতানাকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, প্রকিউরমেন্ট বিভাগের শেখ সুরাইয়া ঊর্মিকে পিওএম-পশ্চিমে, চকবাজার জোনের মো. মাহফুজার রহমানকে বঙ্গভবন-নিরাপত্তা-১, নুসরাত ইয়াছমিন তিসাকে ট্রাফিক-পল্লবী জোনে, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে পেট্রোল-ক্যান্টনমেন্টে এবং মো. সাকিলুর রহমানকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের উত্তর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করার কথা বলা হয়েছে আদেশে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার জারির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার জারির নির্দেশ

সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম এবং সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি করেন।

২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর সায়দাবাদে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। তাকে নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দিলেন উচ্চ আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবিলম্বে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে হবে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সংশোধন করে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী  মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকারি লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ভিকটিমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘সালাউদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের প্রয়োজন। তাই এই রায়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে আদালত মত দিয়েছেন।’

এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় স্বাস্থ্য সচিব, আইজিপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিএমডিসি প্রেসিডেন্টসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ